hadith book logo

মজলিসের সৌরভ

লেখকঃ তুরকী ইবন ইবরাহীম আল-খানীযান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৫৫

সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করা

এ দারসে আমরা ইসলামের নিদর্শনসমূহ হতে মহান নিদর্শন সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করা সম্পর্কে আলোচনা করব।

- ভালো কাজের আদেশ ও অসৎ কাজ হতে বাঁধা দেয়া মুমিনের বাহ্যিক গুণ। যেমন আল্লাহ বলেন,

وَالْمُؤْمِنُونَ وَالْمُؤْمِنَاتُ بَعْضُهُمْ أَوْلِيَاءُ بَعْضٍ يَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنكَرِ وَيُقِيمُونَ الصَّلَاةَ وَيُؤْتُونَ الزَّكَاةَ وَيُطِيعُونَ الله وَرَسُولَهُ أُولَٰئِكَ سَيَرْحَمُهُمُ الله إِنَّ الله عَزِيزٌ حَكِيمٌ [ التوبة : 71].

“আর মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারী একে অপরের বন্ধু, তারা সৎকাজের নির্দেশ দেয় ও অসৎকাজে নিষেধ করে, সালাত কায়েম করে, যাকাত দেয় এবং আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে; তারাই, যাদেরকে আল্লাহ্ অচিরেই দয়া করবেন। নিশ্চয় আল্লাহ্ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।” [আত-তাওবাহ : ৭১]

- যখন ভালো কাজের আদেশ ও অসৎ কাজ হতে বাঁধা ব্যাপক হবে, তখন সুন্নাত বিদ‘আত হতে আলাদা হয়ে যাবে; হালালের বিপরীতে হারাম চেনা যাবে, মানুষ ওয়াজিব, সুন্নাত, মুবাহ ও মাকরুহ বুঝতে পারবে আর সৎ কাজের ওপর একটি প্রজন্মের আভির্ভাব ঘটবে, তারা সৎ কাজকে মহব্বত করবে আর বিদআত থেকে দূরে থাকবে ও তা ঘৃণা করবে।

- নিয়ম অনুসারে ভালো কাজের আদেশ ও অসৎ কাজ হতে বাঁধা দেয়া আল্লাহর আযাব থেকে ব্যক্তি ও সমাজের নিরাপত্তার জিম্মাদার।

যেমন মহান আল্লাহ বলেন,

وَمَا كَانَ رَبُّكَ لِيُهْلِكَ الْقُرَىٰ بِظُلْمٍ وَأَهْلُهَا مُصْلِحُونَ [ هود : 117]

“আর আপনারা রব এরূপ নন যে, তিনি অন্যায়ভাবে জনপদ ধ্বংস করবেন অথচ তাঁর অধিবাসীরা সংশোধনকারী।” [হুদ : ১১৭]

- যে সমাজে মন্দ কর্ম প্রকাশ পায় আর তাতে বাঁধা দেয়ার কোনো লোক থাকে না, সে সমাজ ব্যাপক আযাবের সম্মূখীন।

- সহীহ বুখারী ও মুসলিমে যায়নাব রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদেরকে ধ্বংস করা হবে যখন আমাদের মধ্যে নেককার লোক থাকবে? তিনি বললেন,

«نَعَمْ إذَا كَثُرَ الخَبَثُ» .

“হ্যাঁ যখন অপরাধ বেশি হবে।”

আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন,

فَلَمَّا نَسُوا مَا ذُكِّرُوا بِهِ أَنجَيْنَا الَّذِينَ يَنْهَوْنَ عَنِ السُّوءِ وَأَخَذْنَا الَّذِينَ ظَلَمُوا بِعَذَابٍ بَئِيسٍ بِمَا كَانُوا يَفْسُقُونَ [ الأعراف : 165].

“অতঃপর যে উপদেশ তাদেরকে দেয়া হয়েছিল, তারা যখন তা ভুলে গেল, তখন যারা অসৎকাজ থেকে নিষেধ করত তাদেরকে আমরা উদ্ধার করি। আর যারা যুলুম করেছিল তাদেরকে আমারা কঠোর শাস্তি দেই,কারণ তারা ফাসেকী করত।” [আরাফ : ১৬৫]

- কতক মানুষের নিকট এটি ব্যাপকতা লাভ করছে যে, এটি অন্যের কাজে হস্তক্ষেপ। এটি কম বুঝ ও ঈমানের ত্রুটির আলামত।

আবূ বাকরাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, হে মানুষেরা, তোমরা এ আয়াতটি তিলাওয়াত করো-

يَا أيُها الَّذِينَ أمنُوا عَلَيكُم أَنَفُسَكُم لاَ يَضُرُكُم مَّن ضَلّ إذَا اهتَدَيتُم

“হে ঈমানদারগণ, তোমরা তোমাদের নিজেরদেরকে রক্ষা করো। যদি তোমরা হিদায়াতের ওপর থাকো তবে যে গোমরাহ হলো সে তোমাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না।” আর আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি,

«إِنَّ النَّاسَ إِذَا رَأَوْا الظَّالِمَ فَلَمْ يَأْخُذُوا عَلَى يَدَيْهِ أَوْشَكَ أَنْ يَعُمَّهُمُ الله بِعِقَابٍ مِنْهُ» [ رواه أبو داود وغيره ].

“যখন লোকেরা অত্যাচারীকে (অত্যাচার করতে) দেখবে এবং তার হাত না ধরবে (বাঁধা দিবে না), তখন খুব শীঘ্র আল্লাহ তা‘আলা তাদের সকলকে ব্যাপকভাবে তার শাস্তির কবলে নিয়ে নেবেন।” [এটি আবূ দাঊদ ও অন্যরা বর্ণনা করেছেন]

আর আবূ সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

«مَنْ رَأَى مِنْكُمْ مُنْكَرًا فَلْيُغَيِّرْهُ بِيَدِهِ، فَإِنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَبِلِسَانِهِ، فَإِنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَبِقَلْبِهِ، وَذَلِكَ أَضْعَفُ الْإِيمَانِ» [ رواه مسلم ].

“তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি কোনো গর্হিত কাজ দেখবে, সে যেন তা নিজ হাত দ্বারা পরিবর্তন করে দেয়। যদি (তাতে) ক্ষমতা না রাখে, তাহলে নিজ যবান দ্বারা (উপদেশ দিয়ে পরিবর্তন করে)। যদি (তাতেও) সামর্থ্য না রাখে, তাহলে অন্তরের দ্বারা পরিবর্তন করবে (ঘৃণা করে)। [ [অন্তর দ্বার ঘৃণা করা হলো: খারাপ কাজটি ঘৃণা করা এবং সম্ভব হলে যে স্থানে খারাপ কর্ম হয় সে স্থান ত্যাগ করা।]] আর এ হল সবচেয়ে দুর্বল ঈমান।” [মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন]

আল্লাহর নিকট আমাদের প্রার্থনা হলো তিনি যেন আমাদেরকে ভালো কাজের আদেশ ও মন্দ কাজের নিষেধকারীদের অন্তর্ভুক্ত করেন। এতটুকু আলোচনাতে যথেষ্ট করছি। আল্লাহর ইচ্ছায় পরবতী দারসে আমরা ইসলামের সুন্দর চরিত্র বিষয়ে আলোচনা করব।