১
মজলিসের সৌরভ
লেখকঃ তুরকী ইবন ইবরাহীম আল-খানীযান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১৩
তাকদীরের প্রতি ঈমান আনার ফলাফল
পূর্বের দারসে আমরা তাকদীরের প্রতি ঈমান আনা সম্পর্কে আলোচনা করেছি। আর এটি অন্তর্ভুক্ত করে, প্রতিটি বস্তু সম্পর্কে আল্লাহর পূর্ব জ্ঞান। আল্লাহ এটি লাওহে মাহফুযে লিপিবদ্ধ করেছেন। আর কোনো কিছুই আল্লাহর ইচ্ছা ছাড়া সংঘটিত হয় না। আর আল্লাহ প্রতিটি বস্তুর স্রষ্টা।
এ দারসে আমরা তাকদীরের প্রতি ঈমান আনার ফলাফল সম্পর্কে আলোচনা করব। তন্মধ্যে:
- তাকদীর হলো এ দুনিয়াতে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে আমল করা, চেষ্টা করা ও উদ্যমতা হাসিল করার সবচেয়ে বড় প্রেরণা। একজন মুমিন আল্লাহর ওপর ভরসা করার সঙ্গে উপকরণ গ্রহণ করার ব্যাপারে আদিষ্ট। আর এ কথা বিশ্বাস করা যে, উপকরণ আল্লাহর অনুমতি ছাড়া কোনো ফল দেয় না। কারণ, আল্লাহ নিজেই উপকরণ সৃষ্টি করেন এবং তিনিই নিজেই ফলাফল সৃষ্টি করেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
«احْرِصْ عَلَى مَا يَنْفَعُكَ، وَاسْتَعِنْ بِالله وَلَا تَعْجَزْ، وَإِنْ أَصَابَكَ شَيْءٌ فَلَا تَقُلْ : لَوْ أَنِّي فَعَلْتُ كَانَ كَذَا وَكَذَا، وَلَكِنْ قُلْ : قَدَرُ الله وَمَا شَاءَ فَعَلَ، فَإِنَّ لَوْ تَفْتَحُ عَمَلَ الشَّيْطَانِ» [ رواه مسلم ]
“তোমাকে যা উপকার করবে, তার প্রতি তুমি আগ্রহী হও এবং আল্লাহর সাহায্য গ্রহণ কর, তবে অক্ষম হয়ো না। আর যদি কোনো বিপদ তোমাকে স্পর্শ করে, বলো না: আমি যদি এরূপ করতাম, তাহলে এরূপ ও এরূপ হতো। তবে বলো: আল্লাহই নির্ধারণ করেছেন এবং তিনি যা চেয়েছেন করেছেন। কারণ, «لو» শব্দটি শয়তানের আমলকে উন্মুক্ত করে দেয়।” [মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন]।
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-
«اعْمَلُوا فَكُلٌّ مُيَسَّرٌ لِمَا خُلِقَ لَهُ» [ رواه البخاري ].
“তোমরা কাজ সম্পাদন করতে থাক। কেননা, যাকে যে কাজের উদ্দেশ্যে সৃষ্টি করা হয়েছে তার জন্য সেই কাজকে সহজ করে দেয়া হয়।” [এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন]।
- কদরের প্রতি ঈমানের ফলাফল হলো, একজন মুমিনের ওপর আল্লাহ যখন কোনো নিয়ামত দান করেন তখন সে শুকরিয়া আদায় করে, অহংকার ও দাম্ভিকতা প্রদর্শন করে না, আর আল্লাহ যখন দুনিয়াবি কোনো মুসীবত দ্বারা তাকে পরীক্ষা করেন তখন সে সবর করে, হায় হুতাস করে না ও ভেঙ্গে পড়ে না, যেমন আল্লাহ বলেন,
مَا أَصَابَ مِن مُّصِيبَةٍ فِي الْأَرْضِ وَلَا فِي أَنفُسِكُمْ إِلَّا فِي كِتَابٍ مِّن قَبْلِ أَن نَّبْرَأَهَا إِنَّ ذَٰلِكَ عَلَى الله يَسِيرٌ (22) لِّكَيْلَا تَأْسَوْا عَلَىٰ مَا فَاتَكُمْ وَلَا تَفْرَحُوا بِمَا آتَاكُمْ وَالله لَا يُحِبُّ كُلَّ مُخْتَالٍ فَخُورٍ [ الحديد : 22-23].
“যমীনে বা ব্যক্তিগতভাবে তোমাদের উপর যে বিপর্যয়ই আসে তা সংঘটিত হওয়ার পূর্বেই আমরা তা কিতাবে লিপিবদ্ধ রেখেছি। নিশ্চয় আল্লাহর পক্ষে এটা খুব সহজ।” (২২) এটা এ জন্যে যে, তোমরা যা হারিয়েছ তাতে যেন তোমরা বিমর্ষ না হও এবং যা তিনি তোমাদেরকে দিয়েছেন তার জন্য আনন্দিত না হও। নিশ্চয় আল্লাহ পছন্দ করেন না কোনো উদ্ধত - অহংকারীদেরকে।” [আল-হাদীদ : ২২-২৩]
- তাকদীরের প্রতি ঈমানের আরেকটি ফল হলো: এটি নগ্ন হিংসাকে শেষ করে দেয়। ফলে মানুষকে আল্লাহ যে অনুগ্রহ দান করেছেন তার ওপর একজন মুমিন হিংসা করেন না। কারণ, আল্লাহই তাদের তাওফীক দিয়েছেন এবং তাদের জন্য তা নির্ধারণ করেছেন। আর হিংসুক যখন অপরকে হিংসা করে তখন সে তার এ কর্ম দ্বারা আল্লাহর কাদর ও বন্টনের ওপর আপত্তি আরোপ করে।
- আরেকটি ফল হলো: কাদরের প্রতি ঈমান অন্তরের মধ্যে বিপদ আপদ মোকাবালা করার জন্য সাহস যোগায় এবং তাতে মনোবলকে শক্তিশালী করে। কারণ সে বিশ্বাস করে যে মৃত্যু এবং রিযিক নির্ধারিত। আর একজন মানুষের ভাগ্যে তাই হবে যা তার জন্য লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। যেমন, আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
قُل لَّن يُصِيبَنَا إِلَّا مَا كَتَبَ الله لَنَا هُوَ مَوْلَانَا وَعَلَى الله فَلْيَتَوَكَّلِ الْمُؤْمِنُونَ [ التوبة : 51].
“বলুন, ‘আমাদের জন্য আল্লাহ্ যা লিখেছেন তা ছাড়া আমাদের অন্য কিছু ঘটবে না; তিনি আমাদের অভিভাবক। আর আল্লাহর উপরই মুমিনদের নির্ভর করা উচিত।” [আত-তাওবাহ : ৫]
আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যে, তিনি আমাদের ঈমান ও বিশ্বাসকে বৃদ্ধি করে দিন ও আমাদেরকে তার দিনের ওপর অটুট রাখেন। আর আমাদের শেষ পরিণতি সুন্দর করুন। আল্লাহর ইচ্ছায় পরবর্তী দারসে আমরা ইসলামের রুকনসমূহ সম্পর্কে আলোচনা করব।
এ দারসে আমরা তাকদীরের প্রতি ঈমান আনার ফলাফল সম্পর্কে আলোচনা করব। তন্মধ্যে:
- তাকদীর হলো এ দুনিয়াতে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে আমল করা, চেষ্টা করা ও উদ্যমতা হাসিল করার সবচেয়ে বড় প্রেরণা। একজন মুমিন আল্লাহর ওপর ভরসা করার সঙ্গে উপকরণ গ্রহণ করার ব্যাপারে আদিষ্ট। আর এ কথা বিশ্বাস করা যে, উপকরণ আল্লাহর অনুমতি ছাড়া কোনো ফল দেয় না। কারণ, আল্লাহ নিজেই উপকরণ সৃষ্টি করেন এবং তিনিই নিজেই ফলাফল সৃষ্টি করেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
«احْرِصْ عَلَى مَا يَنْفَعُكَ، وَاسْتَعِنْ بِالله وَلَا تَعْجَزْ، وَإِنْ أَصَابَكَ شَيْءٌ فَلَا تَقُلْ : لَوْ أَنِّي فَعَلْتُ كَانَ كَذَا وَكَذَا، وَلَكِنْ قُلْ : قَدَرُ الله وَمَا شَاءَ فَعَلَ، فَإِنَّ لَوْ تَفْتَحُ عَمَلَ الشَّيْطَانِ» [ رواه مسلم ]
“তোমাকে যা উপকার করবে, তার প্রতি তুমি আগ্রহী হও এবং আল্লাহর সাহায্য গ্রহণ কর, তবে অক্ষম হয়ো না। আর যদি কোনো বিপদ তোমাকে স্পর্শ করে, বলো না: আমি যদি এরূপ করতাম, তাহলে এরূপ ও এরূপ হতো। তবে বলো: আল্লাহই নির্ধারণ করেছেন এবং তিনি যা চেয়েছেন করেছেন। কারণ, «لو» শব্দটি শয়তানের আমলকে উন্মুক্ত করে দেয়।” [মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন]।
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-
«اعْمَلُوا فَكُلٌّ مُيَسَّرٌ لِمَا خُلِقَ لَهُ» [ رواه البخاري ].
“তোমরা কাজ সম্পাদন করতে থাক। কেননা, যাকে যে কাজের উদ্দেশ্যে সৃষ্টি করা হয়েছে তার জন্য সেই কাজকে সহজ করে দেয়া হয়।” [এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন]।
- কদরের প্রতি ঈমানের ফলাফল হলো, একজন মুমিনের ওপর আল্লাহ যখন কোনো নিয়ামত দান করেন তখন সে শুকরিয়া আদায় করে, অহংকার ও দাম্ভিকতা প্রদর্শন করে না, আর আল্লাহ যখন দুনিয়াবি কোনো মুসীবত দ্বারা তাকে পরীক্ষা করেন তখন সে সবর করে, হায় হুতাস করে না ও ভেঙ্গে পড়ে না, যেমন আল্লাহ বলেন,
مَا أَصَابَ مِن مُّصِيبَةٍ فِي الْأَرْضِ وَلَا فِي أَنفُسِكُمْ إِلَّا فِي كِتَابٍ مِّن قَبْلِ أَن نَّبْرَأَهَا إِنَّ ذَٰلِكَ عَلَى الله يَسِيرٌ (22) لِّكَيْلَا تَأْسَوْا عَلَىٰ مَا فَاتَكُمْ وَلَا تَفْرَحُوا بِمَا آتَاكُمْ وَالله لَا يُحِبُّ كُلَّ مُخْتَالٍ فَخُورٍ [ الحديد : 22-23].
“যমীনে বা ব্যক্তিগতভাবে তোমাদের উপর যে বিপর্যয়ই আসে তা সংঘটিত হওয়ার পূর্বেই আমরা তা কিতাবে লিপিবদ্ধ রেখেছি। নিশ্চয় আল্লাহর পক্ষে এটা খুব সহজ।” (২২) এটা এ জন্যে যে, তোমরা যা হারিয়েছ তাতে যেন তোমরা বিমর্ষ না হও এবং যা তিনি তোমাদেরকে দিয়েছেন তার জন্য আনন্দিত না হও। নিশ্চয় আল্লাহ পছন্দ করেন না কোনো উদ্ধত - অহংকারীদেরকে।” [আল-হাদীদ : ২২-২৩]
- তাকদীরের প্রতি ঈমানের আরেকটি ফল হলো: এটি নগ্ন হিংসাকে শেষ করে দেয়। ফলে মানুষকে আল্লাহ যে অনুগ্রহ দান করেছেন তার ওপর একজন মুমিন হিংসা করেন না। কারণ, আল্লাহই তাদের তাওফীক দিয়েছেন এবং তাদের জন্য তা নির্ধারণ করেছেন। আর হিংসুক যখন অপরকে হিংসা করে তখন সে তার এ কর্ম দ্বারা আল্লাহর কাদর ও বন্টনের ওপর আপত্তি আরোপ করে।
- আরেকটি ফল হলো: কাদরের প্রতি ঈমান অন্তরের মধ্যে বিপদ আপদ মোকাবালা করার জন্য সাহস যোগায় এবং তাতে মনোবলকে শক্তিশালী করে। কারণ সে বিশ্বাস করে যে মৃত্যু এবং রিযিক নির্ধারিত। আর একজন মানুষের ভাগ্যে তাই হবে যা তার জন্য লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। যেমন, আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
قُل لَّن يُصِيبَنَا إِلَّا مَا كَتَبَ الله لَنَا هُوَ مَوْلَانَا وَعَلَى الله فَلْيَتَوَكَّلِ الْمُؤْمِنُونَ [ التوبة : 51].
“বলুন, ‘আমাদের জন্য আল্লাহ্ যা লিখেছেন তা ছাড়া আমাদের অন্য কিছু ঘটবে না; তিনি আমাদের অভিভাবক। আর আল্লাহর উপরই মুমিনদের নির্ভর করা উচিত।” [আত-তাওবাহ : ৫]
আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যে, তিনি আমাদের ঈমান ও বিশ্বাসকে বৃদ্ধি করে দিন ও আমাদেরকে তার দিনের ওপর অটুট রাখেন। আর আমাদের শেষ পরিণতি সুন্দর করুন। আল্লাহর ইচ্ছায় পরবর্তী দারসে আমরা ইসলামের রুকনসমূহ সম্পর্কে আলোচনা করব।