১
মজলিসের সৌরভ
লেখকঃ তুরকী ইবন ইবরাহীম আল-খানীযান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৫
সবচেয়ে মহা পাপ যার দ্বারা আল্লাহর নাফরমানী করা হয়
এ পাঠে বড় গুনাহ যার দ্বারা আল্লাহর নাফরমানী করা হয়েছে সে সম্পর্কে আলোচনা করব। আর তা হলো আল্লাহর প্রতি ঈমান ও তাঁর তাওহীদ বিনষ্টকারী শির্ক। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
إِنَّ الشِّرْكَ لَظُلْمٌ عَظِيمٌ [ لقمان :13]
“নিশ্চয় শির্ক হলো মহা অন্যায়।” [লুকমান : ১৩]
আব্দুল্লাহ ইবন মাস‘ঊদ রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করলাম, আল্লাহর নিকট বড় পাপ কোনটি? তিনি বলেলেন,
«أَنْ تَجْعَلَ لِله نِدًّا وَهُوَ خَلَقَكَ» [ متفق عليه ]
“আল্লাহর জন্য শরীক সাব্যস্ত করা; অথচ তিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন।” মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম) আন-নিদ্দ ( النِدّ ) অর্থ হলো, শরীক
শির্ক দুই প্রকার: বড় শির্ক ও ছোট শির্ক
- বড় শির্ক হলো, সবচেয়ে বড় পাপ যা তাওবা করা ব্যতীত কারো জন্যেই আল্লাহ ক্ষমা করবেন না। এটি সব আমল বিনষ্টকারী। যে ব্যক্তি শিরকে আকবারের ওপর মারা যাবে সে জাহান্নামে চিরস্থায়ী হবে। আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি।
আল্লাহ বলেন,
إِنَّ الله لَا يَغْفِرُ أَن يُشْرَكَ بِهِ وَيَغْفِرُ مَا دُونَ ذَٰلِكَ لِمَن يَشَاءُ وَمَن يُشْرِكْ بِالله فَقَدِ افْتَرَىٰ إِثْمًا عَظِيمًا [ النساء : 48]
“নিশ্চয় আল্লাহ তাঁর সাথে শরীক করাকে ক্ষমা করেন না। এছাড়া অন্যান্য অপরাধ যাকে ইচ্ছে ক্ষমা করেন। আর যে-ই আল্লাহর সাথে শরীক করে, সে এক মহাপাপ রটনা করে।” [আন-নিসা : ৪৮]
আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
وَلَقَدْ أُوحِيَ إِلَيْكَ وَإِلَى الَّذِينَ مِن قَبْلِكَ لَئِنْ أَشْرَكْتَ لَيَحْبَطَنَّ عَمَلُكَ وَلَتَكُونَنَّ مِنَ الْخَاسِرِينَ بَلِ الله فَاعْبُدْ وَكُن مِّنَ الشَّاكِرِينَ [ الزمر : 65-66].
“আর আপনার প্রতি ও আপনার পূর্ববর্তীদের প্রতি অবশ্যই ওহী করা হয়েছে যে, 'যদি আপনি শির্ক করেন তবে আপনার সমস্ত আমল তো নিষ্ফল হবে এবং অবশ্যই আপনি হবেন ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত।” [যুমার : ৬৫-৬৬]
বড় শির্কের হাকীকত হলো, মানুষের আল্লাহর রুবূবিয়্যাত বা উলুহিয়্যাত বা নাম ও সিফাতসমূহে কোনো শরীক বা কোনো সমকক্ষ সাব্যস্ত করা।
- শির্ক কখনো প্রকাশ্য হয়, যেমন কোনো ব্যক্তি মূর্তি পুজা করল এবং কবরবাসী ও মূর্তিদের আহ্বান করল।
- আবার কখনো অপ্রকাশ্য হয়, যেমন আল্লাহ ছাড়া বিভিন্ন ইলাহের ওপর ভরসাকারীগণের শির্ক অথবা যেমন মুনাফিকদের কুফর ও শির্ক।
- আবার কখনো শির্ক বিশ্বাসে হয়, যেমন কেউ বিশ্বাস করল যে, এখানে এমন লোক আছে যিনি আল্লাহর সঙ্গে সৃষ্টি করেন, রিযিক দেন এবং গায়েব জানেন। অথবা বিশ্বাস করল যে, গাইরুল্লাহর জন্য ইবাদত সমর্পণ করা বৈধ বা বিশ্বাস করল যে, এখানে এমন কোনো সত্ত্বা রয়েছে আল্লাহর সাথে যার বিনা শর্তে অনুকরণ করা যায় অথবা কোনো মাখলুককে ইবাদাতের ন্যায় মহব্বত করল যেমন আল্লাহকে মহব্বত করে।
- আবার কখনো শির্ক কথায় হয়, যেমন মৃত ও অনুপস্থিত ব্যক্তিদের কাছে দোয়া, আশ্রয় ও সাহায্য চাওয়া।
- আবার শির্ক কখনো কাজে হয়, যেমন গাইরুল্লাহর জন্য জবেহ করা, সালাত আদায় করা বা সেজদা করা। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
قُلْ إِنَّ صَلَاتِي وَنُسُكِي وَمَحْيَايَ وَمَمَاتِي لِله رَبِّ الْعَالَمِينَ لَا شَرِيكَ لَهُ وَبِذَٰلِكَ أُمِرْتُ وَأَنَا أَوَّلُ الْمُسْلِمِينَ [ الأنعام : 162-163].
“বলুন, নিশ্চয় আমার সালাত, কুরবানী, জীবন ও মৃত্যু জগতের রব আল্লাহর জন্য। তার কোনো শরীক নেই। এ বিষয়েই আমাকে আদেশ করা হয়েছে এবং আমিই প্রথম মুসলিম।” [আল-আনআম : ১৬২-১৬৩]
আল্লাহ আমাদেরকে প্রকাশ্য ও গোপন শির্ক থেকে হিফাযত করুন। এতটুকুতে যথেষ্ট করছি। আল্লাহর ইচ্ছায় পরবতী পাঠে আমরা দ্বিতীয় প্রকার অর্থাৎ ছোট শির্ক সম্পর্কে আলোচনা শেষ করব।
إِنَّ الشِّرْكَ لَظُلْمٌ عَظِيمٌ [ لقمان :13]
“নিশ্চয় শির্ক হলো মহা অন্যায়।” [লুকমান : ১৩]
আব্দুল্লাহ ইবন মাস‘ঊদ রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করলাম, আল্লাহর নিকট বড় পাপ কোনটি? তিনি বলেলেন,
«أَنْ تَجْعَلَ لِله نِدًّا وَهُوَ خَلَقَكَ» [ متفق عليه ]
“আল্লাহর জন্য শরীক সাব্যস্ত করা; অথচ তিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন।” মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম) আন-নিদ্দ ( النِدّ ) অর্থ হলো, শরীক
শির্ক দুই প্রকার: বড় শির্ক ও ছোট শির্ক
- বড় শির্ক হলো, সবচেয়ে বড় পাপ যা তাওবা করা ব্যতীত কারো জন্যেই আল্লাহ ক্ষমা করবেন না। এটি সব আমল বিনষ্টকারী। যে ব্যক্তি শিরকে আকবারের ওপর মারা যাবে সে জাহান্নামে চিরস্থায়ী হবে। আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি।
আল্লাহ বলেন,
إِنَّ الله لَا يَغْفِرُ أَن يُشْرَكَ بِهِ وَيَغْفِرُ مَا دُونَ ذَٰلِكَ لِمَن يَشَاءُ وَمَن يُشْرِكْ بِالله فَقَدِ افْتَرَىٰ إِثْمًا عَظِيمًا [ النساء : 48]
“নিশ্চয় আল্লাহ তাঁর সাথে শরীক করাকে ক্ষমা করেন না। এছাড়া অন্যান্য অপরাধ যাকে ইচ্ছে ক্ষমা করেন। আর যে-ই আল্লাহর সাথে শরীক করে, সে এক মহাপাপ রটনা করে।” [আন-নিসা : ৪৮]
আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
وَلَقَدْ أُوحِيَ إِلَيْكَ وَإِلَى الَّذِينَ مِن قَبْلِكَ لَئِنْ أَشْرَكْتَ لَيَحْبَطَنَّ عَمَلُكَ وَلَتَكُونَنَّ مِنَ الْخَاسِرِينَ بَلِ الله فَاعْبُدْ وَكُن مِّنَ الشَّاكِرِينَ [ الزمر : 65-66].
“আর আপনার প্রতি ও আপনার পূর্ববর্তীদের প্রতি অবশ্যই ওহী করা হয়েছে যে, 'যদি আপনি শির্ক করেন তবে আপনার সমস্ত আমল তো নিষ্ফল হবে এবং অবশ্যই আপনি হবেন ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত।” [যুমার : ৬৫-৬৬]
বড় শির্কের হাকীকত হলো, মানুষের আল্লাহর রুবূবিয়্যাত বা উলুহিয়্যাত বা নাম ও সিফাতসমূহে কোনো শরীক বা কোনো সমকক্ষ সাব্যস্ত করা।
- শির্ক কখনো প্রকাশ্য হয়, যেমন কোনো ব্যক্তি মূর্তি পুজা করল এবং কবরবাসী ও মূর্তিদের আহ্বান করল।
- আবার কখনো অপ্রকাশ্য হয়, যেমন আল্লাহ ছাড়া বিভিন্ন ইলাহের ওপর ভরসাকারীগণের শির্ক অথবা যেমন মুনাফিকদের কুফর ও শির্ক।
- আবার কখনো শির্ক বিশ্বাসে হয়, যেমন কেউ বিশ্বাস করল যে, এখানে এমন লোক আছে যিনি আল্লাহর সঙ্গে সৃষ্টি করেন, রিযিক দেন এবং গায়েব জানেন। অথবা বিশ্বাস করল যে, গাইরুল্লাহর জন্য ইবাদত সমর্পণ করা বৈধ বা বিশ্বাস করল যে, এখানে এমন কোনো সত্ত্বা রয়েছে আল্লাহর সাথে যার বিনা শর্তে অনুকরণ করা যায় অথবা কোনো মাখলুককে ইবাদাতের ন্যায় মহব্বত করল যেমন আল্লাহকে মহব্বত করে।
- আবার কখনো শির্ক কথায় হয়, যেমন মৃত ও অনুপস্থিত ব্যক্তিদের কাছে দোয়া, আশ্রয় ও সাহায্য চাওয়া।
- আবার শির্ক কখনো কাজে হয়, যেমন গাইরুল্লাহর জন্য জবেহ করা, সালাত আদায় করা বা সেজদা করা। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
قُلْ إِنَّ صَلَاتِي وَنُسُكِي وَمَحْيَايَ وَمَمَاتِي لِله رَبِّ الْعَالَمِينَ لَا شَرِيكَ لَهُ وَبِذَٰلِكَ أُمِرْتُ وَأَنَا أَوَّلُ الْمُسْلِمِينَ [ الأنعام : 162-163].
“বলুন, নিশ্চয় আমার সালাত, কুরবানী, জীবন ও মৃত্যু জগতের রব আল্লাহর জন্য। তার কোনো শরীক নেই। এ বিষয়েই আমাকে আদেশ করা হয়েছে এবং আমিই প্রথম মুসলিম।” [আল-আনআম : ১৬২-১৬৩]
আল্লাহ আমাদেরকে প্রকাশ্য ও গোপন শির্ক থেকে হিফাযত করুন। এতটুকুতে যথেষ্ট করছি। আল্লাহর ইচ্ছায় পরবতী পাঠে আমরা দ্বিতীয় প্রকার অর্থাৎ ছোট শির্ক সম্পর্কে আলোচনা শেষ করব।