১
মজলিসের সৌরভ
লেখকঃ তুরকী ইবন ইবরাহীম আল-খানীযান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৩
ঈমানের রুকনসমূহ প্রবেশদ্বার
আল্লাহর ইচ্ছায় আমরা সামনের পাঠে এমন কতক ধারাবাহিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করব যা প্রতিটি মুসলিমের ঈমান, ইবাদাত এবং মুআমালাতের ক্ষেত্রে খুব গুরুত্বপূর্ণ। আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যে, তিনি আমাদেরকে তার দ্বারা উপকৃত করুন।
এ পাঠে আমরা এমন একটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করব যেটিকে আল্লাহ আমল কবুল হওয়ার এবং জান্নাতে প্রবেশ করার শর্ত নির্ধারণ করেছেন। আর সেটি হলো ঈমান। যেমন, আল্লাহ বলেন.
وَمَنْ أَرَادَ الْآخِرَةَ وَسَعَىٰ لَهَا سَعْيَهَا وَهُوَ مُؤْمِنٌ فَأُولَٰئِكَ كَانَ سَعْيُهُم مَّشْكُورًا [ الإسراء : 19].
“আর যে আখিরাত চায় এবং তার জন্য যথাযথ চেষ্টা করে মুমিন অবস্থায়, তাদের চেষ্টা হবে পুরস্কারযোগ্য।” [আল-ইসরা : ১৯]
ঈমান হলো, মুখে বলা, অন্তরে বিশ্বাস করা এবং অঙ্গ প্রত্যঙ্গ দ্বারা আমল করা। আনুগত্যের কারণে ঈমান বৃদ্ধি পায় আর গুনাহের কারণে তা হ্রাস পায়। মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যে, তিনি আমাদের ঈমানকে বাড়িয়ে দিন এবং আমাদের অন্তরে তা নবায়ন করুন।
হাদীসে জিবরীল আলাইহিস সালামে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈমানের রুকনসমূহ বর্ণনা করেছেন। যেমন তিনি বললেন, আমাকে ঈমান সম্পর্কে সংবাদ দিন।
উত্তরে তিনি বললেন,
«أَنْ تُؤْمِنَ بِاللهِ، وَمَلَائِكَتِهِ، وَكُتُبِهِ، وَرُسُلِهِ، وَالْيَوْمِ الْآخِرِ، وَتُؤْمِنَ بِالْقَدَرِ خَيْرِهِ وَشَرِّهِ» [ رواه مسلم ].
“তুমি আল্লাহর প্রতি, তাঁর মালায়েকা, কিতাবসমূহ, রাসূলগণ, আখেরাত দিবস ও তাকদীরের ভালো-মন্দের প্রতি ঈমান আনবে।” [হাদীসটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন]
এটি স্পষ্ট হওয়ার পর তোমার নিকট ঈমানের কিছু ফল এবং তার উত্তম প্রভাব তুলে ধরা হলো যেগুলো তোমার ঈমান কামেল হওয়া অনুযায়ী তোমার মধ্যে বাস্তবায়ন ঘটবে-
- তার মধ্যে একটি হলো দুনিয়া ও আখিরাতে হায়াতে তাইয়্যেবা (পবিত্র জীবন) লাভ করা। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
مَنْ عَمِلَ صَالِحًا مِّن ذَكَرٍ أَوْ أُنثَىٰ وَهُوَ مُؤْمِنٌ فَلَنُحْيِيَنَّهُ حَيَاةً طَيِّبَةً وَلَنَجْزِيَنَّهُمْ أَجْرَهُم بِأَحْسَنِ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ [ النحل : 97]
“মুমিন হয়ে পুরুষ ও নারীর মধ্যে যে কেউ সৎকাজ করবে, অবশ্যই আমরা তাকে পবিত্র জীবন দান করব। আর অবশ্যই আমরা তাদেরকে তারা যা করত তার তুলনায় শ্রেষ্ঠ প্রতিদান দেব।” [আন-নাহাল : ৯৭]
- আরেকটি হলো, নিরাপত্তা ও হিদায়াত লাভ। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
الَّذِينَ آمَنُوا وَلَمْ يَلْبِسُوا إِيمَانَهُمْ بِظُلْمٍ أُولَئِكَ لَهُمُ الْأَمْنُ وَهُمْ مُهْتَدُونَ [ الأنعام : 82].
“যারা ঈমান এনেছে এবং তাদের ঈমানকে যুলুম (শির্ক) দ্বারা কলুষিত করেনি, নিরাপত্তা তাদেরই জন্য এবং তারাই হেদায়েতপ্রাপ্ত।” [আল-আন‘আম : ৮২]
- আরেকটি হলো অন্তরের দৃঢ়তা। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
يُثَبِّتُ الله الَّذِينَ آمَنُوا بِالْقَوْلِ الثَّابِتِ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَفِي الْآخِرَةِ [ إبراهيم : 27].
“আল্লাহ অবিচল রাখেন ঈমানদারদেরকে সুদৃঢ় বাণী দ্বারা দুনিয়ার জীবনে ও আখিরাতে।” [ইবরাহীম : ২৭]
- আরেকটি হলো: মুমিনের জন্য মালায়েকাদের ক্ষমা প্রার্থনা করা।
আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
الَّذِينَ يَحْمِلُونَ الْعَرْشَ وَمَنْ حَوْلَهُ يُسَبِّحُونَ بِحَمْدِ رَبِّهِمْ وَيُؤْمِنُونَ بِهِ وَيَسْتَغْفِرُونَ لِلَّذِينَ آمَنُوا [ غافر : 7].
“যারা আরশকে ধারণ করে এবং যারা এর চারপাশে রয়েছে, তারা তাদের রবের প্রশংসাসহ তাসবীহ পাঠ করে এবং তাঁর প্রতি ঈমান রাখে। আর মুমিনদের জন্য ক্ষমা চায়।” [গাফের (মু‘মিন) : ৭]
- আরেকটি হলো মুমিনের ওপর শয়তানের প্রভাব বিস্তার লাভ না করা। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
إِنَّهُ لَيْسَ لَهُ سُلْطَانٌ عَلَى الَّذِينَ آمَنُوا وَعَلَى رَبِّهِمْ يَتَوَكَّلُونَ [ النحل : 99].
“নিশ্চয় যারা ঈমান আনে ও তাদের রবেরই উপর নির্ভর করে তাদের উপর তার কোনো আধিপত্য নেই।” [আন-নাহাল : ৯৯]
- আরেকটি হলো আল্লাহ কর্তৃক মুমিনদের পক্ষে প্রতিহত করা। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
إِنَّ الله يُدَافِعُ عَنِ الَّذِينَ آَمَنُوا [ الحج : 38].
“নিশ্চয় যারা ঈমান আনে আল্লাহ তাদের পক্ষে প্রতিহত করেন।” [আল-হাজ : ৩৮]
এতটুকুতে যথেষ্ট করছি। আল্লাহর ইচ্ছায় আগামী দারসে ঈমানের রুকনসমূহ হতে প্রথম রুকন সম্পর্কে আলোচনা করব, আর তা হচ্ছে ‘আল্লাহ তা‘আলার প্রতি ঈমান।
এ পাঠে আমরা এমন একটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করব যেটিকে আল্লাহ আমল কবুল হওয়ার এবং জান্নাতে প্রবেশ করার শর্ত নির্ধারণ করেছেন। আর সেটি হলো ঈমান। যেমন, আল্লাহ বলেন.
وَمَنْ أَرَادَ الْآخِرَةَ وَسَعَىٰ لَهَا سَعْيَهَا وَهُوَ مُؤْمِنٌ فَأُولَٰئِكَ كَانَ سَعْيُهُم مَّشْكُورًا [ الإسراء : 19].
“আর যে আখিরাত চায় এবং তার জন্য যথাযথ চেষ্টা করে মুমিন অবস্থায়, তাদের চেষ্টা হবে পুরস্কারযোগ্য।” [আল-ইসরা : ১৯]
ঈমান হলো, মুখে বলা, অন্তরে বিশ্বাস করা এবং অঙ্গ প্রত্যঙ্গ দ্বারা আমল করা। আনুগত্যের কারণে ঈমান বৃদ্ধি পায় আর গুনাহের কারণে তা হ্রাস পায়। মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যে, তিনি আমাদের ঈমানকে বাড়িয়ে দিন এবং আমাদের অন্তরে তা নবায়ন করুন।
হাদীসে জিবরীল আলাইহিস সালামে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈমানের রুকনসমূহ বর্ণনা করেছেন। যেমন তিনি বললেন, আমাকে ঈমান সম্পর্কে সংবাদ দিন।
উত্তরে তিনি বললেন,
«أَنْ تُؤْمِنَ بِاللهِ، وَمَلَائِكَتِهِ، وَكُتُبِهِ، وَرُسُلِهِ، وَالْيَوْمِ الْآخِرِ، وَتُؤْمِنَ بِالْقَدَرِ خَيْرِهِ وَشَرِّهِ» [ رواه مسلم ].
“তুমি আল্লাহর প্রতি, তাঁর মালায়েকা, কিতাবসমূহ, রাসূলগণ, আখেরাত দিবস ও তাকদীরের ভালো-মন্দের প্রতি ঈমান আনবে।” [হাদীসটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন]
এটি স্পষ্ট হওয়ার পর তোমার নিকট ঈমানের কিছু ফল এবং তার উত্তম প্রভাব তুলে ধরা হলো যেগুলো তোমার ঈমান কামেল হওয়া অনুযায়ী তোমার মধ্যে বাস্তবায়ন ঘটবে-
- তার মধ্যে একটি হলো দুনিয়া ও আখিরাতে হায়াতে তাইয়্যেবা (পবিত্র জীবন) লাভ করা। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
مَنْ عَمِلَ صَالِحًا مِّن ذَكَرٍ أَوْ أُنثَىٰ وَهُوَ مُؤْمِنٌ فَلَنُحْيِيَنَّهُ حَيَاةً طَيِّبَةً وَلَنَجْزِيَنَّهُمْ أَجْرَهُم بِأَحْسَنِ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ [ النحل : 97]
“মুমিন হয়ে পুরুষ ও নারীর মধ্যে যে কেউ সৎকাজ করবে, অবশ্যই আমরা তাকে পবিত্র জীবন দান করব। আর অবশ্যই আমরা তাদেরকে তারা যা করত তার তুলনায় শ্রেষ্ঠ প্রতিদান দেব।” [আন-নাহাল : ৯৭]
- আরেকটি হলো, নিরাপত্তা ও হিদায়াত লাভ। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
الَّذِينَ آمَنُوا وَلَمْ يَلْبِسُوا إِيمَانَهُمْ بِظُلْمٍ أُولَئِكَ لَهُمُ الْأَمْنُ وَهُمْ مُهْتَدُونَ [ الأنعام : 82].
“যারা ঈমান এনেছে এবং তাদের ঈমানকে যুলুম (শির্ক) দ্বারা কলুষিত করেনি, নিরাপত্তা তাদেরই জন্য এবং তারাই হেদায়েতপ্রাপ্ত।” [আল-আন‘আম : ৮২]
- আরেকটি হলো অন্তরের দৃঢ়তা। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
يُثَبِّتُ الله الَّذِينَ آمَنُوا بِالْقَوْلِ الثَّابِتِ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَفِي الْآخِرَةِ [ إبراهيم : 27].
“আল্লাহ অবিচল রাখেন ঈমানদারদেরকে সুদৃঢ় বাণী দ্বারা দুনিয়ার জীবনে ও আখিরাতে।” [ইবরাহীম : ২৭]
- আরেকটি হলো: মুমিনের জন্য মালায়েকাদের ক্ষমা প্রার্থনা করা।
আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
الَّذِينَ يَحْمِلُونَ الْعَرْشَ وَمَنْ حَوْلَهُ يُسَبِّحُونَ بِحَمْدِ رَبِّهِمْ وَيُؤْمِنُونَ بِهِ وَيَسْتَغْفِرُونَ لِلَّذِينَ آمَنُوا [ غافر : 7].
“যারা আরশকে ধারণ করে এবং যারা এর চারপাশে রয়েছে, তারা তাদের রবের প্রশংসাসহ তাসবীহ পাঠ করে এবং তাঁর প্রতি ঈমান রাখে। আর মুমিনদের জন্য ক্ষমা চায়।” [গাফের (মু‘মিন) : ৭]
- আরেকটি হলো মুমিনের ওপর শয়তানের প্রভাব বিস্তার লাভ না করা। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
إِنَّهُ لَيْسَ لَهُ سُلْطَانٌ عَلَى الَّذِينَ آمَنُوا وَعَلَى رَبِّهِمْ يَتَوَكَّلُونَ [ النحل : 99].
“নিশ্চয় যারা ঈমান আনে ও তাদের রবেরই উপর নির্ভর করে তাদের উপর তার কোনো আধিপত্য নেই।” [আন-নাহাল : ৯৯]
- আরেকটি হলো আল্লাহ কর্তৃক মুমিনদের পক্ষে প্রতিহত করা। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
إِنَّ الله يُدَافِعُ عَنِ الَّذِينَ آَمَنُوا [ الحج : 38].
“নিশ্চয় যারা ঈমান আনে আল্লাহ তাদের পক্ষে প্রতিহত করেন।” [আল-হাজ : ৩৮]
এতটুকুতে যথেষ্ট করছি। আল্লাহর ইচ্ছায় আগামী দারসে ঈমানের রুকনসমূহ হতে প্রথম রুকন সম্পর্কে আলোচনা করব, আর তা হচ্ছে ‘আল্লাহ তা‘আলার প্রতি ঈমান।