hadith book logo

মজলিসের সৌরভ

লেখকঃ তুরকী ইবন ইবরাহীম আল-খানীযান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৯

অযুর পদ্ধতি

এ পাঠে আমরা ছোট নাপাকী থেকে পবিত্রতা অর্জন সম্পর্কে আলোচনা করব। আর তা হবে ওযূ দ্বারা।

- ওযূ পবিত্র পানি দিয়ে হতে হবে। যদি পানিতে নাপাকি পড়ে তার রং, স্বাদ ও গন্ধ পরিবর্তন হয়ে যায় তবে তা দিয়ে ওযূ বা গোসল করা বৈধ হবে না।

ওযূর শর্ত: ওযূ অঙ্গসমূহে সরাসরি পানি পৌছতে বাধা হয় এমন বস্তু দূর করা। যেমন, মাটি, আঠালো বস্তু, মোম, ঘন রং এবং নক পালিশ যা মহিলারা লাগায় ইত্যাদি।

- দু’টি সহীহ গ্রন্থে রয়েছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

«مَنْ تَوَضَّأَ نَحْوَ وُضُوئِي هَذَا ثُمَّ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ لَا يُحَدِّثُ فِيهِمَا نَفْسَهُ غَفَرَ الله لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ» .

“যে ব্যক্তি আমার মত এ রকম উযূ করবে, অতঃপর দু’রাক‘আত সালাত আদায় করবে, যাতে সে নিজের নফসের সঙ্গে কথা বলবে না, তার পূর্বের গুনাহ্ ক্ষমা করে দেয়া হবে।”

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদর্শ অনুযায়ী ওযূ করার পদ্ধতি-

- অন্তরে ওযূর নিয়ত করবে, তবে মুখে নিয়ত উচ্চারণ করা বৈধ নয়।

- তারপর বলবে, বিছমিল্লাহ, তারপর দুই হাতের কবজি তিনবার ধুইবে।

- তারপর তিন অঞ্জলিতে তিনবার কুলি করবে এবং নাকে পানি দেবে। তারপর তিনবার চেহারা ধুইবে। আর চেহারার পাশাপাশি সীমানা হলো এক কান থেকে অপর কান পর্যন্ত। আর লম্বালম্বি সীমানা হলো কপালের উপরিভাগ থেকে থুতনির নিচ পর্যন্ত। যদি ওযূকারীর দাড়ি পাতলা হয় যার ভেতর দিয়ে চামড়ার রং দেখা যায় তা হলো দাড়ির ভেতর বাহির উভয় অংশ ধোয়া ওয়াজিব। আর যদি দাড়ি ঘন হয় যা চামড়া ঢেকে রাখে, তাহলে বাহিরের অংশ ধোয়াই যথেষ্ট হবে। আর দাড়ি খেলাল করা মুস্তাহাব।

- তারপর দুই হাত আঙ্গুলের মাথা থেকে নিয়ে কনুই পর্যন্ত ধুইবে। (কনুই ধোয়ার অন্তর্ভুক্ত) প্রথমে ডান হাত তারপর বাম হাত ধুইবে।

- তারপর মাথা ও দুই কান নতুন পানি দিয়ে মাসেহ করবে। তার নিয়ম হলো, দুই হাত দিয়ে মাথার সামনে থেকে পিছন দিকে গরদান পর্যন্ত ফিরাবে। তারপর যেখান থেকে শুরু করেছে সেখানে ফিরিয়ে আনবে। অর্থাৎ গর্দান থেকে মাথার অগ্রভাগ পর্যন্ত ফিরাবে। তারপর সে তার দুটি তর্জনী আঙ্গুলকে কানের মধ্যে প্রবেশ করাবে এবং দুই কানের বাহ্যিক অংশকে বৃদ্ধা আঙ্গুল দিয়ে একবার মাসেহ করবে।[ [মাথা থেকে ঝুলে পড়া চুল মাসেহ করা ওয়াজিব নয়।]]

- তারপর দুই পা টাখনুসহ তিনবার ধৌত করবে। প্রথমে ডান পা তারপর বাম পা। টাখনু হলো: পা ও গোড়ালির জোড়ার স্থানে দুটি উঁচা হাড্ডি।

- ওযূর ফরযসমূহের আরেকটি হলো: ওযূর অঙ্গগুলোর মাঝে ধারাবাহিকতা বঝায় রাখা। একটি অঙ্গ ধোয়ার পর পরবর্তী অঙ্গ ধোয়ার মধ্যে দীর্ঘ বিরতি গ্রহণ না করা।

- ওযূর পরে এ কথা বলা সুন্নাত।

«أشهدُ أنْ لا إلهَ إلَّا اللهُ، وأنَّ مُحمَّدًا عبدُ الله ورسولُه» [ رواه مسلم ].

“আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর বান্দা ও রাসূল।” [হাদীসটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন]

হে আল্লাহ আপনি আমাদের তাওবাকারীদের অন্তর্ভুক্ত করুন এবং পবিত্রতা অর্জনকারীদের অর্ন্তভুক্ত করুন। এতটুকুতে যথেষ্ট করছি। আল্লাহর ইচ্ছায় পরবর্তী পাঠে এমন কিছু ভুল নিয়ে আলোচনা করব কতক মানুষ ওযূ করার সময় যেগুলোতে পতিত হয়।