hadith book logo

মজলিসের সৌরভ

লেখকঃ তুরকী ইবন ইবরাহীম আল-খানীযান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৪৮

যাকাতের বিধান (১)

এ দারসে আমরা ইসলামের তৃতীয় রুকন যাকাত সম্পর্কে আলোচনা করব। যাকাত হলো আর্থিক ফরয ইবাদত যা আল্লাহ তা‘আলা ধনী মুসলিমের ওপর ফরয করেছেন, তার সম্পদের পবিত্রতা, তার ফকির মিসকীন ভাই ও যাকাতের অন্যান্য হকদারদের প্রতি সহানুভুতি স্বরূপ।

আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন,

وَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ وَآتُوا الزَّكَاةَ [ البقرة : 43]

আর তোমরা সালাত কায়েম করো এবং যাকাত আদায় করো।” [আল-বাকারাহ : ৪৩]

আল্লাহ তা‘আলা আরও বলেন,

خُذْ مِنْ أَمْوَالِهِمْ صَدَقَةً تُطَهِّرُهُمْ وَتُزَكِّيهِم بِهَا [ التوبة : 103].

তাদের সম্পদ থেকে সাদকা (যাকাত) নাও। এর মাধ্যমে তাদেরকে তুমি পবিত্র ও পরিশুদ্ধ করবে।” [তাওবাহ : ১০৩]

- সে সব খাতে যাকাত ব্যয় করা ওয়াজিব সে সব খাত আল্লাহ তার বাণীতে বলে দিয়েছেন-

إِنَّمَا الصَّدَقَاتُ لِلْفُقَرَاءِ وَالْمَسَاكِينِ وَالْعَامِلِينَ عَلَيْهَا وَالْمُؤَلَّفَةِ قُلُوبُهُمْ وَفِي الرِّقَابِ وَالْغَارِمِينَ وَفِي سَبِيلِ الله وَابْنِ السَّبِيلِ فَرِيضَةً مِّنَ الله وَالله عَلِيمٌ حَكِيمٌ [ التوبة : 60].

“সদকা তো শুধু ফকীর, মিসকীন ও সদকা আদায়ের কাজে নিযুক্ত কর্মচারীদের জন্য, যাদের অন্তর আকৃষ্ট করতে হয় তাদের জন্য, দাসমুক্তিতে, ঋণ ভারাক্রান্তদের জন্য, আল্লাহর পথে ও মুসাফিরদের জন্য। এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত। আর আল্লাহ্ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।” [আত-তাওবাহ : ৬০]

ফকীর: যার কোনো কিছুই নাই বা তার প্রয়োজনের অর্ধেক আছে।

আর মিসকীন হলো যার কাছে প্রয়োজনের অর্ধেক আছে বা বেশি আছে কিন্তু প্রয়োজনের তুলনায় কম।

তার কর্মচারী: দায়িত্বশীলদের পক্ষ থেকে যাদেরকে যাকাত একত্র করা, রক্ষণাবেক্ষণ করা ও বন্টন করার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তাদের পরিশ্রম অনুযায়ী শ্রমের বিনিময় যাকাত থেকে দেয়া হবে।

মুয়াল্লাফাতে কুলুব: কাফেরদের থেকে যাদের ইসলাম গ্রহণ অথবা যাদের অনিষ্ট থেকে বিরত থাকা উদ্দেশ্য বা মুসলিমদের থেকে যাদের সমাজে একটি অবস্থান রয়েছে তাদের অন্তরকে আকৃষ্ট করা ও তাদের ঈমানকে বাড়ানো উদ্দেশ্য।

রিকাব: হলো গোলাম আযাদ করা এবং মুসলিম বন্দীদের মুক্ত করা।

গারেম: যে ব্যক্তি ঋণগ্রস্থ ও আদায় করতে অক্ষম। অথবা তার ঋণ দুইজনের মাঝে সমঝোতার জন্য যদিও সে সক্ষম।

আর আল্লাহর রাস্তা: তারা হলো আল্লাহর রাস্তার মুজাহিদ।

ইবনুস সাবীল: ঐ মুসাফির যে তার রাস্তায় সম্বল হারা হয়ে পড়ছে। তাকে তার শহরে ফিরে আসতে পারে সে পরিমাণ যাকাত দেয়া হবে।

- অন্তর আকৃষ্ট করার উদ্দেশ্য ছাড়া কাফেরকে যাকাত দেয়া যাবে না। আর যার ওপর খরচ করা ওয়াজিব যেমন, স্ত্রী পিতা সন্তান তাদের যাকাত দেয়া যাবে না। বনু হাশেম তারা হলো রাসূলের পরিবার তাদের যাকাত দেয়া যাবে না।

- নিসাব পরিমাণ সম্পদেই যাকাত ওয়াজিব হয়। মানুষ সরাসরি উপকৃত হওয়ার জন্য যে সম্পদের মালিক হয় তাতে যাকাত ওয়াজিব হয় না। যেমন, থাকার ঘর, গাড়ী পোশাক ইত্যাদি। ব্যবসায়ের জন্য না হলে ব্যবহৃত স্বর্ণ ও রৌপ্যের মধ্যে যাকাতের বিষয়ে আলেমগণ একাধিক মত পোষণ করেছেন।

আল্লাহর নিকট প্রার্থনা হলো তিনি যেন আমাদেরকে ঐ সব লোকেদর অন্তর্ভুক্ত করেন যারা পুরোপুরিভাবে যাকাত আদায় করেন। এতটুকুতে যথেষ্ট করছি। আল্লাহর ইচ্ছায় পরবর্তী দারসে যে সব মালের মধ্যে যাকাত ওয়াজিব হয় তার আলোচনা করব।