hadith book logo

মজলিসের সৌরভ

লেখকঃ তুরকী ইবন ইবরাহীম আল-খানীযান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৫৩

হজের বিধানসমূহ

এ দারসে আমরা ইসলামের রুকসমূহ হতে পঞ্চম রুকন হজ সম্পর্কে আলোচনা করব।

- হজ ইসলামের নিদর্শনসমূহের অন্যতম। এতে দৈহিক, আত্মিক ও আর্থিক সব ধরনের ইবাদত একত্রিত হয়।

- এতে বান্দাদের জন্য রয়েছে অসংখ্য উপকার। তন্মধ্যে আল্লাহর তাওহীদের ঘোষণা দেয়া, হাজীদের মাগফিরাত লাভ করা, মুসলিমদের মাঝে ঐক্য ও ভ্রাতৃত্ব তৈরি করা ইত্যাদি ছাড়াও আরো অনেক হিকমত ও উপকার রয়েছে।

- হজের ফযীলত অপরিসীম এবং এর সাওয়াব অনেক। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

«مَنْ حَجَّ لِله فَلَمْ يَرْفُثْ وَلَمْ يَفْسُقْ رَجَعَ كَيَوْمِ وَلَدَتْهُ أُمُّهُ» [ متفق عليه ]

“যে ব্যক্তি হজ পালন করল এবং (তাতে) কোনো অশ্লীল কাজ করল না ও পাপাচার করল না, সে ব্যক্তি ঠিক ঐ দিনকার মত (নিষ্পাপ হয়ে) বাড়ি ফিরবে, যেদিন তার মা তাকে প্রসব করেছিল।” [মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)] অর্থাৎ গুনাহ থেকে মুক্ত, যেন সে নবজাত শিশু।

- জীবনে একবার হজ করা [ [যখন শর্ত পাওয়া যাবে তখন তাড়াতাড়ি হজ করা ফরয। দেরী করার কারণে সে গুনাহগার হবে।]] একজন স্বাধীন প্রাপ্ত বয়স্ক, জ্ঞানসম্পন্ন এবং দৈহিক ও আর্থিকভাবে সক্ষম [ [নারীদের ওপর হজ আদায় করা ফরয হওয়ার জন্য মাহরামের সঙ্গ এবং স্বামীর মৃত্যুর ইদ্দতের মধ্যে না থাকা শর্ত।]] মুসলিমের ওপর ফরয।

আল্লাহ বলেন,

وَلِلَّهِ عَلَى النَّاسِ حِجُّ الْبَيْتِ مَنِ اسْتَطَاعَ إِلَيْهِ سَبِيلًا وَمَن كَفَرَ فَإِنَّ الله غَنِيٌّ عَنِ الْعَالَمِينَ [ آل عمران : 97].

“এবং সামর্থ্যবান মানুষের উপর আল্লাহর জন্য বায়তুল্লাহর হজ্জ করা ফরয। আর যে কুফরী করে, তবে আল্লাহ তো নিশ্চয় সৃষ্টিকুল থেকে অমুখাপেক্ষী।” [আলে ইমরান: ৮]

- যদি মৌলিক প্রয়োজন থেকে অতিরিক্ত মাল না থাকে এবং তাদের দায়িত্ব গ্রহণের কোনো লোক না থাকে তাহলে তার ওপর হজ ফরয হবে না। হজ করার জন্য ঋণ গ্রহণ করা ওয়াজিব নয়।

- যে ব্যক্তি অর্থ দিয়ে হজ করত সক্ষম; কিন্তু শারীরিকভাবে যাওয়ার সক্ষমতা নেই, যেমন, খুব বয়স্ক মানুষ বা স্থায়ীভাবে অসুস্থ মানুষ, তখন সে তার পক্ষ থেকে একজন প্রতিনিধি বানাবে যে তার পক্ষ থেকে হজ করবে। আর সে তার হজের খরচ বহন করবে।

- হজের অনেক শর্ত, রুকন, ওয়াজিব ও নিষিদ্ধ বিষয় রয়েছে, যা ফিকহের কিতাব ও আহলে ইলমদের ফতওয়া থেকে জানা সম্ভবপর।

- হজের মতো উমরা জীবনে একবার করা ওয়াজিব। ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন,

«إِنَّهَا لَقَرِينَتُهَا فِي كِتَابِ الله ( وَأَتِمُّوا الْحَجَّ وَالْعُمْرَةَ لِله )». [ رواه البخاري ].

“এটি (উমরা) আল্লাহর কিতাবে হজের সঙ্গী। “তোমরা আল্লাহর উদ্দেশ্যে হজ ও উমরা পালন করো।” [এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন]

আল্লাহর অনুগ্রহে এ পর্যন্ত আমরা ঈমানের ও ইসলামের রুকনসমূহ জানা শেষ করেছি। আল্লাহর ইচ্ছায় পরবর্তী দারসে আমরা মুসলিমদের নিকট গুরুত্বপূর্ণ কতিপয় বিষয়ে আলোচনা করব। যেমন, ইসলামী আখলাক, লেনদেন, খাওয়া-দাওয়া ও পোশাকের বিধান।