১
মজলিসের সৌরভ
লেখকঃ তুরকী ইবন ইবরাহীম আল-খানীযান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৫৯
মুসলিমের খাবারের বিধান
এ পাঠে আমরা এমন সব বিধান আলোচনা করব যা মুসলিমের খাদ্যের সাথে সম্পৃক্ত। খাবারের মধ্যে আসল হলো হালাল হওয়া। তবে যার হারাম হওয়ার ওপর কোনো প্রমাণ থাকে সেটি বাদে।
- যে সব খাবার ইসলাম হারাম করেছে: মৃত জন্তু: আর তা হলো এমন জন্তু যেটি শরয়ী নিয়ম অনুযায়ী যবেহ করা হয়নি। এ থেকে বাদ পড়বে মাছ এবং যা পানিতে ছাড়া কোথাও বাস করে না। এগুলোকে জবেহ করার শর্ত নেই। অনুরীপভাবে ফড়িং। কারণ, দুটিকে বাদ দেওয়ার বিষয়টি হাদীসে বর্ণিত হয়েছে।
- হারামের মধ্যে আরও রয়েছে, শুকর, প্রবাহিত রক্ত এবং যে গুলো গাইরুল্লাহর নামে যবেহ করা হয়েছে। যেমন, যে গুলো মুর্তির নামে বা ওলীদের নামে বা জিনের নামে যবেহ করা হয় তাদের সম্মানে বা তাদের ভয়ে। আল্লাহ বলেন,
حُرِّمَتْ عَلَيْكُمُ الْمَيْتَةُ وَالدَّمُ وَلَحْمُ الْخِنزِيرِ وَمَا أُهِلَّ لِغَيْرِ الله بِهِ [ المائدة : 3].
“তোমাদের ওপর মৃত, রক্ত ও শুকরের গোস্ত হারাম করা হয়েছে এবং যা গাইরুল্লাহর নামে যবে করা হয় তা হারাম করা হয়েছে।” [আল-মায়েদা : ৩]
- আরও যে সব জন্তু খাওয়া হারাম: এমন প্রাণী যার নখ আছে যা দ্বারা সে শিকার করে। যেমন, বাঘ, শিংহ, চিতা, কুকুর, বিড়াল ইত্যাদি।
- আরও যে সব প্রাণী খাওয়া হারাম: এমন পাখি যার নখ আছে যার দ্বারা সে শিকার করে যেমন, বাজপাখী, ঈগল, চিল ইত্যাদি।
ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন,
«نَهَى رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ كُلِّ ذِي نَابٍ مِنَ السِّبَاعِ، وَعَنْ كُلِّ ذِي مِخْلَبٍ مِنَ الطَّيْر» [ رواه مسلم ].
“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নখ বিশিষ্ট জন্তু খেতে নিষেধ করেছেন এবং নখ বিশিষ্ট পাখি খেতে নিষেধ করেছেন।” [মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন]
- হারাম খাদ্যের মধ্যে আরও রয়েছে তা হলো বিভিন ধরন ও নামের নেশাজাত বস্তু। যেমন, গাজা যা মাতাল করে, মদ যে নামেই হোক না কেন, ড্রাগ ইত্যাদি যা নেশা তৈরি করে এবং মাতাল করে।“ কারণ, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
«ما أَسْكَرَ كثيرُه؛ فقليلُه حرامٌ» [ رواه النسائي وابن ماجه وأحمد وصححه الألباني ].
“যা মাতাল করে তার কম ও বেশি হারাম।” [বর্ণনায় নাসাঈ, ইবন মাযাহ, আহমাদ। এটিকে আলবানী সহীহ বলেছেন]
- অপবিত্র জিনিষ খাওয়া হারাম এবং যে সব খাদ্য, পানীয়, ঔষধ মানুষের ক্ষতি করে তা হারাম। যেমন, সিগারেট, এলকহেল, শিশা ইত্যাদি। কারণ, আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
ولاَ تَقْتُلُواْ أَنفُسَكُمْ إِنَّ الله كَانَ بِكُمْ رَحِيمًا [ النساء : 29]
“তোমরা নিজেদের হত্যা করো না। নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের প্রতি অতি দয়ালু।” [আন-নিসা : ২৯]
আল্লাহ তা‘আলার আরও বাণী,
وَيُحَرِّمُ عَلَيْهِمُ الْخَبَائِثَ [ الأعراف :157]
“আর তাদের ওপর অপবিত্র বস্তুসমূহ নিষিদ্ধ করেন।” [আল-আরাফ : ১৫৭]
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
«لَا ضَرَرَ وَلَا ضِرَار» [ رواه ابن ماجه وصححه الألباني ].
“নিজের ও অন্যের ক্ষতি করা যাবে না।” [এটি ইবন মাজাাহ বর্ণনা করেছেন আর আলবানী তা সহীহ বলেছেন]
- শরী‘আত যে সব জন্তু সুনির্দিষ্টভাবে হারাম করেছে তা হলো: খচ্চর, গৃহ পালিত গাধা, অর্থাৎ যে গাধা বোঝা বহন করা ও বাহনের জন্য ব্যবহার করা হয়। জাবের রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন,
«ذَبَحْنَا يَوْمَ خَيْبَرَ الْخَيْلَ، وَالْبِغَالَ، وَالْحَمِيرَ، فَنَهَانَا رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم عَنِ الْبِغَالِ، وَالْحَمِيرِ، وَلَمْ يَنْهَنَا عَنِ الْخَيْلِ» [ رواه أبوداود وصححه الألباني ].
“খাইবারের দিন আমরা ঘোড়া, খচ্চর ও গাধা যবেহ করলাম। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে খচ্চর ও গাধা যবেহ করতে নিষেধ করেছেন। তবে ঘোড়া যবেহ করতে নিষেধ করেননি।” [এটি আবূ দাউদ বর্ণনা করেছেন আর আলবানী তা সহীহ বলেছেন।]
এতটুকুতে যথেষ্ট করছি। আল্লাহর ইচ্ছায় পরবতী দারসে আমরা খাবারের আদব সম্পর্কে আলোচনা করব।
- যে সব খাবার ইসলাম হারাম করেছে: মৃত জন্তু: আর তা হলো এমন জন্তু যেটি শরয়ী নিয়ম অনুযায়ী যবেহ করা হয়নি। এ থেকে বাদ পড়বে মাছ এবং যা পানিতে ছাড়া কোথাও বাস করে না। এগুলোকে জবেহ করার শর্ত নেই। অনুরীপভাবে ফড়িং। কারণ, দুটিকে বাদ দেওয়ার বিষয়টি হাদীসে বর্ণিত হয়েছে।
- হারামের মধ্যে আরও রয়েছে, শুকর, প্রবাহিত রক্ত এবং যে গুলো গাইরুল্লাহর নামে যবেহ করা হয়েছে। যেমন, যে গুলো মুর্তির নামে বা ওলীদের নামে বা জিনের নামে যবেহ করা হয় তাদের সম্মানে বা তাদের ভয়ে। আল্লাহ বলেন,
حُرِّمَتْ عَلَيْكُمُ الْمَيْتَةُ وَالدَّمُ وَلَحْمُ الْخِنزِيرِ وَمَا أُهِلَّ لِغَيْرِ الله بِهِ [ المائدة : 3].
“তোমাদের ওপর মৃত, রক্ত ও শুকরের গোস্ত হারাম করা হয়েছে এবং যা গাইরুল্লাহর নামে যবে করা হয় তা হারাম করা হয়েছে।” [আল-মায়েদা : ৩]
- আরও যে সব জন্তু খাওয়া হারাম: এমন প্রাণী যার নখ আছে যা দ্বারা সে শিকার করে। যেমন, বাঘ, শিংহ, চিতা, কুকুর, বিড়াল ইত্যাদি।
- আরও যে সব প্রাণী খাওয়া হারাম: এমন পাখি যার নখ আছে যার দ্বারা সে শিকার করে যেমন, বাজপাখী, ঈগল, চিল ইত্যাদি।
ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন,
«نَهَى رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ كُلِّ ذِي نَابٍ مِنَ السِّبَاعِ، وَعَنْ كُلِّ ذِي مِخْلَبٍ مِنَ الطَّيْر» [ رواه مسلم ].
“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নখ বিশিষ্ট জন্তু খেতে নিষেধ করেছেন এবং নখ বিশিষ্ট পাখি খেতে নিষেধ করেছেন।” [মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন]
- হারাম খাদ্যের মধ্যে আরও রয়েছে তা হলো বিভিন ধরন ও নামের নেশাজাত বস্তু। যেমন, গাজা যা মাতাল করে, মদ যে নামেই হোক না কেন, ড্রাগ ইত্যাদি যা নেশা তৈরি করে এবং মাতাল করে।“ কারণ, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
«ما أَسْكَرَ كثيرُه؛ فقليلُه حرامٌ» [ رواه النسائي وابن ماجه وأحمد وصححه الألباني ].
“যা মাতাল করে তার কম ও বেশি হারাম।” [বর্ণনায় নাসাঈ, ইবন মাযাহ, আহমাদ। এটিকে আলবানী সহীহ বলেছেন]
- অপবিত্র জিনিষ খাওয়া হারাম এবং যে সব খাদ্য, পানীয়, ঔষধ মানুষের ক্ষতি করে তা হারাম। যেমন, সিগারেট, এলকহেল, শিশা ইত্যাদি। কারণ, আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
ولاَ تَقْتُلُواْ أَنفُسَكُمْ إِنَّ الله كَانَ بِكُمْ رَحِيمًا [ النساء : 29]
“তোমরা নিজেদের হত্যা করো না। নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের প্রতি অতি দয়ালু।” [আন-নিসা : ২৯]
আল্লাহ তা‘আলার আরও বাণী,
وَيُحَرِّمُ عَلَيْهِمُ الْخَبَائِثَ [ الأعراف :157]
“আর তাদের ওপর অপবিত্র বস্তুসমূহ নিষিদ্ধ করেন।” [আল-আরাফ : ১৫৭]
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
«لَا ضَرَرَ وَلَا ضِرَار» [ رواه ابن ماجه وصححه الألباني ].
“নিজের ও অন্যের ক্ষতি করা যাবে না।” [এটি ইবন মাজাাহ বর্ণনা করেছেন আর আলবানী তা সহীহ বলেছেন]
- শরী‘আত যে সব জন্তু সুনির্দিষ্টভাবে হারাম করেছে তা হলো: খচ্চর, গৃহ পালিত গাধা, অর্থাৎ যে গাধা বোঝা বহন করা ও বাহনের জন্য ব্যবহার করা হয়। জাবের রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন,
«ذَبَحْنَا يَوْمَ خَيْبَرَ الْخَيْلَ، وَالْبِغَالَ، وَالْحَمِيرَ، فَنَهَانَا رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم عَنِ الْبِغَالِ، وَالْحَمِيرِ، وَلَمْ يَنْهَنَا عَنِ الْخَيْلِ» [ رواه أبوداود وصححه الألباني ].
“খাইবারের দিন আমরা ঘোড়া, খচ্চর ও গাধা যবেহ করলাম। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে খচ্চর ও গাধা যবেহ করতে নিষেধ করেছেন। তবে ঘোড়া যবেহ করতে নিষেধ করেননি।” [এটি আবূ দাউদ বর্ণনা করেছেন আর আলবানী তা সহীহ বলেছেন।]
এতটুকুতে যথেষ্ট করছি। আল্লাহর ইচ্ছায় পরবতী দারসে আমরা খাবারের আদব সম্পর্কে আলোচনা করব।