১
মজলিসের সৌরভ
লেখকঃ তুরকী ইবন ইবরাহীম আল-খানীযান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৬
ছোট শির্ক
বিভিন্ন প্রকার শির্ক সম্পর্কে আমরা আমাদের আলোচনা অব্যাহত রাখব। আর এই পাঠে আমরা শির্কের বিভিন্ন প্রকার থেকে দ্বিতীয় প্রকার অর্থাৎ ছোট শির্ক সম্পর্কে আলোচনা করব।
- ছোট শির্ক দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, বড় শির্কের দিকে ধাবিত করে এমন সব মাধ্যম ও অসীলা-উপকরণ যেগুলো থেকে শরীয়ত নিষেধ করেছে এবং কুরআন ও হাদীসে যেগুলোকে শির্ক বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
«إِنَّ أَخْوَفَ مَا أَخَافُ عَلَيْكُمُ الشِّرْكَ الأَصْغَرَ» قالوا : وما الشرك الأصغر يا رسول الله؟ قال : الرِّيَاءُ، يَقُولُ الله لَهُمْ يَوْمَ يُجَازِي الْعِبَادَ بِأَعْمَالِهِمُ : اذْهَبُوا إِلَى الَّذِينَ كُنْتُم تُرَاءُونَ فِي الدُّنْيَا، فَانْظُرُوا هَلْ تَجِدُونَ عِنْدَهُمْ جَزَاءً» [ رواه الإمام أحمد وصححه الألباني ].
“আমি তোমাদের ওপর যে বিষয়ে সবচেয়ে বেশী ভয় করি তা হচ্ছে ছোট শির্ক।” সাহাবীগণ বললেন, ছোট শির্ক কি হে আল্লাহর রাসূল!, তিনি বলেন: রিয়া (লোক দেখানো)। যে দিন আল্লাহ বান্দাদের তাদের আমল অনুযায়ী বিনিময় দিবেন সেদিন বলবেন, তোমরা তাদের কাছে যাও দুনিয়াতে যাদের তোমরা তোমাদের আমল দেখাতে, দেখ তাদের নিকট কোনো বিনিময় পাও কিনা।” [ইমাম আহমাদ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন আর আলবানী তা সহীহ সাব্যস্ত করেছেন]
রিয়া হলো মানুষকে দেখানো ও তাদের প্রসংশা লাভের উদ্দেশ্যে বাহ্যিকভাবে ইবাদতকে সুন্দর করা বা তা প্রকাশ করা অথবা তার সম্পর্কে সংবাদ দেয়া।
আর যেসব বিষয় শির্কে আসগরের অন্তর্ভুক্ত হয় তা নিম্নরূপ:
১। কোনো বস্তুতে বিশ্বাস করা যে, তা উপকার লাভ বা ক্ষতি প্রতিহত করার উপকরণ, অথচ আল্লাহ তাকে উপকরণ বানাননি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
«إنَّ الرُّقَى وَالتَّمَائِمَ وَالتِّوَلَةَ شِرْكٌ» [ رواه أبو داود وصححه الألباني ]
“নিশ্চয় মন্ত্র, তাবীজ, গিটযুক্ত মন্ত্রের সূতা হলো শির্কের অন্তর্ভুক্ত।” [এটি আবূ দাউদ বর্ণনা করেছেন আর আলবানী তা সহীহ বলেছেন]
হাদীসে বর্ণিত রুকা ( الرُّقى ) দ্বারা উদ্দেশ্য: সে-সব ঝাঁড় ফুক যার অর্থ বুঝা যায় না অথবা সে-সব ঝাঁড় ফুক যা আল্লাহর সাথে শির্ক করাকে শামিল করে।
তাবীজ ( التمائم ): বদ নজর ইত্যাদি প্রতিহত করার জন্য যে সব বস্তু মানুষ বা জীব-জন্তু বা মালিকানা বস্তুতে ঝুলানো হয়।[ [এটিকে তামীমাহ (তাবীয) বলে নামকরণ করা হয়েছে, কারণ তাদের বিশ্বাস যে, এটি তাদের কর্ম তামাম (সম্পন্ন) করে এবং এর দ্বারা তারা নিরাপদ থাকে।]]
আর তিওয়ালা ( التِّوَلة ) দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, এক প্রকার জাদু : তারা ধারনা করে যে, এটি স্ত্রীকে স্বামীর কাছে ও স্বামীকে স্ত্রীর কাছে প্রিয় করে দেয়।
২। শব্দের মধ্যে শির্ক: যেমন, গাইরুল্লাহর নামে শপথ করা এবং কোনো ব্যক্তির বলা যে, আল্লাহ যা চান আর তুমি যা চাও। যদি আল্লাহ ও অমুক না হত ইত্যাদি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
«مَنْ حَلَفَ بِغَيْرِ اللَّهِ فَقَدْ كَفَرَ أَوْ أَشْرَكَ» [ رواه الترمذي، وصححه الألباني ].
“যে ব্যক্তি গাইরুল্লাহর নামে শপথ করল, সে কুফুরী অথবা শির্ক করল।” [হাদীসটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন আর আলবানী তা সহীহ বলেছেন]।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
«لا تَقُولُوا : مَا شَاءَ الله وَشَاءَ فُلانٌ وَلَكِنْ قُولُوا : مَا شَاءَ الله ثُمَّ شَاءَ فُلانٌ» [ رواه أبوداود والنسائي وصححه الألباني ].
“তোমরা বলো না যে, আল্লাহ যা চান এবং অমুক লোক যা চায়। বরং তোমরা বলো, আল্লাহ যা চান, অতঃপর অমুক যা চায়।” [হাদীসটি আবূ দাউদ ও নাসাঈ বর্ণনা করেছেন আর আলবানী তা সহীহ বলেছেন]।
আল্লাহ আমাদেরকে ইখলাস ও সুন্দর আমলের তাওফীক দান করুন। আর কম ও বেশি সব ধরবের রিয়া (লৌকিকতা) থেকে হিফাজত করুন।
এতটুকুতে যথেষ্ট করছি। পরবর্তী দারসে আল্লাহর ইচ্ছায় ঈমানের রুকনসমূহ থেকে দ্বিতীয় রুকন অর্থাৎ ‘মালায়েকাদের প্রতি ঈমান আনা’ বিষয়ে আলোচনা করব।
- ছোট শির্ক দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, বড় শির্কের দিকে ধাবিত করে এমন সব মাধ্যম ও অসীলা-উপকরণ যেগুলো থেকে শরীয়ত নিষেধ করেছে এবং কুরআন ও হাদীসে যেগুলোকে শির্ক বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
«إِنَّ أَخْوَفَ مَا أَخَافُ عَلَيْكُمُ الشِّرْكَ الأَصْغَرَ» قالوا : وما الشرك الأصغر يا رسول الله؟ قال : الرِّيَاءُ، يَقُولُ الله لَهُمْ يَوْمَ يُجَازِي الْعِبَادَ بِأَعْمَالِهِمُ : اذْهَبُوا إِلَى الَّذِينَ كُنْتُم تُرَاءُونَ فِي الدُّنْيَا، فَانْظُرُوا هَلْ تَجِدُونَ عِنْدَهُمْ جَزَاءً» [ رواه الإمام أحمد وصححه الألباني ].
“আমি তোমাদের ওপর যে বিষয়ে সবচেয়ে বেশী ভয় করি তা হচ্ছে ছোট শির্ক।” সাহাবীগণ বললেন, ছোট শির্ক কি হে আল্লাহর রাসূল!, তিনি বলেন: রিয়া (লোক দেখানো)। যে দিন আল্লাহ বান্দাদের তাদের আমল অনুযায়ী বিনিময় দিবেন সেদিন বলবেন, তোমরা তাদের কাছে যাও দুনিয়াতে যাদের তোমরা তোমাদের আমল দেখাতে, দেখ তাদের নিকট কোনো বিনিময় পাও কিনা।” [ইমাম আহমাদ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন আর আলবানী তা সহীহ সাব্যস্ত করেছেন]
রিয়া হলো মানুষকে দেখানো ও তাদের প্রসংশা লাভের উদ্দেশ্যে বাহ্যিকভাবে ইবাদতকে সুন্দর করা বা তা প্রকাশ করা অথবা তার সম্পর্কে সংবাদ দেয়া।
আর যেসব বিষয় শির্কে আসগরের অন্তর্ভুক্ত হয় তা নিম্নরূপ:
১। কোনো বস্তুতে বিশ্বাস করা যে, তা উপকার লাভ বা ক্ষতি প্রতিহত করার উপকরণ, অথচ আল্লাহ তাকে উপকরণ বানাননি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
«إنَّ الرُّقَى وَالتَّمَائِمَ وَالتِّوَلَةَ شِرْكٌ» [ رواه أبو داود وصححه الألباني ]
“নিশ্চয় মন্ত্র, তাবীজ, গিটযুক্ত মন্ত্রের সূতা হলো শির্কের অন্তর্ভুক্ত।” [এটি আবূ দাউদ বর্ণনা করেছেন আর আলবানী তা সহীহ বলেছেন]
হাদীসে বর্ণিত রুকা ( الرُّقى ) দ্বারা উদ্দেশ্য: সে-সব ঝাঁড় ফুক যার অর্থ বুঝা যায় না অথবা সে-সব ঝাঁড় ফুক যা আল্লাহর সাথে শির্ক করাকে শামিল করে।
তাবীজ ( التمائم ): বদ নজর ইত্যাদি প্রতিহত করার জন্য যে সব বস্তু মানুষ বা জীব-জন্তু বা মালিকানা বস্তুতে ঝুলানো হয়।[ [এটিকে তামীমাহ (তাবীয) বলে নামকরণ করা হয়েছে, কারণ তাদের বিশ্বাস যে, এটি তাদের কর্ম তামাম (সম্পন্ন) করে এবং এর দ্বারা তারা নিরাপদ থাকে।]]
আর তিওয়ালা ( التِّوَلة ) দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, এক প্রকার জাদু : তারা ধারনা করে যে, এটি স্ত্রীকে স্বামীর কাছে ও স্বামীকে স্ত্রীর কাছে প্রিয় করে দেয়।
২। শব্দের মধ্যে শির্ক: যেমন, গাইরুল্লাহর নামে শপথ করা এবং কোনো ব্যক্তির বলা যে, আল্লাহ যা চান আর তুমি যা চাও। যদি আল্লাহ ও অমুক না হত ইত্যাদি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
«مَنْ حَلَفَ بِغَيْرِ اللَّهِ فَقَدْ كَفَرَ أَوْ أَشْرَكَ» [ رواه الترمذي، وصححه الألباني ].
“যে ব্যক্তি গাইরুল্লাহর নামে শপথ করল, সে কুফুরী অথবা শির্ক করল।” [হাদীসটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন আর আলবানী তা সহীহ বলেছেন]।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
«لا تَقُولُوا : مَا شَاءَ الله وَشَاءَ فُلانٌ وَلَكِنْ قُولُوا : مَا شَاءَ الله ثُمَّ شَاءَ فُلانٌ» [ رواه أبوداود والنسائي وصححه الألباني ].
“তোমরা বলো না যে, আল্লাহ যা চান এবং অমুক লোক যা চায়। বরং তোমরা বলো, আল্লাহ যা চান, অতঃপর অমুক যা চায়।” [হাদীসটি আবূ দাউদ ও নাসাঈ বর্ণনা করেছেন আর আলবানী তা সহীহ বলেছেন]।
আল্লাহ আমাদেরকে ইখলাস ও সুন্দর আমলের তাওফীক দান করুন। আর কম ও বেশি সব ধরবের রিয়া (লৌকিকতা) থেকে হিফাজত করুন।
এতটুকুতে যথেষ্ট করছি। পরবর্তী দারসে আল্লাহর ইচ্ছায় ঈমানের রুকনসমূহ থেকে দ্বিতীয় রুকন অর্থাৎ ‘মালায়েকাদের প্রতি ঈমান আনা’ বিষয়ে আলোচনা করব।