hadith book logo

মজলিসের সৌরভ

লেখকঃ তুরকী ইবন ইবরাহীম আল-খানীযান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৪৬

জানাযার বিধান (২)

পূর্বের পাঠে আমরা জানাযার কতিপয় বিধান সম্পর্কে আলোচনা করেছি । এ পাঠে আমরা মৃত ব্যক্তির গোসল, কাফন দাফন এবং তার ওপর সালাত সম্পর্কে আলোচনা করবো।

- একজন মুসলিমের মৃত্যুর পর ওয়াজিব হলো তাকে গোসল দেয়া। প্রথমে তার সতর ঢাকবে। তারপর তার দেহ থেকে নাপাকি দূর করবে। তারপর তাকে শরয়ী পদ্ধতিতে ওযূ করাবে। তারপর তাকে পানি ও বরই পাতা দিয়ে তিনবার গোসল দিবে। তারপর ডান দিক থেকে বাম দিকে তার শরীরের ওপর তিনবার পানি প্রবাহিত করবে। যদি আরও লাগে তবে তখন বেজোড় সংখ্যায় আরো বৃদ্ধি করবে। আর সর্বশেষ গোসলে কাফুর লাগাবে। এটি হলো মুস্তাহাব পদ্ধতি। যদি শুধু নাপাকি দূর করে এবং তার দেহের ওপর পানি ঢেলে দেয় তবে তাতেও যথেষ্ট হবে। নারীদেরকে তার মতো একজন নারী বা তার স্বামী গোসল দিবে।

- পুরুষকে তিনটি সাদা চাদরে কাফন দেওয়াবে। আর মৃতের নাক ও সেজদার স্থানসমূহে এবং কাফনে হানূত তথা খুশবু লাগাবে। আর নারীদেরকে লুঙ্গি, চাদর, ওড়না ও দুটি চাদরের মধ্যে কাফন পরিধান করাবে। যতটুকু দ্বারা ওয়াজিব আদায় হয় তা হলো এমন একটি কাপড় যা দ্বারা মৃতের পুরো শরীর ঢেকে যায়।

- তারপর লাশকে তার ওপর জানাযার সালাত পড়ার জন্য পেশ করা হবে। ইমাম পুরুষের মাথা বরাবর এবং নারীদের মাঝখান বরাবর দাঁড়াবে। চারবার তাকবীর বলবে। প্রথম তাকবীরের পর সূরা ফাতিহা আস্তে বলবে। তারপর আবার তাকবীর বলে রাসূলের ওপর সালাত পাঠ করবে। তারপর আবার তাকবীর বলে মৃতের জন্য দোআ করবে, তারপর আবার তাকবীর বলে ডান দিকে একবার সালাম ফিরাবে।

- যদি কারো সালাতের কিছু অংশ ছুটে যায়, তবে ইমামের সালামের পর তা আদায় করবে। যদি আশঙ্ক করে যে, লাশ তুলে ফেলা হবে, তথন সে তাকবীর বলে সালাম ফিরাবে। যদি কারো জানাযার সালাত ছুটে যায় তখন সে দাফন করার পূর্বে একা একা পড়ে নেবে। দাফন করার পরও পড়া জায়েয আছে।

- জানাযার সালাতের ফযীলত সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

«مَن شَهِدَ الجَنازَةَ حتَّى يُصَلَّى عليها فَلَهُ قِيراطٌ، ومَن شَهِدَها حتَّى تُدْفَنَ فَلَهُ قِيراطانِ، قيلَ : وما القِيراطانِ؟ قالَ : مِثْلُ الجَبَلَيْنِ العَظِيمَيْنِ» [ متفق عليه ].

যে ব্যক্তি মৃতের জন্য সালাত আদায় করা পর্যন্ত জানাযায় উপস্থিত থাকবে, তার জন্য এক কীরাত, আর যে ব্যক্তি মৃতের দাফন হয়ে যাওয়া পর্যন্ত উপস্থিত থাকবে তার জন্য দু’ কীরাত। জিজ্ঞেস করা হল দু’ কীরাত কী? তিনি বললেন, দু’টি বিশাল পর্বত সমতুল্য (সাওয়াব)।” [মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)]

রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেছেন,

«مَا مِنْ رَجُلٍ مُسْلِمٍ يَمُوتُ فَيَقُومُ عَلَى جَنَازَتِهِ أَرْبَعُونَ رَجُلًا لَا يُشْرِكُونَ بِالله شَيْئًا إِلَّا شَفَّعَهُمْ الله فِيهِ» [ رواه مسلم ].

“যে কোনো মুসলিম মারা যায় আর তার জানাযায় এমন চল্লিশজন লোক শরীক হয়, যারা আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করে না। নিশ্চয় আল্লাহ তার ব্যাপারে তাদের সুপারিশ কবূল করেন।’’ [বর্ণনায় সহীহ মুসলিম]

হে আল্লাহ! আমাদের শেষ আমলগুলোকে তুমি উত্তম আমল বানাও। আর আমাদের শেষ বয়সকে তুমি উত্তম বয়স বানাও। আর আমাদের দিনসমূহ হতে উত্তম দিন সেদিনটিকে বানাও যেদিন আমরা তোমার সাথে সাক্ষাৎ করবো, যে অবস্থায় তুমি আমাদের ওপর রাজি-খুশি থাকবে। এতটুকুতে যথেষ্ট করছি। পরবর্তী দারসে আমরা এমন কতক ভুল ত্রুটি সম্পর্কে আলোচনা করব যেগুলো একজন মুসলিমের মৃত্যুর পর কোনো কোনো মানুষ করে থাকে।