১
মজলিসের সৌরভ
লেখকঃ তুরকী ইবন ইবরাহীম আল-খানীযান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৫৮
আর্থিক লেনদেনের বিধান
এ দারসে আমরা মুসলিমদের মাঝে আর্থিক লেনদেনের কিছু বিধান সম্পর্কে আলোচনা করব। মহান আল্লাহ আমাদের যমীনে ভ্রমন করা ও হালাল সম্পদ উপার্জন করার আদেশ দিয়েছেন। কাজেই একজন মুসলিমের ওপর অত্যাবশ্যকীয় হলো আর্থিক লেনদেন বিষয়ে প্রয়োজনীয় জ্ঞানার্জন করা। যাতে সে জ্ঞান ও সুস্পষ্ট দলীলের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকে। এবং যাতে প্রজ্ঞাবান শরী‘আত প্রণেতা যে সব থেকে নিষেধ করেছে তাতে লিপ্ত না হয়।
- আর্থিক লেনদেনের আসল হলো হালাল হওয়া। তবে যেটি হারাম হওয়ার ওপর দলীল রয়েছে সেটি বাদে।
- যে সব লেনদেন ইসলাম হারাম করেছে: সূদ, ঘুষ, জুয়া, প্রতারণা, বেচা কেনায় ধোঁকা দেয়া, যে সব লেনদেনে জুলুম রয়েছে এবং মানুষের সম্পদ অন্যায়ভাবে ভক্ষণ করা। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
يا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا الله وَذَرُوا مَا بَقِيَ مِنَ الرِّبَا إِن كُنتُم مُّؤْمِنِينَ [ البقرة : 278].
“হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন কর এবং সুদের যা বকেয়া আছে তা ছেড়ে দাও যদি তোমরা মুমিন হও।” [আল-বাকারাহ : ২৭৮]
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
«لَا تَحَاسَدُوا، وَلَا تَنَاجَشُوا، وَلَا تَبَاغَضُوا، وَلَا تَدَابَرُوا، وَلَا يَبِعْ بَعْضُكُمْ عَلَى بَيْعِ بَعْضٍ، وَكُونُوا عِبَادَ الله إِخْوَانًا، الْمُسْلِمُ أَخُو الْمُسْلِمِ، لَا يَظْلِمُهُ، وَلَا يَخْذُلُهُ، وَلَا يَكْذِبُهُ، وَلَا يَحْقِرُهُ، التَّقْوَى هَاهُنَا - وَيُشِيرُ إِلَى صَدْرِهِ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ - بِحَسْبِ امْرِئٍ مِنَ الشَّرِّ أَنْ يَحْقِرَ أَخَاهُ المسْلِمَ، كُلُّ المسْلِمِ عَلَى الْمُسْلِمِ حَرَامٌ : دَمُهُ وَمَالُهُ وَعِرْضُهُ» [ رواه مسلم ].
“তোমরা এক অপরের প্রতি হিংসা করো না, কেনাবেচাতে জিনিসের মূল্য বাড়িয়ে এক অপরকে ধোঁকা দিয়ো না [ [নাজাশ হলো যে ব্যক্তির ক্রয় করার ইচ্ছা নেই তার পক্ষ হতে পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয়া।]], একে অপরের প্রতি শত্রুতা রেখো না, একে অপর থেকে (ঘৃণাভরে) মুখ ফিরায়ো না এবং একে অপরের কেনাবেচার উপর কেনাবেচা করো না। আর হে আল্লাহর বান্দারা! তোমরা ভাই-ভাই হয়ে যাও। মুসলিম মুসলিমের ভাই। সে তার প্রতি যুলুম করবে না, তাকে লাঞ্ছিত করবে না, তাকে মিথ্যারোপ করবে না এবং তাকে তুচ্ছ ভাববে না। আর তাকওয়া হচ্ছে এখানে। তিনি নিজ বুকের দিকে ইঙ্গিত করে এ কথা তিনবার বললেন। কোনো মুসলিম ভাইকে তুচ্ছ ভাবা একটি মানুষের মন্দ হওয়ার জন্য যথেষ্ট। প্রত্যেক মুসলিমের রক্ত, মাল এবং তার মর্যাদা অপর মুসলিমের ওপর হারাম।” [বর্ণনায় মুসলিম]
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
«نَهَى رَسُولُ الله صلى الله عليه وسلم عَنْ بَيْعِ الْحَصَاةِ وَعَنْ بَيْعِ الْغَرَرِ» [ رواه مسلم ].
“রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাথরের টুকরা নিক্ষেপের মাধ্যমে ক্রয়-বিক্রয় ও ধোঁকাপূর্ণ ক্রয়-বিক্রয় থেকে নিষেধ করেছেন।”[ [কংকর নিক্ষেপের বেচা-কেনা: এককাধিক বস্তুর ওপর কংকর নিক্ষেপ করবে, যেটির ওপর কংকর পড়বে সেটিই পণ্য। (ধোঁকার বেচা-কেনা): এটি পরিণাম সম্পর্কে অজ্ঞাত একটি ব্যবসা বা যার কাছে এর পরিনতি অস্পষ্ট। যেমন, অধিক পানিতে মাছ বিক্রি করা, বাতাসে পাখি বিক্রি করা, তালাবদ্ধ সিন্দুকের বস্তু বিক্রি করা; অথচ সে জানেনা যে তাতে কি রয়েছে। নির্ধারণ করা ছাড়া বিভিন্ন ধরনের কাপড়ের গাঁট থেকে একটি কাপড় বিক্রি করা আর ফল উপযুক্ত হওয়ার আগে বিক্রি করা।]] [মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন]
- একজন মুসলিমের সাধারণত এবং বিশেষভাবে ব্যবসার ক্ষেত্রে যে গুণটি তার থাকা দরকার তা হলো সততা ও পবিত্রতা। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
«مَنْ غَشَّنَا فَلَيْسَ مِنَّا» [ رواه مسلم ]
“যে ব্যক্তি আমাদের ধোঁকা দেয় সে আমার উম্মাতের অন্তর্ভুক্ত নয়।” [মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন]
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
«الْبَيِّعَانِ بِالْخِيَارِ مَا لَمْ يَتَفَرَّقَا فَإِنْ صَدَقَا وَبَيَّنَا بُورِكَ لَهُمَا فِي بَيْعِهِمَا وَإِنْ كَذَبَا وَكَتَمَا مُحِقَ بَرَكَةُ بَيْعِهِمَا» [ متفق عليه ].
“ক্রেতা ও বিক্রেতার একজন আরেকজন থেকে পৃথক হওয়া পর্যন্ত খিয়ার থাকবে। উভয়ে যদি সত্য কথা বলে এবং দোষ-ত্রুটি বর্ণনা করে দেয় তবে তাদের কেনা-বেচায় বরকত হবে। আর যদি তারা কেনা-বেচার মধ্যে মিথ্যার আশ্রয় নেয় এবং দোষ-ত্রুটি গোপন রাখে তবে তাতে বরকত থাকবে না।” [মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)]
হে আল্রাহ আমরা আপনার কাছে উপকারী ইলম, পবিত্র রিযিক এবং নেক আমল চাই। এত টুকু আলোচনাতে যথেষ্ট করছি। আল্লাহর ইচ্ছায় পরবর্তী দারসে আমরা ইসলামের খাবারের বিধান সম্পর্কে আলোচনা করব।
- আর্থিক লেনদেনের আসল হলো হালাল হওয়া। তবে যেটি হারাম হওয়ার ওপর দলীল রয়েছে সেটি বাদে।
- যে সব লেনদেন ইসলাম হারাম করেছে: সূদ, ঘুষ, জুয়া, প্রতারণা, বেচা কেনায় ধোঁকা দেয়া, যে সব লেনদেনে জুলুম রয়েছে এবং মানুষের সম্পদ অন্যায়ভাবে ভক্ষণ করা। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
يا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا الله وَذَرُوا مَا بَقِيَ مِنَ الرِّبَا إِن كُنتُم مُّؤْمِنِينَ [ البقرة : 278].
“হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন কর এবং সুদের যা বকেয়া আছে তা ছেড়ে দাও যদি তোমরা মুমিন হও।” [আল-বাকারাহ : ২৭৮]
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
«لَا تَحَاسَدُوا، وَلَا تَنَاجَشُوا، وَلَا تَبَاغَضُوا، وَلَا تَدَابَرُوا، وَلَا يَبِعْ بَعْضُكُمْ عَلَى بَيْعِ بَعْضٍ، وَكُونُوا عِبَادَ الله إِخْوَانًا، الْمُسْلِمُ أَخُو الْمُسْلِمِ، لَا يَظْلِمُهُ، وَلَا يَخْذُلُهُ، وَلَا يَكْذِبُهُ، وَلَا يَحْقِرُهُ، التَّقْوَى هَاهُنَا - وَيُشِيرُ إِلَى صَدْرِهِ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ - بِحَسْبِ امْرِئٍ مِنَ الشَّرِّ أَنْ يَحْقِرَ أَخَاهُ المسْلِمَ، كُلُّ المسْلِمِ عَلَى الْمُسْلِمِ حَرَامٌ : دَمُهُ وَمَالُهُ وَعِرْضُهُ» [ رواه مسلم ].
“তোমরা এক অপরের প্রতি হিংসা করো না, কেনাবেচাতে জিনিসের মূল্য বাড়িয়ে এক অপরকে ধোঁকা দিয়ো না [ [নাজাশ হলো যে ব্যক্তির ক্রয় করার ইচ্ছা নেই তার পক্ষ হতে পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয়া।]], একে অপরের প্রতি শত্রুতা রেখো না, একে অপর থেকে (ঘৃণাভরে) মুখ ফিরায়ো না এবং একে অপরের কেনাবেচার উপর কেনাবেচা করো না। আর হে আল্লাহর বান্দারা! তোমরা ভাই-ভাই হয়ে যাও। মুসলিম মুসলিমের ভাই। সে তার প্রতি যুলুম করবে না, তাকে লাঞ্ছিত করবে না, তাকে মিথ্যারোপ করবে না এবং তাকে তুচ্ছ ভাববে না। আর তাকওয়া হচ্ছে এখানে। তিনি নিজ বুকের দিকে ইঙ্গিত করে এ কথা তিনবার বললেন। কোনো মুসলিম ভাইকে তুচ্ছ ভাবা একটি মানুষের মন্দ হওয়ার জন্য যথেষ্ট। প্রত্যেক মুসলিমের রক্ত, মাল এবং তার মর্যাদা অপর মুসলিমের ওপর হারাম।” [বর্ণনায় মুসলিম]
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
«نَهَى رَسُولُ الله صلى الله عليه وسلم عَنْ بَيْعِ الْحَصَاةِ وَعَنْ بَيْعِ الْغَرَرِ» [ رواه مسلم ].
“রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাথরের টুকরা নিক্ষেপের মাধ্যমে ক্রয়-বিক্রয় ও ধোঁকাপূর্ণ ক্রয়-বিক্রয় থেকে নিষেধ করেছেন।”[ [কংকর নিক্ষেপের বেচা-কেনা: এককাধিক বস্তুর ওপর কংকর নিক্ষেপ করবে, যেটির ওপর কংকর পড়বে সেটিই পণ্য। (ধোঁকার বেচা-কেনা): এটি পরিণাম সম্পর্কে অজ্ঞাত একটি ব্যবসা বা যার কাছে এর পরিনতি অস্পষ্ট। যেমন, অধিক পানিতে মাছ বিক্রি করা, বাতাসে পাখি বিক্রি করা, তালাবদ্ধ সিন্দুকের বস্তু বিক্রি করা; অথচ সে জানেনা যে তাতে কি রয়েছে। নির্ধারণ করা ছাড়া বিভিন্ন ধরনের কাপড়ের গাঁট থেকে একটি কাপড় বিক্রি করা আর ফল উপযুক্ত হওয়ার আগে বিক্রি করা।]] [মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন]
- একজন মুসলিমের সাধারণত এবং বিশেষভাবে ব্যবসার ক্ষেত্রে যে গুণটি তার থাকা দরকার তা হলো সততা ও পবিত্রতা। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
«مَنْ غَشَّنَا فَلَيْسَ مِنَّا» [ رواه مسلم ]
“যে ব্যক্তি আমাদের ধোঁকা দেয় সে আমার উম্মাতের অন্তর্ভুক্ত নয়।” [মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন]
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
«الْبَيِّعَانِ بِالْخِيَارِ مَا لَمْ يَتَفَرَّقَا فَإِنْ صَدَقَا وَبَيَّنَا بُورِكَ لَهُمَا فِي بَيْعِهِمَا وَإِنْ كَذَبَا وَكَتَمَا مُحِقَ بَرَكَةُ بَيْعِهِمَا» [ متفق عليه ].
“ক্রেতা ও বিক্রেতার একজন আরেকজন থেকে পৃথক হওয়া পর্যন্ত খিয়ার থাকবে। উভয়ে যদি সত্য কথা বলে এবং দোষ-ত্রুটি বর্ণনা করে দেয় তবে তাদের কেনা-বেচায় বরকত হবে। আর যদি তারা কেনা-বেচার মধ্যে মিথ্যার আশ্রয় নেয় এবং দোষ-ত্রুটি গোপন রাখে তবে তাতে বরকত থাকবে না।” [মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)]
হে আল্রাহ আমরা আপনার কাছে উপকারী ইলম, পবিত্র রিযিক এবং নেক আমল চাই। এত টুকু আলোচনাতে যথেষ্ট করছি। আল্লাহর ইচ্ছায় পরবর্তী দারসে আমরা ইসলামের খাবারের বিধান সম্পর্কে আলোচনা করব।