hadith book logo

মজলিসের সৌরভ

লেখকঃ তুরকী ইবন ইবরাহীম আল-খানীযান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৪

ইসলামের রুকনসমূহ দু্’টি সাক্ষ্য প্রদান করা সাক্ষ্য প্রদান করা যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই।

এ পাঠে আমরা ইসলামের রুকনসমূহ সম্পর্কে আলোচনা করব। আর তা হলো পাঁচটি রুকন যার ওপর ইসলামের দীন দাঁড়িয়ে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

«بُنِيَ الإِسْلَامُ عَلَى خَمْسٍ، شَهَادَةِ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا الله وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ، وَإِقَامِ الصَّلَاةِ، وَإِيتَاءِ الزَّكَاةِ، وَحَجِّ الْبَيْتِ، وَصَوْمِ رَمَضَانَ» [ متفق عليه ].

“ইসলামের ভিত্তি রাখা হয়েছে পাঁচটির ওপর। সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া সত্যিকার কোনো ইলাহ নেই আর মুহাম্মাদ আল্লাহর বান্দা ও রাসূল। সালাত কায়েম করা, যাকাত আদায় করা, বাইতুল্লাহর হজ করা এবং রমযানের সাওম আদায় করা।” [মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)]

সুতরাং প্রথম রুকন হলো দুটি সাক্ষ্য: আল্লাহ ছাড়া সত্যিকার কোনো ইলাহ নেই আর মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল।

এ দুটি সাক্ষ্য হলো ইসলামের চাবি। এ দুটি ছাড়া ইসলামে প্রবেশ করা সম্ভব না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

«أُمِرْتُ أنْ أُقَاتِلَ النَّاسَ حتَّى يَشْهَدُوا أنْ لا إلَهَ إلَّا اللهُ، وأنَّ مُحَمَّدًا رَسولُ اللَّهِ، ويُقِيمُوا الصَّلَاةَ، ويُؤْتُوا الزَّكَاةَ، فَإِذَا فَعَلُوا ذلكَ عَصَمُوا مِنِّي دِمَاءَهُمْ وأَمْوَالَهُمْ إلَّا بحَقِّ الإسْلَامِ، وحِسَابُهُمْ علَى اللَّهِ» [ رواه البخاري ].

“আমাকে লোকেদের বিরুদ্ধে জিহাদ করার আদেশ দেওয়া হয়েছে; যতক্ষণ না তারা সাক্ষ্য দিবে যে, আল্লাহ ছাড়া (সত্য) কোনো উপাস্য নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল। আর তাঁরা সালাত প্রতিষ্ঠা করবে ও যাকাত প্রদান করবে। যখন তারা এ কাজগুলো সম্পাদন করবে, তখন তারা আমার নিকট থেকে তাদের রক্ত (জান) এবং মাল বাঁচিয়ে নেবে; কিন্তু ইসলামের হক ব্যতীত। আর তাদের হিসাব আল্লাহর ওপর ন্যস্ত হবে।” [হাদীসটি বুখারী বর্ণনা করেছেন]।

রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেন,

«مَنْ كَانَ آخِرُ كَلَامِهِ لَا إِلَهَ إِلَّا الله دَخَلَ الْجَنَّةَ» [ رواه أبو داود ].

“যার সর্বশেষ বাক্য হবে “লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ (আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য মাবুদ নেই), সে জান্নতে প্রবেশ করবে।” [হাদীসটি আবূ দাঊদ বর্ণনা করেছেন]।

- ‘লা ইলাহ ইল্লাল্লাহু’ এর অর্থ হলো একজন মানুষ মুখে স্বীকার করবে এবং অন্তরে বিশ্বাস করবে যে আল্লাহ ছাড়া সত্যিকার কোনো ইলাহ নেই। তিনি ছাড়া অন্য সব ইলাহ বাতিল এবং অন্যায়ভাবে তাদের উপাসনা করা হয়।

সুতরাং ‘লা ইলাহ ইল্লাল্লাহু’ - আল্লাহ ছাড়া অন্য কিছুর সত্যিকার ইলাহ হওয়াকে না করে এবং তা একমাত্র এক আল্লাহর জন্য সাব্যস্ত করে।

আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

فمَن يَكْفُرْ بِالطَّاغُوتِ وَيُؤْمِن بِالله فَقَدِ اسْتَمْسَكَ بِالْعُرْوَةِ الْوُثْقىَ [ البقرة : 256]

“অতএব, যে ব্যক্তি তাগূতকে অস্বীকার করে এবং আল্লাহর প্রতি ঈমান আনে, অবশ্যই সে মজবুত রশি আঁকড়ে ধরে, যা ছিন্ন হবার নয়।” [আল-বাকারাহ : ২৫৬]

ইমাম ইবনুল কাইয়্যেম রাহিমাহুল্লাহ বলেন,

‘তাগুত অর্থ হলো, যদ্বারা একজন বান্দা তার সীমাকে লঙ্ঘন করে, চাই তা উপাস্য হোক বা অনুকরণীয় হোক বা অনুসরনীয় হোক।’

ইমাম মুহাম্মাদ ইবন আব্দুল ওয়াহহাব রাহিমাহুল্লাহ বলেন,

‘তাগুত অসংখ্য। আর তাদের নেতা হলো পাঁচজন: অভিশপ্ত ইবলিস, যার সম্মতিতে তার ইবাদত করা হয়, যে মানুষকে তাদের গোলামীর দিকে আহ্বান করে, যে গাইবী ইলমের দাবী করে আর যে আল্লাহর নাযিলকৃত বিধানকে বাদ দিয়ে বিচার ফায়সালা করে।’[ [ইমাম মুহাম্মাদ ইবন আব্দুল ওয়াহহাব রাহিমাহুল্লাহুর ‘ছালাছাতুল উসূলি ওয়া-আদ্দিলাতুহা’]]

রাসূলগণকে প্রেরণ করা দ্বারা মহান উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর তাওহীদ এবং ইবাদাতে তাকে একক সাব্যস্ত করা। আল্লাহ বলেন,

وَلَقَدْ بَعَثْنَا فِي كُلِّ أُمَّةٍ رَّسُولًا أَنِ اعْبُدُوا الله وَاجْتَنِبُوا الطَّاغُوتَ [ النحل : 36].

“আর আমি অবশ্যই প্রত্যেক জাতিতে একজন রাসূল প্রেরণ করেছি যে, তোমরা আল্লাহর এবাদত করো এবং পরিহার কর তাগূতকে।” [আন-নাহল ৩৬]

আল্লাহ আমাদেরকে তার তাওহীদে বিশ্বাসী মুখলিস এবং তার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হিদায়াতের অনুসারী বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত করুন। এতটুকুতে যথেষ্ট করছি। আল্লাহর ইচ্ছায় পরবর্তী দারসে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাসূল সাক্ষ্যের অর্থ সম্পর্কে আলোচনা সম্পন্ন করব।