hadith book logo

মজলিসের সৌরভ

লেখকঃ তুরকী ইবন ইবরাহীম আল-খানীযান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৩৫

মুসল্লীদের ভুলসমূহ (২)

পূর্বের দারসে আমরা মুসল্লিদের ভুল-ত্রুটি সম্পর্কে আলোচনা আরম্ভ করেছি। এ দারসেও সে আলোচনা চালিয়ে যাবো।

- আরও ভুল হলো সালাত আদায়ে জন্য সাজ-সজ্জা গ্রহণ না করা। কতক মানুষ বিশেষ করে ফজরের সালাতে ঘুমের পোশাক পরে সালাত আসে বা নিম্নমানের কাপড় পরে সালাতে আসে যা তারা তাদের কর্ম ক্ষেত্রে পরিধান করে না। আল্লাহ বলেন,

يَا بَنِي آدَمَ خُذُوا زِينَتَكُمْ عِندَ كُلِّ مَسْجِدٍ [ الأعراف : 31].

“হে আদম সন্তান প্রত্যেক সালাতের সময় তোমরা তোমাদের সৌন্দর্যকে অবলম্বন করো।” [আল-আরাফ : ৩১]

- আরও ভুল হলো, ফরয সালাতে দাঁড়ানো অবস্থায় কোনো ওযর ছাড়া খুঁটি বা দেয়ালের সাথে হেলান দেওয়া। এটি সালাত নষ্টকারী। কারণ, সক্ষম অবস্থায় সালাতে কিয়াম করা সালাতের একটি রুকন।

- আরও ভুল হলো, সালাতের মাঝে আসমানের দিকে মাথা উঠানো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ থেকে নিষেধ করেছেন। যেমন, আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

«مَا بَالُ أَقْوَامٍ يَرْفَعُونَ أَبْصَارَهُمْ إِلَى السَّمَاءِ فِي صَلَاتِهِمْ -فَاشْتَدَّ قَوْلُهُ فِي ذَلِكَ حَتَّى قَالَ -: لَيَنْتَهُنَّ عَنْ ذَلِكَ أَوْ لَتُخْطَفَنَّ أَبْصَارُهُمْ» [ رواه البخاري ].

“লোকদের কী হয়েছে যে, তারা তাদের সালাতে আকাশের দিকে দৃষ্টি তুলছে?” এ ব্যাপারে তিনি কঠোর বক্তব্য রাখলেন; এমনকি তিনি বললেন, “তারা যেন অবশ্যই এ কাজ হতে বিরত থাকে; নচেৎ অবশ্যই তাদের দৃষ্টি কেড়ে নেওয়া হবে।” [বর্ণনায় বুখারী]

- আরো ভূল: কতক মুক্তাদী ইমাম যখন ( إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ ) পড়ে তখন সে বলে আমরা আল্লাহর সাহায্য কামনা করছি। এটি সন্নাতের পরিপন্থী। ইমাম নববী এটিকে বিদআত বলে গণ্য করেছেন।

- আরেকটি ভূল: মুক্তাদি ফরয সালাতে কুরআন পড়া ও যিকির পাঠের সময় আওয়াজ এমন বড় করে যার ফলে পাশের মুসল্লির বিঘ্ন ঘটে। অথচ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

«إِنَّ أَحَدَكُمْ إِذَا كَانَ فِي الصَّلاةِ، فَإِنَّمَا يُنَاجِي رَبَّهُ فَلا تَرْفَعُوا أَصْوَاتَكُمْ بِالْقُرْآنِ فتُؤذوا المؤمنين» [ صححه الألباني ].

“তোমাদের কেউ যখন সালাতে থাকে তখন সে অবশ্যই তার রবের সাথে মুনাজাত করে। ফলে তোমরা তিলাওয়াতের আওয়াযকে এত বড় করো না যাতে মুমিনদের কষ্ট হয়।” [আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন]।

- আরেকটি ভূল: ইমামের সাথে কতক মুক্তাদির আমীন না বলা; অথচ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

«إذا أمَّنَ الإمامُ فأمِّنوا، فإنه من وافقَ تأمينُه تأمينَ الملائكةِ، غُفِرَ له ما تقدَّمَ من ذنبِه» . وقال ابنُ شهابٍ : وكان الرسولُ صلى الله عليه وسلم يقولُ : «آمين» [ رواه البخاري ].

“ইমাম যখন আমীন বলবে, তখন তোমরাও আমীন বলবে; কেননা যে ব্যক্তির আমীন ফিরিশতাদের আমীনের সাথে মিলবে তার পূর্ব-জীবনের গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।” ইবন শিহাব বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘আমীন’ বলতেন। [বর্ণনায় বুখারী]

আল্লাহ আমাদেরকে দীনের বুঝ এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাতের অনুসরণ করার তাওফীক দান করুন। এতটুকুতে যথেষ্ট করছি। আল্লাহর ইচ্ছায় পরবর্তী দারসে আলোচনা সম্পন্ন করব।