১
মজলিসের সৌরভ
লেখকঃ তুরকী ইবন ইবরাহীম আল-খানীযান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৪৯
যাকাতের বিধান (২)
পূর্ববর্তী দারসে আমরা যাকাতের খাত ও তার কিছু বিধান আলোচনা করেছি। এ দারসে আমরা যে ধরনের সম্পদের মধ্যে যাকাত ওয়াজিব হয় সে সম্পর্কে আলোচনা করব। তা হলো:
১- প্রথম প্রকার হলো নগদ অর্থ: আর তা হলো, স্বর্ণ (যে পরিমাণে যাকাত ওয়াজিব হয় তা হলো ৮৫ গ্রাম); রুপা (তার নিসাব হলো ৫৯৫ গ্রাম); নগদ অর্থ, যেমন, টাকা, রিয়াল, ডলার ইত্যাদি)। (এ গুলোর নিসাব হলো স্বর্ণ ও রুপার মধ্যে যেটির মূল্য কম সে পরিমাণ মূল্য) যখন সম্পদ নিসাব পরিমাণ হবে এবং তার ওপর (একজন মুসলিমের মালিকানায়) বছর পূর্ণ হবে তখন এক দশমাংসের চার ভাগের এক ভাগ যাকাত দিতে হবে। আর তা হলো ২.৫% এর সমান।
- তোমার মালের যাকাতের সহজভাবে হিসাব করার পদ্ধতি: পুরো মালকে চল্লিশ ভাগ করো। তাহলে তোমার জন্য যে পরিমাণ মাল যাকাত দিতে হবে তা বের হয়ে যাবে।
২- দ্বিতীয় প্রকার মাল যাতে যাকাত ওয়াজিব তা হলো চতুষ্পদ জন্তু: তা হলো উট, ছাগল ও গরু। এ গুলোর মধ্যে শর্ত হলো অধিকাংশ বছর তা ছাড়া থাকতে হবে।(আর তা হচ্ছে যেগুলো মাঠে চরে বেড়ায় এবং তার মালিক তাদের খাদ্য দেয় না।) আর যে গুলো রাখা হয় দুধ ও প্রজননের জন্য। চাষাবাদ বা পানি টেনে ওপরে তোলার জন্য রাখা হয়নি। আর উটের মধ্যে তার নিসাব হলো ৫টি, গরুর নিসাব ৩০টি এবং ছাগলের নিসাব ৪০টি। চতুষ্পদ জন্তুর যাকাতের নিসাবের বিস্তারিত আলোচনা বিশুদ্ধ হাদীস সমূহ এবং ফিকাহের কিতাবসমূহে রয়েছে।
৩- তৃতীয় প্রকার সম্পদ যার মধ্যে যাকাত ওয়াজিব: যমীন থেকে উৎপাদিত ফসল, ফলফলাদি ও শস্য। কেবল মাত্র যেগুলো সা ও অন্যান্য ওজনকরা পাত্র দ্বারা মাফা হয় এবং যেগুলো গুদামজাত করে জমা রাখা হয়, তার মধ্যে যাকাত ওয়াজিব হবে। যেমন, গম, খেজুর, কিসমিস ও দানাজাত ফসল। আর যে গুলো গুদামজাত করা যায় না যেমন, তরমুজ, আনার, কলা ইত্যাদি তাতে কোনো যাকাত নাই।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যমীনে উৎপন্ন ফসলের নিসাব স্বীয় বাণীতে বর্ণনা করেছেন-
«وَلَيْسَ فِيمَا دُونَ خَمْسَةِ أَوْسُقٍ مِنَ التَّمْرِ صَدَقَةٌ» [ متفق عليه ]
“পাঁচ ওসকের কম পরিমাণ খেজুরের মধ্যে কোনো যাকাত নেই।” [মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)] ওসাক ( الوسق ) বলা হয় এমন একটি পরিমাপক যা পরিধি (দৈর্ঘ্য ও প্রশস্ত) দ্বারা পরিমাপ করা হয়, ওজন দ্বারা পরিমাপ করা হয় না। এটি তিনশত সা এর সমান হয়। আর তার ওজন ভালো গম দ্বারা ৬১২ গ্রামের সমান হবে।
যমীন থেকে উৎপাদিত ফসলে যাকাত ওয়াজিব হবে ফসল পাকার সময়। আর তা হলো যখন ফসলের দানা শক্ত হয় এবং ফলের উপযুক্ত হওয়া প্রকাশ পায়। কারণ, আল্লাহ বলেন,
وَآتُوا حَقَّهُ يَوْمَ حَصَادِهِ [ الأنعام : 141].
“তোমরা ফসল কাঁটার দিন তার হক আদায় করো।” [আল-আনআম ১৪১]
যে সব ভূমিতে কোনো প্রকার খরচ ছাড়া সেচ করা হয় তার যাকাতের পরিমাণ হলো দশ ভাগের এক ভাগ। যেমন, বৃষ্টির পানি, নদীর পানি বা প্রবাহিত পানি দ্বারা সেচ হওয়া। আর যে সব ভূমিতে খরচ করে সেচ দেওয়া হয়, যেমন যন্ত্রের সাহায্যে সেচ দেওয়া এবং পাম্পের সাহায্যে সেচ দেওয়া তাতে বিশভাগের একভাগ যাকাত দিতে হয়।
৪- চতুর্থ প্রকার যাতে যাকাত ওয়াজিব হয় তা হলো ব্যবসায়িক পণ্য। অর্থাৎ যেগুলোকে লাভের উদ্দেশ্যে বেচা-কেনার জন্যে প্রস্তুত রাখা হয়। তখন তার মুল্য নগদ অর্থের সাথে মিলানো হবে। তারপর সবগুলোর চল্লিশভাগের এক ভাগ যাকাত দেয়া হবে।[ [এখানে আরও অনেক প্রকার যাকাতের মাল আছে তা হলো খনিজ সম্পদ এবং জাহিলয়্যাতের যুগের দাফনকৃত সম্পদ। এর যাকাত সম্পর্কে আহলে ইলমদেরকে জিজ্ঞাসা করে নিতে হবে।]]
হে আল্লাহ আপনি আমাদেরকে তাকওয়া দান করেন। আর আমাদের আত্মাকে পবিত্র করেন। আপনিই উত্তম পবিত্রতা দানকারী। আপনি তার নিয়ন্ত্রক ও অভিভাবক। এতটুকু আলোচনাতে যথেষ্ট করছি। আল্লাহর ইচ্ছায় পরবর্তী দারসে আমরা সাদকাতুল ফিতর সম্পর্কে আলোচনা করব।
১- প্রথম প্রকার হলো নগদ অর্থ: আর তা হলো, স্বর্ণ (যে পরিমাণে যাকাত ওয়াজিব হয় তা হলো ৮৫ গ্রাম); রুপা (তার নিসাব হলো ৫৯৫ গ্রাম); নগদ অর্থ, যেমন, টাকা, রিয়াল, ডলার ইত্যাদি)। (এ গুলোর নিসাব হলো স্বর্ণ ও রুপার মধ্যে যেটির মূল্য কম সে পরিমাণ মূল্য) যখন সম্পদ নিসাব পরিমাণ হবে এবং তার ওপর (একজন মুসলিমের মালিকানায়) বছর পূর্ণ হবে তখন এক দশমাংসের চার ভাগের এক ভাগ যাকাত দিতে হবে। আর তা হলো ২.৫% এর সমান।
- তোমার মালের যাকাতের সহজভাবে হিসাব করার পদ্ধতি: পুরো মালকে চল্লিশ ভাগ করো। তাহলে তোমার জন্য যে পরিমাণ মাল যাকাত দিতে হবে তা বের হয়ে যাবে।
২- দ্বিতীয় প্রকার মাল যাতে যাকাত ওয়াজিব তা হলো চতুষ্পদ জন্তু: তা হলো উট, ছাগল ও গরু। এ গুলোর মধ্যে শর্ত হলো অধিকাংশ বছর তা ছাড়া থাকতে হবে।(আর তা হচ্ছে যেগুলো মাঠে চরে বেড়ায় এবং তার মালিক তাদের খাদ্য দেয় না।) আর যে গুলো রাখা হয় দুধ ও প্রজননের জন্য। চাষাবাদ বা পানি টেনে ওপরে তোলার জন্য রাখা হয়নি। আর উটের মধ্যে তার নিসাব হলো ৫টি, গরুর নিসাব ৩০টি এবং ছাগলের নিসাব ৪০টি। চতুষ্পদ জন্তুর যাকাতের নিসাবের বিস্তারিত আলোচনা বিশুদ্ধ হাদীস সমূহ এবং ফিকাহের কিতাবসমূহে রয়েছে।
৩- তৃতীয় প্রকার সম্পদ যার মধ্যে যাকাত ওয়াজিব: যমীন থেকে উৎপাদিত ফসল, ফলফলাদি ও শস্য। কেবল মাত্র যেগুলো সা ও অন্যান্য ওজনকরা পাত্র দ্বারা মাফা হয় এবং যেগুলো গুদামজাত করে জমা রাখা হয়, তার মধ্যে যাকাত ওয়াজিব হবে। যেমন, গম, খেজুর, কিসমিস ও দানাজাত ফসল। আর যে গুলো গুদামজাত করা যায় না যেমন, তরমুজ, আনার, কলা ইত্যাদি তাতে কোনো যাকাত নাই।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যমীনে উৎপন্ন ফসলের নিসাব স্বীয় বাণীতে বর্ণনা করেছেন-
«وَلَيْسَ فِيمَا دُونَ خَمْسَةِ أَوْسُقٍ مِنَ التَّمْرِ صَدَقَةٌ» [ متفق عليه ]
“পাঁচ ওসকের কম পরিমাণ খেজুরের মধ্যে কোনো যাকাত নেই।” [মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)] ওসাক ( الوسق ) বলা হয় এমন একটি পরিমাপক যা পরিধি (দৈর্ঘ্য ও প্রশস্ত) দ্বারা পরিমাপ করা হয়, ওজন দ্বারা পরিমাপ করা হয় না। এটি তিনশত সা এর সমান হয়। আর তার ওজন ভালো গম দ্বারা ৬১২ গ্রামের সমান হবে।
যমীন থেকে উৎপাদিত ফসলে যাকাত ওয়াজিব হবে ফসল পাকার সময়। আর তা হলো যখন ফসলের দানা শক্ত হয় এবং ফলের উপযুক্ত হওয়া প্রকাশ পায়। কারণ, আল্লাহ বলেন,
وَآتُوا حَقَّهُ يَوْمَ حَصَادِهِ [ الأنعام : 141].
“তোমরা ফসল কাঁটার দিন তার হক আদায় করো।” [আল-আনআম ১৪১]
যে সব ভূমিতে কোনো প্রকার খরচ ছাড়া সেচ করা হয় তার যাকাতের পরিমাণ হলো দশ ভাগের এক ভাগ। যেমন, বৃষ্টির পানি, নদীর পানি বা প্রবাহিত পানি দ্বারা সেচ হওয়া। আর যে সব ভূমিতে খরচ করে সেচ দেওয়া হয়, যেমন যন্ত্রের সাহায্যে সেচ দেওয়া এবং পাম্পের সাহায্যে সেচ দেওয়া তাতে বিশভাগের একভাগ যাকাত দিতে হয়।
৪- চতুর্থ প্রকার যাতে যাকাত ওয়াজিব হয় তা হলো ব্যবসায়িক পণ্য। অর্থাৎ যেগুলোকে লাভের উদ্দেশ্যে বেচা-কেনার জন্যে প্রস্তুত রাখা হয়। তখন তার মুল্য নগদ অর্থের সাথে মিলানো হবে। তারপর সবগুলোর চল্লিশভাগের এক ভাগ যাকাত দেয়া হবে।[ [এখানে আরও অনেক প্রকার যাকাতের মাল আছে তা হলো খনিজ সম্পদ এবং জাহিলয়্যাতের যুগের দাফনকৃত সম্পদ। এর যাকাত সম্পর্কে আহলে ইলমদেরকে জিজ্ঞাসা করে নিতে হবে।]]
হে আল্লাহ আপনি আমাদেরকে তাকওয়া দান করেন। আর আমাদের আত্মাকে পবিত্র করেন। আপনিই উত্তম পবিত্রতা দানকারী। আপনি তার নিয়ন্ত্রক ও অভিভাবক। এতটুকু আলোচনাতে যথেষ্ট করছি। আল্লাহর ইচ্ছায় পরবর্তী দারসে আমরা সাদকাতুল ফিতর সম্পর্কে আলোচনা করব।