hadith book logo

মজলিসের সৌরভ

লেখকঃ তুরকী ইবন ইবরাহীম আল-খানীযান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ২২

অযু ভঙ্গের কারণসমূহ

এ পাঠে আমরা ওযূ ভঙ্গের কারণসমূহ এবং যার ওযূ ভেঙ্গে যায় তার করণীয় সম্পর্কে আলোচনা করব।

- ওযূ ভঙ্গের কারণসমূহ হলো-

১- পায়খানা ও পেশাবের রাস্তা দিয়ে বর্হিগত বস্তু : এগুলো সবই ওযূ ভেঙ্গে দেয়।

২- জ্ঞানহারা হওয়া বা পাগল বা বেহুশ বা মাতাল হওয়াতে জ্ঞান না থাকা [ [আমরা জানি যে, মদ ও নেশা জাতীয় কোনো কিছু পান করা কবীরাহ গুনাহ। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنَّمَا الْخَمْرُ وَالْمَيْسِرُ وَالأَنْصَابُ وَالأَزْلامُ رِجْسٌ مِنْ عَمَلِ الشَّيْطَانِ فَاجْتَنِبُوهُ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ [ النساء : 103]. “হে মুমিনগণ, নিশ্চয় মদ, জুয়া, প্রতিমা-বেদী ও ভাগ্যনির্ধারক তীরসমূহ তো নাপাক শয়তানের কর্ম। সুতরাং তোমরা তা পরিহার কর, যাতে তোমরা সফলকাম হও।” [আন-নিসা : ১০৩]]] অথবা ঘুম। কারণ এতে নাপাক বের হওয়ার আশঙ্কা থাকে। আর অগভীর ঘুম ওযূ ভঙ্গ করে না। (অর্থাৎ যে ঘুমে নাপাক বের হলে মানুষ বুঝতে পারে যে, নাপাক বের হয়েছে, যেমন পায়ু বের হওয়া)।

৩- উটের গোশত খাওয়া।

৪- পর্দা ছাড়া লজ্জাস্থান স্পর্শ করা [ [পুরুষাঙ্গ বা পায়ূপথ স্পর্শ করা এবং অনুরূপভাবে নারী যখন তার লজ্জাস্থান স্পর্শ করে এবং অনুরূপভাবে অপরের লিঙ্গ স্পর্শ করা চাই সে ছোট হোক বা বড় হোক।]] বিষয়ে আহলে ইলমগণ ইখতিলাফ করেছেন। তবে উত্তম হলো ওযূ করে নেয়া।

- ওযূ ভঙ্গের কারণসমূহ হতে কোনো কারণে যার ওযূ ভাঙ্গবে তার ওপর ওযূ করা ছাড়া সালাত আদায় করা বা কুরআন স্পর্শ করা হারাম।

- যে ব্যক্তি ওযূ করল অতঃপর সন্দেহ করল যে তার ওযূ নষ্ট হয়েছে কি-না, তাহলে তার ওযূ করা জরুরি নয়। কারণ, ইয়াকীন (অর্থাৎ ওযূ) সন্দেহ দ্বারা দূরীভুত হয় না।

- অনুরূপভাবে যে নাপাক হল অতঃপর সন্দেহ করল যে, সে ওযূ করেছে নাকি করে নি, তখন তার ওযূ করা জরুরি। কারণ, ইয়াকীন (অর্থাৎ নাপাক) সন্দেহ দ্বারা দূরীভুত হয় না।

আল্লাহ আমাদেরকে উপকারী ইলম এবং নেক আমলের তাওফীক দান করুন। এ টুকুতে যথেষ্ট করছি। আল্লাহর ইচ্ছায় পরবর্তী দারসে আমরা গোসলের ওয়াজিবসমূহ সম্পর্কে আলোচনা করব।