hadith book logo

মজলিসের সৌরভ

লেখকঃ তুরকী ইবন ইবরাহীম আল-খানীযান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১১

কিয়ামতের আলামতসমূহ

এ পাঠে আমরা কিয়ামতের আলামাত সম্পর্কে আলোচনা করব। অর্থাৎ যে সব আলামত কিয়ামত সংঘটিত হওয়ার পূর্বে দেখা যাবে এবং কিয়ামত কাছাকাছি হওয়ার প্রমাণ বহন করে।

- কিয়ামতের আলামতসমূহকে ছোট ও বড় দুটি ভাগে ভাগ করার পরিভাষা তৈরি হয়েছে: ছোট আলামত হলো যেগুলো কিয়ামতের অনেক আগে সংঘটিত হয়। এ সবের কতক সংঘটিত হয়েছে ও নিঃশেষ হয়ে গেছে আবার কতক আছে যেগুলো বারবার সংঘটিত হয়। আবার কতক আছে যেগুলো প্রকাশ পেয়েছে, এখনো প্রকাশ পাচ্ছে এবং একের পর এক সংটিত হচ্ছে। আবার কতক আছে যেগুলো এখনও সংঘটিত হয়নি, তবে অবশ্যই পরম সত্যবাদি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেভাবে সংবাদ দিয়েছেন সেভাবে সংঘটিত হবে।

- কিয়ামতের ছোট আলামত অসংখ্য, যেমন, ইলম ছিনিয়ে নেওয়া, ফিতনা ছড়িয়ে পড়া, অশ্লীল কর্ম ব্যাপক হওয়া, হত্যা ও ভুমিকম্প বেশি হওয়া, সময় কাছাকাছি হওয়া (অর্থাৎ সময় দ্রুত চলে যাওয়া), অনেক মিথ্যাচারের পক্ষ হতে নবুওয়াতের দাবি করা, খালি পা ও বস্ত্রহীন অভাবী ছাগলের রাখালদের প্রাসাদ নিয়ে বড়াই করা, উম্মতদেরকে মুসলিমদের বিপক্ষে ডাকাডাকি করা। তারপর শেষের দিকে ইয়াহুদীদের ওপর মুসলিমদের বিজয় লাভ করা, তখন পাথর ও গাছ কথা বলবে তারা মুসলিমদেরকে ইয়াহুদীদের আত্মগোপন করার স্থানকে দেখিয়ে দেবে। এ ধরনের আরও অনেক আলামত।

যেমন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

«إِنَّ مِنْ أَشْرَاطِ السَّاعَةِ أَنْ يُرْفَعَ الْعِلْمُ، وَيَكْثُرَ الْجَهْلُ، وَيَكْثُرَ الزِّنَا، وَيَكْثُرَ شُرْبُ الْخَمْرِ، وَيَقِلَّ الرِّجَالُ، وَيَكْثُرَ النِّسَاءُ، حَتَّى يَكُونَ لِخَمْسِينَ امْرَأَةً الْقَيِّمُ الْوَاحِدُ»، وَفِي رِوَايَةٍ : «يَقِلُّ الْعِلْمُ وَيَظْهَرُ الْجَهْلُ» [ متفق عليه ].

“কিয়ামতের আলামত হলো ইলম তুলে নেওয়া হবে। অজ্ঞতা বাড়বে, ব্যভিচার বাড়বে, মদ্যপান বাড়বে, পুরুষের সংখ্যা কমবে এবং নারীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে, এমনকি পঞ্চাশ জন নারীর জন্য একজন উপযুক্ত ব্যক্তি পাওয়া যাবে।“ অপর একটি বর্ণনায় এসেছে, “ইলম কমে যাবে এবং অজ্ঞতা প্রকাশ পাবে।” [মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)]

- কিয়ামতের বড় আলামতসমূহ: তা হলো বড় বড় বিষয় যা প্রকাশ পাওয়া দ্বারা বুঝা যাবে যে, কিয়ামত অতি নিকটে এবং এ মহা দিবসটি সংঘটিত হওয়ার খুব কম সময় অবশিষ্ট আছে।

- মুসলিম তার সহীহতে হুযাইফা ইবন উসাই আল-গিফারী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমরা আলোচনা করতে ছিলাম, এমতাবস্থায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের মাঝে আসলেন এবং জিজ্ঞাসা করলেন, “তোমরা কি আলোচনা করছ?” তারা বলল, আমরা কিয়ামতের আলোচনা করছি। তিনি বললেন,

«إِنَّهَا لَنْ تَقُومَ حَتَّى تَرَوْنَ قَبْلَهَا عَشْرَ آيَاتٍ فَذَكَرَ الدُّخَانَ وَالدَّجَّالَ وَالدَّابَّةَ وَطُلُوعَ الشَّمْسِ مِنْ مَغْرِبِهَا وَنُزُولَ عِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ عليه السلام وَيَأَجُوجَ وَمَأْجُوجَ وَثَلاثَةَ خُسُوفٍ خَسْفٌ بِالْمَشْرِقِ وَخَسْفٌ بِالْمَغْرِبِ وَخَسْفٌ بِجَزِيرَةِ الْعَرَبِ، وَآخِرُ ذَلِكَ نَارٌ تَخْرُجُ مِنْ الْيَمَنِ تَطْرُدُ النَّاسَ إِلَى مَحْشَرِهِمْ» .

“দশটি আলামত না দেখা পর্যন্ত কিয়ামত সংঘটিত হবে না। আর তা হলো দাজ্জাল, ধোঁয়াশা, দাব্বাতুল আরদ, পশ্চিম আকাশে সূর্যোদয়, ঈসা আল্লাইহিস সালামের অবতরণ, ইয়াজুজ মাযুযের প্রকাশ এবং তিনটি ভুমি ধস, একটি পশ্চিমে এবং অপরটি পূর্ব প্রান্তে। আর একটি জাযীরাতুল আরবে। আর এর সর্বশেষ আলামত হলো ইয়ামান থেকে একটি অগ্নি বের হবে যা মানুষকে তাদের হাশরের দিকে নিয়ে যাবে।”

আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যে, তিনি যেন আমাদের সঠিক বুঝ দান করেন এবং তিনি যেন, আমাদেরকে প্রকাশ্য ও গোপনীয় ফিতনার অনিষ্টতা থেকে বাঁচান। এতটুকুতে যথেষ্ট করছি। আল্লাহ তা‘আলার ইচ্ছায় পরবর্তী দারসে আমরা ঈমানের রুকনসমূহ হতে ষষ্ঠ ও সর্বশেষ রুকন অর্থাৎ তাকদীরের ভালো ও মন্দের প্রতি ঈমান আনা বিষয়ে আলোচনা করব।