১
মজলিসের সৌরভ
লেখকঃ তুরকী ইবন ইবরাহীম আল-খানীযান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৭
মালায়েকাদের ওপর ঈমান
ঈমানের রুকন সম্পর্কে আমরা আমাদের আলোচনা পূর্ণ করব আর এ পাঠে আমরা ঈমানের দ্বিতীয় রুকন সম্পর্কে আলোচনা করব। আর তা হলো-
মালায়েকাদের প্রতি ঈমান আনা: আর তা হলো, আমরা বিশ্বাস করব যে, তারা বিদ্যমান আছেন এবং তারা সম্মানিত বান্দা। আল্লাহ তাদেরকে নূর দিয়ে সৃষ্টি করেছেন আর তাদেরকে তার আনুগত্যে নিয়োজিত রেখেছেন। তাদের যা নির্দেশ করা হয়েছে সে বিষয়ে তারা আল্লাহর নাফরমানি করেন না এবং তাদের যা আদেশ করা হয় তারা তাই করেন। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
آمَنَ الرَّسُولُ بِمَا أُنزِلَ إِلَيْهِ مِن رَّبِّهِ وَالْمُؤْمِنُونَ كُلٌّ آمَنَ بِالله وَمَلَائِكَتِهِ وَكُتُبِهِ وَرُسُلِهِ [ البقرة : 285].
“রাসূল তার নিকট তার রবের পক্ষ থেকে নাযিলকৃত বিষয়ের প্রতি ঈমান এনেছে, আর মুমিনগণও। প্রত্যেকে ঈমান এনেছে আল্লাহর উপর, তাঁর মালায়েকা, কিতাবসমূহ ও তাঁর রাসূলগণের উপর।” [আল-বাকারাহ : ২৮৫]
- মালায়েকা (ফিরিশতাগণ) হলেন আল্লাহ তা‘আলার অনুগত বান্দা। তাদের ব্যাপারে মহান আল্লাহ বলেন,
لَا يَسْبِقُونَهُ بِالْقَوْلِ وَهُم بِأَمْرِهِ يَعْمَلُونَ [ الأنبياء : 27]
“তারা তাঁর আগে বেড়ে কথা বলে না; তারা তো তাঁর আদেশ অনুসারেই কাজ করে থাকে।” [আল-আম্বিয়া : ২৭]
আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন,
لَّا يَعْصُونَ الله مَا أَمَرَهُمْ وَيَفْعَلُونَ مَا يُؤْمَرُونَ [ التحريم : 6].
“আল্লাহ তাদের যা নির্দেশ করেন সে বিষয়ে তারা তাঁর নাফরমানি করেন না আর তাদের যা আদেশ করা হয় তারা তাই করেন।” [আত-তাহরীম : ৬]
- তাদের সৃষ্টিগত গুণাবলী সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে তা হলো- মহান আল্লাহর বাণী:
الْحَمْدُ لِله فَاطِرِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ جَاعِلِ الْمَلَائِكَةِ رُسُلًا أُولِي أَجْنِحَةٍ مَّثْنَىٰ وَثُلَاثَ وَرُبَاعَ يَزِيدُ فِي الْخَلْقِ مَا يَشَاءُ إِنَّ الله عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ [ فاطر : 1]
“সকল প্রশংসা আসমানসমূহ ও যমীনের সৃষ্টিকর্তা আল্লাহরই, যিনি রাসূল করেন মালায়েকাদেরকে যারা দুই দুই, তিন তিন অথবা চার চার পক্ষবিশিষ্ট। তিনি সৃষ্টিতে যা ইচ্ছে বৃদ্ধি করেন। নিশ্চয় আল্লাহ সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান।” [ফাতির : ১]
আর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
«خُلِقَتِ الْمَلَائِكَةُ مِنْ نُورٍ» [ رواه مسلم
“মালায়েকাদের নূর দিয়ে সৃষ্টি করা হয়েছে।” [মুসলিম]
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেছেন,
«أُذِنَ لِي أَنْ أُحَدِّثَ عَنْ مَلَكٍ مِنْ مَلَائِكَةِ الله مِنْ حَمَلَةِ الْعَرْشِ إِنَّ مَا بَيْنَ شَحْمَةِ أُذُنِهِ إِلَى عَاتِقِهِ مَسِيرَةُ سَبْعِ مِائَةِ عَامٍ» [ رواه أبوداود ].
“আরশ বহনকারী আল্লাহর মালায়েকাদের থেকে একজন মালাক সম্পর্কে বর্ণনা দিতে আমাকে বলা হয়েছে—তার কানের লতি থেকে গাড় পর্যন্তের দূরত্ব হলো সাতশত বছরের রাস্তা।” [আবূ দাঊদ]
- তাদের নামসমূহ ও কর্মসমূহ সম্পর্কে নিম্ন লিখিত বর্ণনা এসেছে- জিবরীল আলাইহিস সালাম: তিনি অহীর জিম্মাদার। আল্লাহ বলেন,
نَزَلَ بِهِ الرُّوحُ الْأَمِينُ عَلَىٰ قَلْبِكَ [ الشعراء :193-194]
“তোমার অন্তরের ওপর (এ কুরআন) রুহুল আমীন নাযিল করেছেন।” [আশ-শুআরা : ১৯৩-১৯৪]
মিকাঈল আলাইহিস সালাম যিনি মেঘমালা ও বৃষ্টি বর্ষণের জিম্মাদার।
ইসরাফিল আলাইহিস সালাম। শিঙ্গায় ফুঁ দেওয়ার জিম্মাদার।
মালাকুল মাওত আলাইহিস সালাম, যিনি রুহসমূহ কবজ করার জিম্মাদার।
আরও কতক মালায়েকা: নিরাপত্তাদানকারী ও কিরামান কাতেবীন, জান্নাতের দারোয়ান, জাহান্নামের দারোয়ান ইত্যাদি যাদের সম্পর্কে আল্লাহ্ ছাড়া আর কেউ জানে না।
- মালায়েকাদের প্রতি ঈমান আনা তাদের ভালোবাসা ও মুহাব্বাতকে দাবি করে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
مَن كَانَ عَدُوًّا لله وَمَلَائِكَتِهِ وَرُسُلِهِ وَجِبْرِيلَ وَمِيكَالَ فَإِنَّ الله عَدُوٌّ لِّلْكَافِرِينَ [ البقرة :98].
“যে কেউ আল্লাহ, তাঁর মালায়েকা, তাঁর রাসূলগণ এবং জিব্রীল ও মীকাঈলের শত্রু হবে, তবে নিশ্চয় আল্লাহ কাফেরদের শত্রু।” [আল-বাকারাহ : ৯৮]
একজন মুসলিমের ওপর দায়িত্ব হলো মালায়েকাদের কষ্ট হয় বা খারাপ লাগে এমন সব কর্ম থেকে বিরত থাকা। এ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন,
«مَنْ أَكَلَ الْبَصَلَ، وَالثُّومَ، وَالْكُرَّاثَ، فَلَا يَقْرَبَنَّ مَسْجِدَنَا، فَإِنَّ الْمَلَائِكَةَ تَتَأَذَّى مِمَّا يَتَأَذَّى مِنْهُ بَنُو آدَمَ » [ رواه مسلم ]
“যে ব্যক্তি পেয়াজ, রসুন ও দূর্গন্ধ যাতীয় কিছু খায়, সে যেন আমাদের মসজিদসমূহের কাছে না আসে। কারণ যে সব বস্তুর কারণে আদম সন্তান কষ্ট পায় তাতে মালায়েকাও কষ্ট পায়।” [মুসলিম]
অনুরূপভাবে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী:
«لَا تَدْخُلُ الْمَلَائِكَةُ بَيْتًا فِيهِ كَلْبٌ وَلَا صُورَةٌ» [ رواه مسلم ].
“মালায়েকা সে ঘরে প্রবেশ করে না, যে ঘরে কুকুর ও ছবি রয়েছে।” [মুসলিম]
আল্লাহ আমাদেরকে তাদের অন্তর্ভুক্ত করুন যারা মালায়েকার প্রতি বিশ্বাস করেন তাদের মুহাব্বাত করেন এবং তাদের কষ্ট হয় এমন কাজ থেকে বিরত থাকেন। আল্লাহর ইচ্ছায় পরবর্তী দারসে আমরা ঈমানের রুকনসমূহ হতে তৃতীয় রুকন অর্থাৎ কিতাবসমূহের প্রতি ঈমান আনা বিষয়ে আলোচনা করব।
মালায়েকাদের প্রতি ঈমান আনা: আর তা হলো, আমরা বিশ্বাস করব যে, তারা বিদ্যমান আছেন এবং তারা সম্মানিত বান্দা। আল্লাহ তাদেরকে নূর দিয়ে সৃষ্টি করেছেন আর তাদেরকে তার আনুগত্যে নিয়োজিত রেখেছেন। তাদের যা নির্দেশ করা হয়েছে সে বিষয়ে তারা আল্লাহর নাফরমানি করেন না এবং তাদের যা আদেশ করা হয় তারা তাই করেন। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
آمَنَ الرَّسُولُ بِمَا أُنزِلَ إِلَيْهِ مِن رَّبِّهِ وَالْمُؤْمِنُونَ كُلٌّ آمَنَ بِالله وَمَلَائِكَتِهِ وَكُتُبِهِ وَرُسُلِهِ [ البقرة : 285].
“রাসূল তার নিকট তার রবের পক্ষ থেকে নাযিলকৃত বিষয়ের প্রতি ঈমান এনেছে, আর মুমিনগণও। প্রত্যেকে ঈমান এনেছে আল্লাহর উপর, তাঁর মালায়েকা, কিতাবসমূহ ও তাঁর রাসূলগণের উপর।” [আল-বাকারাহ : ২৮৫]
- মালায়েকা (ফিরিশতাগণ) হলেন আল্লাহ তা‘আলার অনুগত বান্দা। তাদের ব্যাপারে মহান আল্লাহ বলেন,
لَا يَسْبِقُونَهُ بِالْقَوْلِ وَهُم بِأَمْرِهِ يَعْمَلُونَ [ الأنبياء : 27]
“তারা তাঁর আগে বেড়ে কথা বলে না; তারা তো তাঁর আদেশ অনুসারেই কাজ করে থাকে।” [আল-আম্বিয়া : ২৭]
আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন,
لَّا يَعْصُونَ الله مَا أَمَرَهُمْ وَيَفْعَلُونَ مَا يُؤْمَرُونَ [ التحريم : 6].
“আল্লাহ তাদের যা নির্দেশ করেন সে বিষয়ে তারা তাঁর নাফরমানি করেন না আর তাদের যা আদেশ করা হয় তারা তাই করেন।” [আত-তাহরীম : ৬]
- তাদের সৃষ্টিগত গুণাবলী সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে তা হলো- মহান আল্লাহর বাণী:
الْحَمْدُ لِله فَاطِرِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ جَاعِلِ الْمَلَائِكَةِ رُسُلًا أُولِي أَجْنِحَةٍ مَّثْنَىٰ وَثُلَاثَ وَرُبَاعَ يَزِيدُ فِي الْخَلْقِ مَا يَشَاءُ إِنَّ الله عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ [ فاطر : 1]
“সকল প্রশংসা আসমানসমূহ ও যমীনের সৃষ্টিকর্তা আল্লাহরই, যিনি রাসূল করেন মালায়েকাদেরকে যারা দুই দুই, তিন তিন অথবা চার চার পক্ষবিশিষ্ট। তিনি সৃষ্টিতে যা ইচ্ছে বৃদ্ধি করেন। নিশ্চয় আল্লাহ সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান।” [ফাতির : ১]
আর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
«خُلِقَتِ الْمَلَائِكَةُ مِنْ نُورٍ» [ رواه مسلم
“মালায়েকাদের নূর দিয়ে সৃষ্টি করা হয়েছে।” [মুসলিম]
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেছেন,
«أُذِنَ لِي أَنْ أُحَدِّثَ عَنْ مَلَكٍ مِنْ مَلَائِكَةِ الله مِنْ حَمَلَةِ الْعَرْشِ إِنَّ مَا بَيْنَ شَحْمَةِ أُذُنِهِ إِلَى عَاتِقِهِ مَسِيرَةُ سَبْعِ مِائَةِ عَامٍ» [ رواه أبوداود ].
“আরশ বহনকারী আল্লাহর মালায়েকাদের থেকে একজন মালাক সম্পর্কে বর্ণনা দিতে আমাকে বলা হয়েছে—তার কানের লতি থেকে গাড় পর্যন্তের দূরত্ব হলো সাতশত বছরের রাস্তা।” [আবূ দাঊদ]
- তাদের নামসমূহ ও কর্মসমূহ সম্পর্কে নিম্ন লিখিত বর্ণনা এসেছে- জিবরীল আলাইহিস সালাম: তিনি অহীর জিম্মাদার। আল্লাহ বলেন,
نَزَلَ بِهِ الرُّوحُ الْأَمِينُ عَلَىٰ قَلْبِكَ [ الشعراء :193-194]
“তোমার অন্তরের ওপর (এ কুরআন) রুহুল আমীন নাযিল করেছেন।” [আশ-শুআরা : ১৯৩-১৯৪]
মিকাঈল আলাইহিস সালাম যিনি মেঘমালা ও বৃষ্টি বর্ষণের জিম্মাদার।
ইসরাফিল আলাইহিস সালাম। শিঙ্গায় ফুঁ দেওয়ার জিম্মাদার।
মালাকুল মাওত আলাইহিস সালাম, যিনি রুহসমূহ কবজ করার জিম্মাদার।
আরও কতক মালায়েকা: নিরাপত্তাদানকারী ও কিরামান কাতেবীন, জান্নাতের দারোয়ান, জাহান্নামের দারোয়ান ইত্যাদি যাদের সম্পর্কে আল্লাহ্ ছাড়া আর কেউ জানে না।
- মালায়েকাদের প্রতি ঈমান আনা তাদের ভালোবাসা ও মুহাব্বাতকে দাবি করে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
مَن كَانَ عَدُوًّا لله وَمَلَائِكَتِهِ وَرُسُلِهِ وَجِبْرِيلَ وَمِيكَالَ فَإِنَّ الله عَدُوٌّ لِّلْكَافِرِينَ [ البقرة :98].
“যে কেউ আল্লাহ, তাঁর মালায়েকা, তাঁর রাসূলগণ এবং জিব্রীল ও মীকাঈলের শত্রু হবে, তবে নিশ্চয় আল্লাহ কাফেরদের শত্রু।” [আল-বাকারাহ : ৯৮]
একজন মুসলিমের ওপর দায়িত্ব হলো মালায়েকাদের কষ্ট হয় বা খারাপ লাগে এমন সব কর্ম থেকে বিরত থাকা। এ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন,
«مَنْ أَكَلَ الْبَصَلَ، وَالثُّومَ، وَالْكُرَّاثَ، فَلَا يَقْرَبَنَّ مَسْجِدَنَا، فَإِنَّ الْمَلَائِكَةَ تَتَأَذَّى مِمَّا يَتَأَذَّى مِنْهُ بَنُو آدَمَ » [ رواه مسلم ]
“যে ব্যক্তি পেয়াজ, রসুন ও দূর্গন্ধ যাতীয় কিছু খায়, সে যেন আমাদের মসজিদসমূহের কাছে না আসে। কারণ যে সব বস্তুর কারণে আদম সন্তান কষ্ট পায় তাতে মালায়েকাও কষ্ট পায়।” [মুসলিম]
অনুরূপভাবে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী:
«لَا تَدْخُلُ الْمَلَائِكَةُ بَيْتًا فِيهِ كَلْبٌ وَلَا صُورَةٌ» [ رواه مسلم ].
“মালায়েকা সে ঘরে প্রবেশ করে না, যে ঘরে কুকুর ও ছবি রয়েছে।” [মুসলিম]
আল্লাহ আমাদেরকে তাদের অন্তর্ভুক্ত করুন যারা মালায়েকার প্রতি বিশ্বাস করেন তাদের মুহাব্বাত করেন এবং তাদের কষ্ট হয় এমন কাজ থেকে বিরত থাকেন। আল্লাহর ইচ্ছায় পরবর্তী দারসে আমরা ঈমানের রুকনসমূহ হতে তৃতীয় রুকন অর্থাৎ কিতাবসমূহের প্রতি ঈমান আনা বিষয়ে আলোচনা করব।