১
মজলিসের সৌরভ
লেখকঃ তুরকী ইবন ইবরাহীম আল-খানীযান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৬১
মুসলিম নর ও নারী পোশাকের বিধান (১)
এ পাঠে আমরা মুসলিম নর ও নারীর পোশাকের বিধান সম্পর্কে আলোচনা করব।
- আমাদের ওপর আল্লাহর নিয়ামাতসমূহের একটি নিয়ামত হলো তিনি আমাদের জন্য পোশাক নাযিল করেছেন যাতে আমরা আমাদের সতর ঢাকতে পারি, তার দ্বারা সৌন্দর্য গ্রহণ করতে পারি এবং সেটি ব্যবহার করে গরম ও ঠান্ডা থেকে বাঁচতে পারি। যেমন আল্লাহ বলেন,
يَا بَنِي آدَمَ قَدْ أَنزَلْنَا عَلَيْكُمْ لِبَاسًا يُوَارِي سَوْآتِكُمْ وَرِيشًا وَلِبَاسُ التَّقْوَىٰ ذَٰلِكَ خَيْرٌ [ الأعراف : 26]
“হে বনী আদম, আমি তো তোমাদের জন্য পোশাক অবতীর্ণ করেছি, যা তোমাদের লজ্জাস্থান ঢাকবে এবং যা সৌন্দর্যস্বরূপ। আর তাকওয়ার পোশাক, সেটিই উত্তম।” [আরাফ : ২৬]
আল্লাহ তাআলা বলেন,
وَجَعَلَ لَكُمْ سَرَابِيلَ تَقِيكُمُ الْحَرَّ وَسَرَابِيلَ تَقِيكُمْ بَأْسَكُمْ [ النحل : 81]
“আর ব্যবস্থা করেছেন পোশাকের, যা তোমাদেরকে গরম থেকে রক্ষা করে এবং বর্মেরও ব্যবস্থা করেছেন যা তোমাদেরকে রক্ষা করে তোমাদের যুদ্ধে।” [আন-নাহাল : ৮১] সারাবীল হলো: পোশাক ও কাপড়।
- মুসলিমদের পোশাক ও তার সৌন্দর্য অবলম্বনের মূলনীতি হলো মুবাহ তথা জায়েয হওয়া। তবে যার হারাম হওয়ার ওপর দলীল পাওয়া যায় সেটি বাদে।
পোশাকের নীতিমালা হলো:
• পোশাকে নারীদের সাথে পুরুষের সাদৃশ্য না হওয়া বা তার উল্টো না হওয়া। কারণ, বুখারী ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন,
«لَعَنَ رَسُولُ الله صلى الله عليه وسلم الْمُتَشَبِّهِينَ مِنْ الرِّجَالِ بِالنِّسَاءِ وَالْمُتَشَبِّهَاتِ مِنْ النِّسَاءِ بِالرِّجَالِ» .
“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মহিলাদের সাদৃশ্য অবলম্বনকারী পুরুষদেরকে এবং পুরুষদের সাদৃশ্য অবলম্বনকারী মহিলাদেরকে অভিশাপ করেছেন।”
• পোশাকের আরেকটি মূলনীতি হলো, এ ক্ষেত্রে যেন কাফের, বিদআতী বা ফাসেকদের সাথে সাদৃস্য না হয়। কারণ, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
«مَنْ تَشَبَّهَ بِقَوْمٍ فَهُوَ مِنْهُمْ» [ رواه أبوداود وصححه الألباني ].
“যে ব্যক্তি কোনো সম্প্রদায়ের সাদৃশ্য গ্রহণ করল সে তাদের অন্তর্ভুক্ত হবে।” [বর্ণনায় আবূ দাউদ। আলবানী এটিকে সহীহ বলেছেন]
• পোশাকের আরেকটি মূলনীতি হলো, প্রসিদ্ধ হওয়ার জন্য পোশাক না পড়া। আর তা হলো সামাজের কালচার ও তার অনুসারীরা যা ভালো চোখে দেখে না। এ ধরনের পোশাকের আকৃতি সমাজের কালচারের পরিপন্থী এবং তার রং সম্পর্কে তারা পরিচিত নয় এবং ভালো মনে করে না। কারণ, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
«مَنْ لَبِسَ ثَوْبَ شُهْرَةٍ فِي الدُّنْيَا أَلْبَسَهُ الله ثَوْبَ مَذَلَّةٍ يَوْمَ الْقِيَامَةِ» [ رواه أحمد وأبو داود وابن ماجه والنسائي ].
“যে ব্যক্তি দুনিয়াতে প্রসিদ্ধির কাপড় পরিধান করবে আল্লাহ তাকে কিয়ামাতের দিন বে-ইজ্জতির কাপড় পরিধান করাবে।” [এটি আহমাদ, আবু দাউদ, ইবন মাজাহ ও নাসায়ী বর্ণনা করেছেন]।
• পোশাকের আরেকটি নিয়ম হলো, পোশাকটি হারাম হতে পারবে না। যেমন, পুরুষের জন্য রেশমি কাপড় ও স্বর্ণ ব্যবহার করা। কারণ, ‘আলী ইবন আবূ তালিব রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রেশম নিলেন এবং এটিকে তিনি তার ডান হাতে নিলেন আর এক টুকরা স্বর্ণ নিয়ে তা তার বাম হাতে রাখলেন, তারপর তিনি বললেন,
«إنَّ هَذينِ حرامٌ على ذُكورِ أمَّتي» [ رواه أبوداود وصححه الألباني ].
“এ দুটি আমার উম্মতের পুরুষদের জন্য হারাম।” [বর্ণনায় আবূ দাউদ। আলবানী এটিকে সহীহ বলেছেন]
• পোশাকের নিয়ম হলো তা সতর ঢেকে রাখার যোগ্য হতে হবে। আর পুরুষের সতর হলো নাভী ও হাঁটুর মাঝখান। অপরিচিত লোকদের সামনে নারীদের পুরো শরীরই সতর। আর নারীদের মাঝে এবং মাহরামদের মাঝে সে তার শরীর ঢেকে রাখবে তবে যা স্বাভাবিকভাবে প্রকাশ পায়। যেমন, গর্দান, চুল, দুই পা ইত্যাদি।
• নারীর পর্দার ক্ষেত্রে পুরো শরীর ঢেকে রাখা শর্ত। এমন পোশাক হওয়া উচিত নয় যা তার শরীরের বর্ণনা ও ব্যাখ্যা দেয় এবং এত সংকীর্ণ হওয়া উচিত নয় যা তার অঙ্গের পরিমাপ করে আর এটি তার নিজের মধ্যে শোভাকর হওয়া উচিত নয় এবং আতর ও সুগন্ধি ধোঁয়া যুক্ত হওয়া উচিত নয়।
হে আল্লাহ আপনি আমাদের তাকওয়ার পোশাক ও নিরাপত্তার পোশাক পরিধান করান। আর আপনি আমাদের আপনার সুন্দর পর্দা দ্বারা ঢেকে রাখুন। এতটুকুতে যথেষ্ট করছি। আল্লাহর ইচ্ছায় আমরা পরবর্তী দারসে আলোচনা সম্পন্ন করবো।
- আমাদের ওপর আল্লাহর নিয়ামাতসমূহের একটি নিয়ামত হলো তিনি আমাদের জন্য পোশাক নাযিল করেছেন যাতে আমরা আমাদের সতর ঢাকতে পারি, তার দ্বারা সৌন্দর্য গ্রহণ করতে পারি এবং সেটি ব্যবহার করে গরম ও ঠান্ডা থেকে বাঁচতে পারি। যেমন আল্লাহ বলেন,
يَا بَنِي آدَمَ قَدْ أَنزَلْنَا عَلَيْكُمْ لِبَاسًا يُوَارِي سَوْآتِكُمْ وَرِيشًا وَلِبَاسُ التَّقْوَىٰ ذَٰلِكَ خَيْرٌ [ الأعراف : 26]
“হে বনী আদম, আমি তো তোমাদের জন্য পোশাক অবতীর্ণ করেছি, যা তোমাদের লজ্জাস্থান ঢাকবে এবং যা সৌন্দর্যস্বরূপ। আর তাকওয়ার পোশাক, সেটিই উত্তম।” [আরাফ : ২৬]
আল্লাহ তাআলা বলেন,
وَجَعَلَ لَكُمْ سَرَابِيلَ تَقِيكُمُ الْحَرَّ وَسَرَابِيلَ تَقِيكُمْ بَأْسَكُمْ [ النحل : 81]
“আর ব্যবস্থা করেছেন পোশাকের, যা তোমাদেরকে গরম থেকে রক্ষা করে এবং বর্মেরও ব্যবস্থা করেছেন যা তোমাদেরকে রক্ষা করে তোমাদের যুদ্ধে।” [আন-নাহাল : ৮১] সারাবীল হলো: পোশাক ও কাপড়।
- মুসলিমদের পোশাক ও তার সৌন্দর্য অবলম্বনের মূলনীতি হলো মুবাহ তথা জায়েয হওয়া। তবে যার হারাম হওয়ার ওপর দলীল পাওয়া যায় সেটি বাদে।
পোশাকের নীতিমালা হলো:
• পোশাকে নারীদের সাথে পুরুষের সাদৃশ্য না হওয়া বা তার উল্টো না হওয়া। কারণ, বুখারী ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন,
«لَعَنَ رَسُولُ الله صلى الله عليه وسلم الْمُتَشَبِّهِينَ مِنْ الرِّجَالِ بِالنِّسَاءِ وَالْمُتَشَبِّهَاتِ مِنْ النِّسَاءِ بِالرِّجَالِ» .
“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মহিলাদের সাদৃশ্য অবলম্বনকারী পুরুষদেরকে এবং পুরুষদের সাদৃশ্য অবলম্বনকারী মহিলাদেরকে অভিশাপ করেছেন।”
• পোশাকের আরেকটি মূলনীতি হলো, এ ক্ষেত্রে যেন কাফের, বিদআতী বা ফাসেকদের সাথে সাদৃস্য না হয়। কারণ, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
«مَنْ تَشَبَّهَ بِقَوْمٍ فَهُوَ مِنْهُمْ» [ رواه أبوداود وصححه الألباني ].
“যে ব্যক্তি কোনো সম্প্রদায়ের সাদৃশ্য গ্রহণ করল সে তাদের অন্তর্ভুক্ত হবে।” [বর্ণনায় আবূ দাউদ। আলবানী এটিকে সহীহ বলেছেন]
• পোশাকের আরেকটি মূলনীতি হলো, প্রসিদ্ধ হওয়ার জন্য পোশাক না পড়া। আর তা হলো সামাজের কালচার ও তার অনুসারীরা যা ভালো চোখে দেখে না। এ ধরনের পোশাকের আকৃতি সমাজের কালচারের পরিপন্থী এবং তার রং সম্পর্কে তারা পরিচিত নয় এবং ভালো মনে করে না। কারণ, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
«مَنْ لَبِسَ ثَوْبَ شُهْرَةٍ فِي الدُّنْيَا أَلْبَسَهُ الله ثَوْبَ مَذَلَّةٍ يَوْمَ الْقِيَامَةِ» [ رواه أحمد وأبو داود وابن ماجه والنسائي ].
“যে ব্যক্তি দুনিয়াতে প্রসিদ্ধির কাপড় পরিধান করবে আল্লাহ তাকে কিয়ামাতের দিন বে-ইজ্জতির কাপড় পরিধান করাবে।” [এটি আহমাদ, আবু দাউদ, ইবন মাজাহ ও নাসায়ী বর্ণনা করেছেন]।
• পোশাকের আরেকটি নিয়ম হলো, পোশাকটি হারাম হতে পারবে না। যেমন, পুরুষের জন্য রেশমি কাপড় ও স্বর্ণ ব্যবহার করা। কারণ, ‘আলী ইবন আবূ তালিব রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রেশম নিলেন এবং এটিকে তিনি তার ডান হাতে নিলেন আর এক টুকরা স্বর্ণ নিয়ে তা তার বাম হাতে রাখলেন, তারপর তিনি বললেন,
«إنَّ هَذينِ حرامٌ على ذُكورِ أمَّتي» [ رواه أبوداود وصححه الألباني ].
“এ দুটি আমার উম্মতের পুরুষদের জন্য হারাম।” [বর্ণনায় আবূ দাউদ। আলবানী এটিকে সহীহ বলেছেন]
• পোশাকের নিয়ম হলো তা সতর ঢেকে রাখার যোগ্য হতে হবে। আর পুরুষের সতর হলো নাভী ও হাঁটুর মাঝখান। অপরিচিত লোকদের সামনে নারীদের পুরো শরীরই সতর। আর নারীদের মাঝে এবং মাহরামদের মাঝে সে তার শরীর ঢেকে রাখবে তবে যা স্বাভাবিকভাবে প্রকাশ পায়। যেমন, গর্দান, চুল, দুই পা ইত্যাদি।
• নারীর পর্দার ক্ষেত্রে পুরো শরীর ঢেকে রাখা শর্ত। এমন পোশাক হওয়া উচিত নয় যা তার শরীরের বর্ণনা ও ব্যাখ্যা দেয় এবং এত সংকীর্ণ হওয়া উচিত নয় যা তার অঙ্গের পরিমাপ করে আর এটি তার নিজের মধ্যে শোভাকর হওয়া উচিত নয় এবং আতর ও সুগন্ধি ধোঁয়া যুক্ত হওয়া উচিত নয়।
হে আল্লাহ আপনি আমাদের তাকওয়ার পোশাক ও নিরাপত্তার পোশাক পরিধান করান। আর আপনি আমাদের আপনার সুন্দর পর্দা দ্বারা ঢেকে রাখুন। এতটুকুতে যথেষ্ট করছি। আল্লাহর ইচ্ছায় আমরা পরবর্তী দারসে আলোচনা সম্পন্ন করবো।