hadith book logo

মজলিসের সৌরভ

লেখকঃ তুরকী ইবন ইবরাহীম আল-খানীযান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৫০

সাদকায়ে ফিতরের বিধান

এ দারসে আমরা সাদকাতুল ফিতর সম্পর্কে আলোচনা করব। আর তা হলো,

সাদকাতুল ফিতর হলো সাওম পালনকারীর জন্য পবিত্রতা এবং মিসকীনদের জন্য আহার স্বরূপ। আর একমাসের সাওম পালনের কারণে আল্লাহ কৃতজ্ঞতা।

- যে ব্যক্তির কাছে ঈদের দিনে বা রাতে তার নিজের ও তিনি যাদের দায়িত্বশীল তাদের প্রয়োজনীয় খাদ্য এবং মৌলিক চাহিদার অতিরিক্ত এক সা‘ পরিমাণ সম্পদ থাকে, তার ওপর সাদকা ফিতর ওয়াজিব। আব্দুল্লাহ ইবন ‘উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,

«فَرَضَ رَسُولُ الله صلى الله عليه وسلم زَكَاةَ الْفِطْرِ صَاعًا مِنْ تَمْرٍ أَوْ صَاعًا مِنْ شَعِيرٍ عَلَى الْعَبْدِ وَالْحُرِّ وَالذَّكَرِ وَالأنْثَى وَالصَّغِيرِ وَالْكَبِيرِ مِنْ الْمُسْلِمِينَ» [ متفق عليه ].

“প্রত্যেক গোলাম, আযাদ, পুরুষ, নারী, প্রাপ্ত বয়স্ক, অপ্রাপ্ত বয়স্ক মুসলিমের উপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সদাকাতুল ফিতর হিসেবে খেজুর হোক অথবা যব হোক এক সা’ পরিমাণ আদায় করা ফরয করেছেন।” [মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)]

- আর এর পরিমাণ: শহরের অধিকাংশ মানুষের খাদ্যের (গম বা আটা বা খেজুর বা কিসমিস বা চাল বা দানা ইত্যাদির) এক সা‘।

সা’ হলো এমন একটি পরিমাপক যদ্ধারা পরিমাপ করা যায়, ওজন করা যায় না। এটি পরিমাপকৃত খাদ্যের ভিন্নতার কারণে বিভিন্ন প্রকার হয়ে থাকে। ফাতওয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটি সা‘ এর ওজন চাউলের থেকে তিন কিলোগ্রাম নির্ধারণ করেছে। জমহুর আলেমগণের নিকট খাদ্যের মুল্য দেওয়া যায়েয নাই।

- সাদকাতুল ফিতর দেয়ার সময়: ঈদের রাতে সূর্যাস্ত থেকে ইমামের ঈদের সালাতে প্রবেশ করা পর্যন্ত। একদিন বা দুইদিন আগে তা আদায় করা বৈধ আছে। (অর্থাৎ ২৮ তারিখ সূর্যাস্তের পর থেকে)। আর যে ব্যক্তি সময় মতো আদায় করতে পারলো না তবে তাকে কাজা আদায় করতে হবে। আর যদি কোনো শরয়ী ওজর ছাড়া দেরি করে থাকে তাহলে তাকে তাওবা ও ইস্তেগফারের সাথে তা আদায় করতে হবে।

- মূল নিয়ম হলো সাদকায়ে ফিতর যে শহরে বা দেশে সে বসবাস করে সেখানেই সাদকা ফিতর আদায় করবে। তবে যদি কোনো শরয়ী কল্যাণ থাকে তখন তিনি যে শহরে অবস্থান করছেন তা থেকে অন্য শহরে নেয়া যাবে। যেমন, তার শহরে ফকীর পাওয়া যাচ্ছে না অথবা যারা অধিক অভাবী তাদের উদ্দেশ্যে স্থানান্তর করছে, তার গরীব আত্মীয়ের জন্য স্থানান্তর করছে। আর যদি কোনো কারণ ছাড়া স্থানান্তর করে তখন হারামের সাথে বা মাকরুহের সাথে তা আদায় করা হবে।

হে আল্লাহ আপনি হারাম ব্যতীত হালাল দ্বারা আমাদের যথেষ্ট করে দেন। আর আপনি আপনার অনুগ্রহ দ্বারা অন্যদের প্রতি মুখাপেক্ষী হওয়া থেকে আমাদের বাঁচান। এ টুকু আলোচনাতে যথেষ্ট করছি। আল্লাহর ইচ্ছায় আগামী দারসে আমরা ইসলামের রুকসমূহ হতে চতুর্থ রুকন সাওম সম্পর্কে আলোচনা করব।