hadith book logo

মজলিসের সৌরভ

লেখকঃ তুরকী ইবন ইবরাহীম আল-খানীযান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৩৬

মুসল্লীদের ভুল-ত্রুটি (৩)

কতক মুসল্লির ভুল-ত্রুটি বিষয়ে আমাদের আলোচনা সম্পন্ন করবো।

- আরেকটি ভুল: মাসবুকের ইমাম যদি সেজদা অবস্থা বা বসা অবস্থায় থাকে তখন ইমামের দাঁড়ানোর অপেক্ষায় সালাতে শরীক না হওয়া। অথচ বিধান হলো যেই রুকনেই ইমামকে পাওয়া যাবে তাতে শরীক হওয়া। কারণ, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীসটি ব্যাপক।

«فَمَا أَدْرَكْتُمْ، فَصَلُّوا، وَمَا فَاتَكُمْ فَأَتِمُّوا» [ رواه البخاري ].

“যতটুকু পাও তা আদায় করো আর যতটুকু ছুটে গেছে তা পূর্ণ কর।” [বর্ণনায় বুখারী]

- যে ভুল সালাত বাতিল করে, তা হলো সাত অঙ্গের ওপর সেজদা না করা। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

«أُمِرْتُ أَنْ أَسْجُدَ عَلَى سَبْعَةِ أَعْظُمٍ : عَلَى الْجَبْهَةِ - وَأَشَارَ بِيَدِهِ عَلَى أَنْفِهِ، وَالْيَدَيْنِ، وَالرُّكْبَتَيْنِ، وَأَطْرَافِ الْقَدَمَيْنِ» [ متفق عليه ]

“আমি সাতটি অঙ্গের দ্বারা সাজদাহ্ করার জন্য নির্দেশিত হয়েছি। কপালের উপর এবং তিনি হাত দিয়ে নাকের প্রতি ইশারা করে নাককে এর অন্তর্ভুক্ত করেন, আর দু’ হাত, দু’ হাঁটু এবং দু’ পায়ের আঙ্গুলসমূহের উপর।” [মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)

- কতক মুসল্লি সেজদার অবস্থায় দুই পা যমীন থেকে সামান্য তুলে ফেলে অথবা এক পা আরেক পায়ের ওপর রাখে আবার কেউ কেউ নাক বা কপাল যমীনে লাগায় না। এটি সালাত বিনষ্টকারী।

- সেজদায় আরেকটি ভুল: বাহুদ্বয়কে যমীনে বিছিয়ে দেয়া। অথচ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা থেকে নিষেধ করেছেন,

«اعْتَدِلُوا فِي السُّجُودِ وَلَا يَبْسُطْ أَحَدُكُمْ ذِرَاعَيْهِ انْبِسَاطَ الْكَلْبِ» [ متفق عليه ].

“তোমরা সিজদায় মধ্যপন্থা অবলম্বন করো। তোমাদের কেউ যেন তার বাহুদ্বয় কুকুরের ন্যায় বিছিয়ে না রাখে।” [মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)] মধ্যপন্থা দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, বিছিয়ে দেওয়া এবং পাকড়া ও বক্রতার মাঝে মধ্যপন্থা অবলম্বন করা। সেজদা আলাদায় রাখা এবং দূরে থাকা সুন্নাত। আর তার পদ্ধতি হলো কনুদ্বয়কে উঁচা করা এবং দুই বাহুকে দুই পার্শ্ব থেকে দূরে রাখা। আর পেটকে দুই উরু থেকে এবং দুই উরুকে দুই গোড়ালি থেকে দুরে রাখা। এ গুলো সবই কোনো প্রকার বাড়াবাড়ি ছাড়া সাধ্য অনুযায়ী বা পাশের কাউকে কষ্ট না দিয়ে করবে।

- আরো ভূল: সালাতে ইমামের অনুসরণ না করা। যেমন, কারো ইমামের আগে চলা বা সাথে সাথে চলা বা তার থেকে দেরী করা। অথচ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

« إِنَّمَا جُعِلَ الإِمَامُ لِيُؤْتَمَّ بِهِ، فَإِذَا كَبَّرَ فَكَبِّرُوا، وإِذَا سَجَدَ فَاسْجُدُوا، وإِذَا رَفَعَ فَارْفَعُوا» [ متفق عليه ]

“ইমাম এজন্যে যে, মুক্তাদীরা তার অনুসরণ করবে। সুতরাং ইমাম তাকবীর বললে তোমরাও তাকবীর বলবে, তিনি সেজদা করলে তোমরাও সেজদা করবে। তিনি মাথা তুললে তোমরাও মাথা তুলবে।” [মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)]

রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেছেন,

«أَمَا يَخْشَى أَحَدُكُمْ أَحَدُكُمْ إِذَا رَفَعَ رَأْسَهُ قَبْلَ الْإِمَامِ أَنْ يَجْعَلَ الله رَأْسَهُ رَأْسَ حِمَارٍ أَوْ يَجْعَلَ الله صُورَتَهُ صُورَةَ حِمَارٍ» [ رواه البخاري ].

“তোমাদের কেউ যখন ইমামের আগে মাথা তোলে, তখন তার মনে কি ভয় হয় না যে, মহান আল্লাহ তার মাথা, গাধার মাথায় পরিণত ক’রে দেবেন অথবা তার আকৃতি গাধার আকৃতি ক’রে দেবেন?” [এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন]

আল্লাহ আমাদেরকে উপকারী ইলমের সরু পথে ও তার আলোতে পথচারীদের অন্তর্ভুক্ত করুন। এতটুকুতে যথেষ্ট করছি। আল্লাহর ইচ্ছায় পরবর্তী দারসে আলোচনা সম্পন্ন করবো।