hadith book logo

মজলিসের সৌরভ

লেখকঃ তুরকী ইবন ইবরাহীম আল-খানীযান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৪৫

জানাযার বিধান (১)

এ দারসে আমরা জানাযার বিধান ও মাসায়েল সম্পর্কে আলোচনা করব:

এ বিষয়ে বিস্তারিত মাসায়েল আলোচনা করার পূর্বে আমাদের ওপর ওয়াজিব হলো এ দিনের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করা যেদিন আমাদের এ দুনিয়ার জীবন শেষ হয়ে যাবে এবং তাতে আমাদের কিয়ামত শুরু হয়ে যাবে। আর তা হলো তাড়াতাড়ি তাওবা করা ও হককে তার পাওনাদারের নিকট পৌছে দেওয়া এবং ইবাদাতের প্রতি মনোযোগী হওয়ার দ্বারা। আল্লাহ তাআলা বলেন,

فَمَنْ كَانَ يَرْجُو لِقَاءَ رَبِّهِ فَلْيَعْمَلْ عَمَلًا صَالِحًا [ الكهف :110]

“যে ব্যক্তি তার রবের সাক্ষাতের আশা করে সে যেন নেক আমল করে।” [আল-কাহাফ : ১১০] বিচক্ষণ জ্ঞানী তো সে ব্যক্তি যে সব সময় এ মুহুর্তটি স্মরণ করে, যে সময়ে তার আমল বন্ধ হয়ে যাবে এবং তারপর আমলের হিসাব শুরু হয়ে যাবে। আল্লাহ সাহায্যকারী।

- যে ব্যক্তি কোনো রোগীকে দেখতে যাবে তার জন্য করণীয় হলো: রোগীর সুস্থতার জন্য দোয়া করা, তার মধ্যে সুভ লক্ষণ ও আল্লাহর প্রতি ভালো ধারণা সৃষ্টি করা। যেমন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কোনো রোগীকে দেখতে যেতেন তখন বলতেন,

«لَا بَأْسَ، طَهُورٌ إِنْ شَاءَ الله» [ رواه البخاري ].

“কোনো দুশ্চিন্তার কারণ নেই, (পীড়াজনিত দুঃখ কষ্টের কারণে গুনাহ থেকে) তুমি পবিত্র হয়ে যাবে। ইনশাআল্লাহ।” [এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন]

- যখন রোগীর মৃত্যুর সময় নিকটবর্তী হওয়ার আলামত দেখা দেয় তখন মুস্তাহাব হলো হিকমত ও সুন্দর নিয়মে তাকে তাওহীদের কালিমা ও জান্নাতের চাবি ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ এর তালকীন দেওয়া ও তা পাঠের প্রতি উদ্ভুদ্ধ করা। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

«لَقِّنُوا مَوْتَاكُمْ لَا إِلَهَ إِلَّا الله» [ رواه مسلم ]

তোমরা তোমাদের মুমূর্ষ ব্যক্তিদের ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ এর তালকীন দাও।” [মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন] যদি বিরক্ত হওয়ার আশঙ্কা করো তবে তোমরা তাকে সরাসরি তালকীন করবে না; বরং তার সামনে বার বার কালিমা শাহাদাত পড়বে। যেমন নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

«مَنْ كَانَ آخِرُ كَلَامِهِ مِنَ الدُّنْيَا لَا إِلَهَ إِلَّا الله دَخَلَ الْجَنَّةَ» [ رواه أبو داود وحسنه الألباني ].

যে ব্যক্তির দুনিয়াতে শেষ কালিমা হবে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ -সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।” এটি আবূ দাউদ বর্ণনা করেছেন এবং আলবানী তা হাসান বলেছেন।

- যখন কোনো মুসিলম মারা যায় তখন মুস্তাহাব হলো তার দুই চোখ বন্ধ করে দেওয়া, তার জন্য রহমাত, মাগফিরাতের দোয়া করা, আর তাকে দ্রুত কবরস্ত করতে প্রস্তুত করা এবং তার পরিবারকে সাহায্য সহযোগিতা করা। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

«أَسْرِعُوا بِالْجَنَازَةِ فَإِنْ تَكُ صَالِحَةً فَخَيْرٌ تُقَدِّمُونَهَا إِلَيْهِ وَإِنْ تَكُ سِوَى ذَلِكَ فَشَرٌّ تَضَعُونَهُ عَنْ رِقَابِكُمْ» [ متفق عليه ].

জানাযাকে দ্রুত নিয়ে যাও, কেননা যদি সে নেককার হয় তবে তোমরা তাকে তার কল্যাণের দিকে দ্রুত পৌঁছে দিবে। আর যদি সে ভিন্ন কিছু হয় তবে তোমরা একটা অকল্যাণ তোমাদের ঘাড় (দায়িত্বভার) থেকে দ্রুত নামিয়ে দিলে।” [মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)]

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জাফর ইবন আবূ তালেবের শাহাদাতের পর বলেছেন,

«اصْنَعُوا لِآلِ جَعْفَرٍ طَعَامًا، فَقَدْ أَتَاهُمْ مَا يَشْغَلُهُمْ» [ رواه أبوداود وحسنه الألباني ].

তোমরা জাফরের পরিবারের জন্য খাওয়ার তৈরি কর। কারণ, তাদের সামনে তাদের ব্যস্ততা এসে পড়েছে।” [বর্ণনায় আবূ দাউদ। আলবানী এটিকে সহীহ বলেছেন]।

আল্লাহর নিকট আমাদের প্রার্থনা তিনি যেন আমাদের আমল ও পরিণতিকে সুন্দর করে দেন এবং তার সঠিক পথের ওপর অটুট রাখেন। এতটুকু আলোচনাতে যথেষ্ট করছি। পরবতী দারসে আমরা মৃতের কাফন দাফন, গোসল করানো এবং তার ওপর জানাযার সালাত সম্পর্কে আলোচনা করবো।