১
মজলিসের সৌরভ
লেখকঃ তুরকী ইবন ইবরাহীম আল-খানীযান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৩৮
মুসল্লীদের ভুলসমূহ (৫)
কতক মুসল্লির ভুল-ত্রুটি বিষয়ে আমরা আলোচনা অব্যাহত রাখছি।
- সেসব ভুলের আরও হচ্ছে, এতো খাঁটো পোশাক পরিধান করে সালাত আদায় করা, যার কারণে সতরের কিছু অংশ যেমন উরু বা পিঠের নীচ খোলা থাকে। এটি সালাত বিনষ্টকারী। (সালাতে পুরুষের সতর হলো নাভী থেকে হাঁটু পর্যন্ত, আর নারীর জন্য চেহারা ও কব্জি ছাড়া পুরো শরীরই সতর। তবে উত্তম হলো নারীরা কব্জি ঢেকে রাখবে আর যদি পর পুরুষের সামনে হয় তখন নারীরা তাদের পুরো শরীর ঢেকে রাখবে।)
- আরেকটি ভুল: অনেক অসুস্থ ব্যক্তির সক্ষমতা অনুযায়ী সালাত আদায়ের ক্ষেত্রে অলসতা করা। যেমন কোনো রোগী দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করতে সক্ষম তবে সে রুকু পর্যন্ত দাঁড়ানোটা সম্পন্ন করতে সক্ষম নয়, তাহলে তার ওপর ওয়াজিব হলো তার সাধ্য অনুযায়ী দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করবে। যখন ক্লান্ত হবে তখন বসে যাবে। অনুরূপভাবে যে সেজদা আদায় করতে সক্ষম কিন্তু রুকু করতে সক্ষম নয়, তাহলে তার ওপর ওয়াজিব হলো শরয়ী নিয়মে সে সেজদা আদায় করবে। আর রুকু সে বসে আদায় করবে বা সাধ্য মতে আদায় করবে। কারণ, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
«صَلِّ قائمًا، فإن لم تستَطِع فقاعدًا، فإن لم تستَطِعْ فعلى جَنبٍ» [ رواه البخاري ].
“দাঁড়িয়ে সালাত আদায় কর, তা না পারলে বসে; যদি তাও না পার তাহলে কাত হয়ে।” [বর্ণনায় বুখারী]।
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেছেন,
«وَمَا أَمَرْتُكُمْ بِهِ فَأْتُوا مِنْهُ مَا اسْتَطَعْتُمْ» [ متفق عليه ].
“আমি তোমাদের যে আদেশ দিয়ে থাকি তা তোমরা সাধ্য অনুযায়ী পালন করো।” [মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)]
- আরেকটি ভুল হলো, যে কুরআন ভালো পড়ে তাকে ছোট হওয়ার কারণে বা মানুষের মধ্যে তার মুল্যায়ন না থাকার কারণে ইমামতির সুযোগ না দেয়া। অথচ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
«يَؤُمُّ الْقَوْمَ أَقْرَؤُهُمْ لِكِتَابِ اللَّهِ، فَإِنْ كَانُوا فِي الْقِرَاءَةِ سَوَاءً فَأَعْلَمُهُمْ بِالسُّنَّةِ، فَإِنْ كَانُوا فِي السُّنَّةِ سَوَاءً فَأَقْدَمُهُمْ هِجْرَةً، فَإِنْ كَانُوا فِي الْهِجْرَةِ سَوَاءً فَأَقْدَمُهُمْ سِلْمًا» وفي رواية : «فَأَكْبَرُهُمْ سِنًّا ..» [ رواه مسلم ].
“জামাআতের ইমামতি ঐ ব্যক্তি করবে, যে তাদের মধ্যে সবচেয়ে ভাল কুরআন পড়তে জানে। যদি তারা পড়াতে সমান হয়, তাহলে তাদের মধ্যে যে সুন্নাহ (হাদীস) বেশী জানে সে (ইমামতি করবে)। অতঃপর তারা যদি সুন্নাহতে সমান হয়, তাহলে তাদের মধ্যে সর্বাগ্রে হিজরতকারী। যদি হিজরতে সমান হয়, তাহলে তাদের মধ্যে যে‘সর্বাগ্রে ইসলাম গ্রহণ করছে সে (ইমামতি করবে)।” অপর বর্ণনায় এসেছে, “তাহলে তাদের মধ্যে বয়োজ্যেষ্ঠ যে সে (ইমামতি করবে)।” [বর্ণনায় মুসলিম]
- আরেকটি ভুল: কোনো প্রকার ওজর ছাড়া আযানের পরে মসজিদ থেকে বের হওয়া। কারণ, মুসলিম তার সহীহ গ্রন্থে আবূ সা‘ছা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমরা আবূ হুরাইরাহ রাদিয়াল্লাহু আনহুর সাথে মসজিদে বসা ছিলাম। তখন মুয়াজ্জিন আযান দিল। তখন এক লোক দাঁড়িয়ে মসজিদ থেকে চলে যাচ্ছে, আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহ আনহু চোখ ফিরিয়ে দেখলেন লোকটি মসজিদ থেকে বের হয়ে গেছে। তখন আবূ হুরায়রাহ বললেন, “কিন্তু এ লোক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নাফরমানী করেছে।”
এ থেকে বাদ যাবে: যে ব্যক্তি ওযু করার জন্য বা সময়ের মধ্যে প্রশস্ততা রয়েছে বলে আবার ফিরে আসার নিয়তে বের হল। যেমন, কেউ তার পরিবারকে ঘুম থেকে জাগানোর জন্য গেল আবার ফিরে আসবে বলে। অনুরূপভাবে যে ব্যক্তি অপর মসজিদে সালাতের জন্যে বের হল, যদি জানে সেখানে সে জামাত পাবে।
আল্লাহ আমাদেরকে দীনের ইলম ও বুঝ বাড়িয়ে দিন। এতটুকুতে যথেষ্ট করছি। আল্লাহর ইচ্ছায় পরবর্তী দারসে আমরা সেজদা সাহু এবং তৎসংশ্লিষ্ট কিছু মাসায়েল সম্পর্কে আলোচনা করব।
- সেসব ভুলের আরও হচ্ছে, এতো খাঁটো পোশাক পরিধান করে সালাত আদায় করা, যার কারণে সতরের কিছু অংশ যেমন উরু বা পিঠের নীচ খোলা থাকে। এটি সালাত বিনষ্টকারী। (সালাতে পুরুষের সতর হলো নাভী থেকে হাঁটু পর্যন্ত, আর নারীর জন্য চেহারা ও কব্জি ছাড়া পুরো শরীরই সতর। তবে উত্তম হলো নারীরা কব্জি ঢেকে রাখবে আর যদি পর পুরুষের সামনে হয় তখন নারীরা তাদের পুরো শরীর ঢেকে রাখবে।)
- আরেকটি ভুল: অনেক অসুস্থ ব্যক্তির সক্ষমতা অনুযায়ী সালাত আদায়ের ক্ষেত্রে অলসতা করা। যেমন কোনো রোগী দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করতে সক্ষম তবে সে রুকু পর্যন্ত দাঁড়ানোটা সম্পন্ন করতে সক্ষম নয়, তাহলে তার ওপর ওয়াজিব হলো তার সাধ্য অনুযায়ী দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করবে। যখন ক্লান্ত হবে তখন বসে যাবে। অনুরূপভাবে যে সেজদা আদায় করতে সক্ষম কিন্তু রুকু করতে সক্ষম নয়, তাহলে তার ওপর ওয়াজিব হলো শরয়ী নিয়মে সে সেজদা আদায় করবে। আর রুকু সে বসে আদায় করবে বা সাধ্য মতে আদায় করবে। কারণ, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
«صَلِّ قائمًا، فإن لم تستَطِع فقاعدًا، فإن لم تستَطِعْ فعلى جَنبٍ» [ رواه البخاري ].
“দাঁড়িয়ে সালাত আদায় কর, তা না পারলে বসে; যদি তাও না পার তাহলে কাত হয়ে।” [বর্ণনায় বুখারী]।
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেছেন,
«وَمَا أَمَرْتُكُمْ بِهِ فَأْتُوا مِنْهُ مَا اسْتَطَعْتُمْ» [ متفق عليه ].
“আমি তোমাদের যে আদেশ দিয়ে থাকি তা তোমরা সাধ্য অনুযায়ী পালন করো।” [মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)]
- আরেকটি ভুল হলো, যে কুরআন ভালো পড়ে তাকে ছোট হওয়ার কারণে বা মানুষের মধ্যে তার মুল্যায়ন না থাকার কারণে ইমামতির সুযোগ না দেয়া। অথচ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
«يَؤُمُّ الْقَوْمَ أَقْرَؤُهُمْ لِكِتَابِ اللَّهِ، فَإِنْ كَانُوا فِي الْقِرَاءَةِ سَوَاءً فَأَعْلَمُهُمْ بِالسُّنَّةِ، فَإِنْ كَانُوا فِي السُّنَّةِ سَوَاءً فَأَقْدَمُهُمْ هِجْرَةً، فَإِنْ كَانُوا فِي الْهِجْرَةِ سَوَاءً فَأَقْدَمُهُمْ سِلْمًا» وفي رواية : «فَأَكْبَرُهُمْ سِنًّا ..» [ رواه مسلم ].
“জামাআতের ইমামতি ঐ ব্যক্তি করবে, যে তাদের মধ্যে সবচেয়ে ভাল কুরআন পড়তে জানে। যদি তারা পড়াতে সমান হয়, তাহলে তাদের মধ্যে যে সুন্নাহ (হাদীস) বেশী জানে সে (ইমামতি করবে)। অতঃপর তারা যদি সুন্নাহতে সমান হয়, তাহলে তাদের মধ্যে সর্বাগ্রে হিজরতকারী। যদি হিজরতে সমান হয়, তাহলে তাদের মধ্যে যে‘সর্বাগ্রে ইসলাম গ্রহণ করছে সে (ইমামতি করবে)।” অপর বর্ণনায় এসেছে, “তাহলে তাদের মধ্যে বয়োজ্যেষ্ঠ যে সে (ইমামতি করবে)।” [বর্ণনায় মুসলিম]
- আরেকটি ভুল: কোনো প্রকার ওজর ছাড়া আযানের পরে মসজিদ থেকে বের হওয়া। কারণ, মুসলিম তার সহীহ গ্রন্থে আবূ সা‘ছা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমরা আবূ হুরাইরাহ রাদিয়াল্লাহু আনহুর সাথে মসজিদে বসা ছিলাম। তখন মুয়াজ্জিন আযান দিল। তখন এক লোক দাঁড়িয়ে মসজিদ থেকে চলে যাচ্ছে, আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহ আনহু চোখ ফিরিয়ে দেখলেন লোকটি মসজিদ থেকে বের হয়ে গেছে। তখন আবূ হুরায়রাহ বললেন, “কিন্তু এ লোক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নাফরমানী করেছে।”
এ থেকে বাদ যাবে: যে ব্যক্তি ওযু করার জন্য বা সময়ের মধ্যে প্রশস্ততা রয়েছে বলে আবার ফিরে আসার নিয়তে বের হল। যেমন, কেউ তার পরিবারকে ঘুম থেকে জাগানোর জন্য গেল আবার ফিরে আসবে বলে। অনুরূপভাবে যে ব্যক্তি অপর মসজিদে সালাতের জন্যে বের হল, যদি জানে সেখানে সে জামাত পাবে।
আল্লাহ আমাদেরকে দীনের ইলম ও বুঝ বাড়িয়ে দিন। এতটুকুতে যথেষ্ট করছি। আল্লাহর ইচ্ছায় পরবর্তী দারসে আমরা সেজদা সাহু এবং তৎসংশ্লিষ্ট কিছু মাসায়েল সম্পর্কে আলোচনা করব।