১
মজলিসের সৌরভ
লেখকঃ তুরকী ইবন ইবরাহীম আল-খানীযান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১২
তাকাদীরের ভালো ও মন্দের প্রতি ঈমান আনা
এ দারসে ঈমানের রুকনসমূহ হতে ষষ্ঠ রুকন অর্থাৎ তাকাদীরের ভালো ও মন্দের প্রতি ঈমান আনা বিষয়ে আলোচনা করব। আর তা হচ্ছে:
তাকাদীরের ভালো ও মন্দের প্রতি ঈমান আনা: আর তা হলো আমাদের ঈমান আনা যে, যাবতীয় কল্যাণ ও অকল্যাণ আল্লাহর ফায়সালায় ও নির্ধারণের কারণে হয়ে থাকে। আর আল্লাহ কোনো কিছু হওয়ার আগে তা যে হবে তা জানতেন। এটি তার নিকট লাওহে মাহফুযে লিপিবদ্ধ করেছেন। আর কোনো কিছুই আল্লাহর ইচ্ছা ছাড়া হয় না। আল্লাহ প্রতি বস্তুর স্রষ্টা এবং তিনি যা চান তাই করেন।
- আল্লাহ তা‘আলা প্রতিটি বস্তু সম্পর্কে নিজের পূর্বইলম থাকা এবং নিজের জন্যে তা লিপিবদ্ধ করার সংবাদ দিয়ে বলেন,
أَلَمْ تَعْلَمْ أَنَّ الله يَعْلَمُ مَا فِي السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ إِنَّ ذَٰلِكَ فِي كِتَابٍ إِنَّ ذَٰلِكَ عَلَى الله يَسِيرٌ [ الحج : 70]
“আপনি কি জানেন না যে, আসমান ও যমীনে যা কিছু আছে আল্লাহ তা জানেন। এসবই তো আছে এক কিতাবে; নিশ্চয় তা আল্লাহর নিকট অতি সহজ।” [আল-হজ: ৭০]
আব্দুল্লাহ ইবন আমর ইবনুল আস রাযিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি,
«كَتَبَ اللـه مَقَادِيرَ الْخَلَائِقِ قَبْلَ أَنْ يَخْلُقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ بِخَمْسِينَ أَلْفَ سَنَةٍ قَالَ : وَعَرْشُهُ عَلَى الْمَاءِ» [ رواه مسلم ]
“আসমানসমূহ ও যমীন সৃষ্টির পঞ্চাশ হাজার বছর পূর্বে আল্লাহ তা‘আলা মাখলুকের ভাগ্য লিপিবদ্ধ করেন। তিনি বলেন, আর তাঁর আরশ ছিল পানির ওপর।” [হাদীসটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন]।
আল্লাহ তা‘আলা প্রতিটি বস্তুতে তাঁর ইচ্ছা কার্যকর হওয়ার বর্ণনা দিয়ে বলেন,
وَمَا تَشَاءُونَ إِلَّا أَن يَشَاءَ اللـه رَبُّ الْعَالَمِينَ [ التكوير : 29]
“আর তোমরা ইচ্ছে করতে পার না, যদি না সৃষ্টিকুলের রব আল্লাহ্ ইচ্ছে করেন।” [আত-তাকবীর: ২৯]
আল্লাহ সুবহানাহু স্পষ্টভাবে বলেন যে, তিনিই সমগ্র জগত ও তাদের আমলসমূহ সৃষ্টি করেছেন,
وَالله خَلَقَكُمْ وَمَا تَعْمَلُونَ [ الصافات : 96].
“অথচ আল্লাহ্ই তোমাদেরকে এবং তোমরা যা কর তা সৃষ্টি করেছেন।” [আস-সাফফাত: ৯৬]
- তাকদীরের ওপর ঈমান বিশুদ্ধ হওয়ার অত্যাবশ্যকীয় বিষয়গুলোর মধ্যে অন্যতম হলো, আমরা ঈমান আনব যে-
- বান্দার ইচ্ছা ও স্বাধীনতা রয়েছে যার ফলে তার কর্মসমূহ সংঘটিত হয়, যেমন মহান আল্লাহ বলেন,
لِمَن شَاءَ مِنكُمْ أَن يَسْتَقِيمَ [ التكوير : 28]
“তোমাদের মধ্যে যে সরল পথে চলতে চায়, তার জন্য।” [আত-তাকবীর : ২৮]
আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
لَا يُكَلِّفُ الله نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا [ البقرة : 286].
“আল্লাহ কাউকে তার সাধ্যের বাইরে দায়িত্ব দেন না।” [আল-বাকারাহ : ২৮৬]
- বান্দার চাওয়া ও তার কুদরাত আল্লাহর কুদরাত ও ইচ্ছার বাহিরে নয়। তিনিই বান্দাকে তা দিয়েছেন এবং তাকে গ্রহণ করার সক্ষম বানিয়েছেন।
যেমন আল্লাহ বলেন,
وَمَا تَشَاءُونَ إِلَّا أَن يَشَاءَ الله رَبُّ الْعَالَمِينَ [ التكوير : 29].
“আর তোমরা ইচ্ছে করতে পার না, যদি না সৃষ্টিকুলের রব আল্লাহ্ ইচ্ছে করেন।” [আত-তাকবীর : ২৯]
- আর আমরা ঈমান আনব যে, কদর হলো মাখলুকের মধ্যে আল্লাহর রহস্য। তিনি আমাদের জন্য যা বর্ণনা করেছেন আমরা তা জানি এবং তার প্রতি ঈমান আনি আর যা আমাদের থেকে অদৃশ্য তা আমরা মেনে নিই এবং তার প্রতি ঈমান আনি। আর আমরা আমাদের অসম্পূর্ণ জ্ঞান ও দুর্বল বুদ্ধি দ্বারা তাঁর বিধান ও কর্মসমূহে আল্লাহর সাথে বিবাদ করি না। বরং আমরা আল্লাহর পরিপূর্ণ ইনসাফ ও তাঁর অসীম প্রজ্ঞার ওপর ঈমান আনি। আর আল্লাহ যা করেন সে সম্পর্কে তাকে জিজ্ঞাসা করা যাবে না।
আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যে, তিনি আমাদের জন্য কল্যাণের ফায়সালা করুন ও তার মাধ্যমসমূহ আমাদের জন্যে প্রস্তুত করে দিন। আর তাতে আমাদের সন্তুষ্ট ও প্রশান্ত চিত্ত থাকার তাওফীক দান করুন। এতটুকুতে যথেষ্ট করছি। আল্লাহর ইচ্ছায় পরবর্তী দারসে তাকদীরের ভালো ও মন্দের প্রতি ঈমানের ফলাফল সম্পর্কে আলোচনা করব।
তাকাদীরের ভালো ও মন্দের প্রতি ঈমান আনা: আর তা হলো আমাদের ঈমান আনা যে, যাবতীয় কল্যাণ ও অকল্যাণ আল্লাহর ফায়সালায় ও নির্ধারণের কারণে হয়ে থাকে। আর আল্লাহ কোনো কিছু হওয়ার আগে তা যে হবে তা জানতেন। এটি তার নিকট লাওহে মাহফুযে লিপিবদ্ধ করেছেন। আর কোনো কিছুই আল্লাহর ইচ্ছা ছাড়া হয় না। আল্লাহ প্রতি বস্তুর স্রষ্টা এবং তিনি যা চান তাই করেন।
- আল্লাহ তা‘আলা প্রতিটি বস্তু সম্পর্কে নিজের পূর্বইলম থাকা এবং নিজের জন্যে তা লিপিবদ্ধ করার সংবাদ দিয়ে বলেন,
أَلَمْ تَعْلَمْ أَنَّ الله يَعْلَمُ مَا فِي السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ إِنَّ ذَٰلِكَ فِي كِتَابٍ إِنَّ ذَٰلِكَ عَلَى الله يَسِيرٌ [ الحج : 70]
“আপনি কি জানেন না যে, আসমান ও যমীনে যা কিছু আছে আল্লাহ তা জানেন। এসবই তো আছে এক কিতাবে; নিশ্চয় তা আল্লাহর নিকট অতি সহজ।” [আল-হজ: ৭০]
আব্দুল্লাহ ইবন আমর ইবনুল আস রাযিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি,
«كَتَبَ اللـه مَقَادِيرَ الْخَلَائِقِ قَبْلَ أَنْ يَخْلُقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ بِخَمْسِينَ أَلْفَ سَنَةٍ قَالَ : وَعَرْشُهُ عَلَى الْمَاءِ» [ رواه مسلم ]
“আসমানসমূহ ও যমীন সৃষ্টির পঞ্চাশ হাজার বছর পূর্বে আল্লাহ তা‘আলা মাখলুকের ভাগ্য লিপিবদ্ধ করেন। তিনি বলেন, আর তাঁর আরশ ছিল পানির ওপর।” [হাদীসটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন]।
আল্লাহ তা‘আলা প্রতিটি বস্তুতে তাঁর ইচ্ছা কার্যকর হওয়ার বর্ণনা দিয়ে বলেন,
وَمَا تَشَاءُونَ إِلَّا أَن يَشَاءَ اللـه رَبُّ الْعَالَمِينَ [ التكوير : 29]
“আর তোমরা ইচ্ছে করতে পার না, যদি না সৃষ্টিকুলের রব আল্লাহ্ ইচ্ছে করেন।” [আত-তাকবীর: ২৯]
আল্লাহ সুবহানাহু স্পষ্টভাবে বলেন যে, তিনিই সমগ্র জগত ও তাদের আমলসমূহ সৃষ্টি করেছেন,
وَالله خَلَقَكُمْ وَمَا تَعْمَلُونَ [ الصافات : 96].
“অথচ আল্লাহ্ই তোমাদেরকে এবং তোমরা যা কর তা সৃষ্টি করেছেন।” [আস-সাফফাত: ৯৬]
- তাকদীরের ওপর ঈমান বিশুদ্ধ হওয়ার অত্যাবশ্যকীয় বিষয়গুলোর মধ্যে অন্যতম হলো, আমরা ঈমান আনব যে-
- বান্দার ইচ্ছা ও স্বাধীনতা রয়েছে যার ফলে তার কর্মসমূহ সংঘটিত হয়, যেমন মহান আল্লাহ বলেন,
لِمَن شَاءَ مِنكُمْ أَن يَسْتَقِيمَ [ التكوير : 28]
“তোমাদের মধ্যে যে সরল পথে চলতে চায়, তার জন্য।” [আত-তাকবীর : ২৮]
আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
لَا يُكَلِّفُ الله نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا [ البقرة : 286].
“আল্লাহ কাউকে তার সাধ্যের বাইরে দায়িত্ব দেন না।” [আল-বাকারাহ : ২৮৬]
- বান্দার চাওয়া ও তার কুদরাত আল্লাহর কুদরাত ও ইচ্ছার বাহিরে নয়। তিনিই বান্দাকে তা দিয়েছেন এবং তাকে গ্রহণ করার সক্ষম বানিয়েছেন।
যেমন আল্লাহ বলেন,
وَمَا تَشَاءُونَ إِلَّا أَن يَشَاءَ الله رَبُّ الْعَالَمِينَ [ التكوير : 29].
“আর তোমরা ইচ্ছে করতে পার না, যদি না সৃষ্টিকুলের রব আল্লাহ্ ইচ্ছে করেন।” [আত-তাকবীর : ২৯]
- আর আমরা ঈমান আনব যে, কদর হলো মাখলুকের মধ্যে আল্লাহর রহস্য। তিনি আমাদের জন্য যা বর্ণনা করেছেন আমরা তা জানি এবং তার প্রতি ঈমান আনি আর যা আমাদের থেকে অদৃশ্য তা আমরা মেনে নিই এবং তার প্রতি ঈমান আনি। আর আমরা আমাদের অসম্পূর্ণ জ্ঞান ও দুর্বল বুদ্ধি দ্বারা তাঁর বিধান ও কর্মসমূহে আল্লাহর সাথে বিবাদ করি না। বরং আমরা আল্লাহর পরিপূর্ণ ইনসাফ ও তাঁর অসীম প্রজ্ঞার ওপর ঈমান আনি। আর আল্লাহ যা করেন সে সম্পর্কে তাকে জিজ্ঞাসা করা যাবে না।
আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যে, তিনি আমাদের জন্য কল্যাণের ফায়সালা করুন ও তার মাধ্যমসমূহ আমাদের জন্যে প্রস্তুত করে দিন। আর তাতে আমাদের সন্তুষ্ট ও প্রশান্ত চিত্ত থাকার তাওফীক দান করুন। এতটুকুতে যথেষ্ট করছি। আল্লাহর ইচ্ছায় পরবর্তী দারসে তাকদীরের ভালো ও মন্দের প্রতি ঈমানের ফলাফল সম্পর্কে আলোচনা করব।