১
মজলিসের সৌরভ
লেখকঃ তুরকী ইবন ইবরাহীম আল-খানীযান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৪৭
জানাযার বিধান (৩)
পূর্বের দারসে আমরা জানাযা ও তার ওপর সালাতের বিধান সম্পর্কে আলোচনা করছি। এ পাঠে আমরা এমন কতিপয় ভুল-ত্রুটি সম্পর্কে আলোচনা করব যেগুলো একজন মুসলিমের মৃত্যুর পর কোনো কোনো মানুষ করে থাকে।
- শাইখ আব্দুল আযীয ইবন বায রাহিমাহুল্লাহ বলেন, এ সব বিষয়ে মুসলিমের ওপর ওয়াজিব হলো, সবর করা, সাওয়াবের আশা করা, উচ্চ আওয়াজে কান্নাকাটি না করা, পোশাক না ছেঁড়া ও চেহারায় আঘাত না করা। কারণ, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
«لَيْسَ مِنَّا مَنْ لَطَمَ الْخُدُودَ وَشَقَّ الْجُيُوبَ وَدَعَا بِدَعْوَى الْجَاهِلِيَّةِ»
সে আমাদের দলভুক্ত নয়, যে (শোকের সময়) গালে আঘাত করে, বুকের কাপড় ছিঁড়ে এবং জাহেলিয়াতের চিৎকারের ন্যায় চিৎকার করে।”
এছাড়াও সহীহ হাদীসে নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
«أَرْبَعٌ فِي أُمَّتِي مِنْ أَمْرِ الْجَاهِلِيَّةِ لَا يَتْرُكُونَهُنَّ الْفَخْرُ فِي الْأَحْسَابِ وَالطَّعْنُ فِي الْأَنْسَابِ وَالْاسْتِسْقَاءُ بِالنُّجُومِ وَالنِّيَاحَةُ وَقَالَ : النَّائِحَةُ إِذَا لَمْ تَتُبْ قَبْلَ مَوْتِهَا تُقَامُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَعَلَيْهَا سِرْبَالٌ مِنْ قَطِرَانٍ وَدِرْعٌ مِنْ جَرَبٍ» [ رواه مسلم ].
আমার উম্মাতের মধ্যে জাহিলিয়্যাতের চারটি স্বভাব রয়েছে, তারা তা ছাড়বে না। বংশ নিয়ে অহংকার করা, বংশের মধ্যে আপত্তি করা, তারকা দ্বারা বৃষ্টি কামনা করা এবং মৃতের ওপর উচ্চ আওয়াজে মাতম করা। নারী যদি মরণের পূর্বে তাওবাহ না করে, তাহলে আল-কাতরার পায়জামা এবং পাঁচড়ার জামা পরিহিতা অবস্থায় তাকে কিয়ামতের দিনে দাঁড় করানো হবে।’’ [মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন]
নিয়াহা ( النِّياحة ) হলো, মৃত ব্যক্তির ওপর উচ্চ আওয়াজে কান্না কাটি করা। আবূ মূসা আব্দুল্লাহ ইবন কায়েস আল-আশআরী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম (বিপদে) চিৎকারকারী, মাথা মুণ্ডনকারী ও জামাকাপড় ছিড়েঁ ফেলা নারীদের সাথে সম্পর্কচ্ছেদ করেছেন।”
হালেকা ( الحَالِقة ): ঐ নারী যে মুসীবতের সময় মাথার চুল মুন্ডায় এবং তা উপড়ে ফেলে।
আর শাক্কা ( الشاقة ): যে নাবী মুসীবাতের সময় তার কাপড় ছিঁড়ে ফেলে।
আর ছালেকা ( الصالقة ): যে নারী মুসীবাতের সময় তার আওয়াজকে উচ্চ করে। এ গুলো সবই হলো হায় হুতাশ করার অংশ। নারীর জন্য এবং পুরুষের জন্য এ সবের কোনো কিছুই করা বৈধ নয়।[ [মাজমুউল ফাওয়া: (১৩/৪১৪) হাদীসসমূহ উল্লেখ করার পর।]]
- কতিপয় মানুষের ভুলের মধ্যে অন্যতম হলো মৃত ব্যক্তির ঋণ পরিশোধে বা তার কৃত অসিয়াত বাস্তবায়নে বিলম্ব করা। অথচ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
«نفْسُ المؤمِن مُعلَّقة بدَيْنِه؛ حتى يُقضَى عنه» [ رواه ابن ماجه وصححه الألباني ].
মুমিনের আত্মা তার ঋণের সাথে ঝুলন্ত; যতক্ষণ না তা আদায় না করবে।” [এটি ইবন মাজাহ বর্ণনা করেছেন। আলবানী এটিকে সহীহ বলেছেন]
- যে নিকৃষ্ট বিদআত থেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন তা হলো কবরকে সালাতের স্থান বানানো বা তার ওপর মসজিদ বানানো বা মৃত ব্যক্তিকে মসজিদে দাফন করা। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
«أَلَا وَإِنَّ مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ كَانُوا يَتَّخِذُونَ قُبُورَ أَنْبِيَائِهِمْ وَصَالِحِيهِمْ مَسَاجِدَ، أَلَا فَلَا تَتَّخِذُوا الْقُبُورَ مَسَاجِدَ، إِنِّي أَنْهَاكُمْ عَنْ ذَلِكَ» [ رواه مسلم ].
জেনে রাখো! তোমাদের পূর্ববর্তী লোকেরা তাদের নবী ও নেককার লোকদের কবরগুলোকে মসজিদ বানাতো। খবরদার, তোমরা কবরগুলোকে মসজিদ বানাবে না, আমি তোমাদেরকে তা থেকে নিষেধ করছি।” [মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন]
- মুসলিম তার সহীহ গ্রন্থে জাবের রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণনা করেন,
( نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ يُجَصَّصَ الْقَبْرُ وَأَنْ يُقْعَدَ عَلَيْهِ وَأَنْ يُبْنَى عَلَيْهِ )
“নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কবর পাকা করতে, তার উপর বসতে এবং তার উপর ইমারত নির্মাণ করতে বারণ করেছেন।” তিরমিযী ( وأن يكتب عليه ). “এবং তার ওপর লেখা” শব্দ বৃদ্ধি করেছেন। আল-জিস্স ( الجص ): এমন বস্তু যার দ্বারা নির্মাণ করা হয় বা যার দ্বারা মেরামত করা হয়।
- কবরের বিদআতসমূহের আরেকটি হলো কবরে ফুল দেওয়া।
হে আল্লাহ আপনি আমাদেরকে আপনার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসারী বানান এবং তাঁর সুন্নাতের ধারক তাঁর পদাঙ্ক অনুসারী বানান। আজরেক পাঠে এটুকু আলোচনাতে যথেষ্ট করছি। আল্লাহর ইচ্ছায় পরবর্তী দারসে আমরা ইসলামের তৃতীয় রুক যাকাত সম্পর্কে আলোচনা করব।
- শাইখ আব্দুল আযীয ইবন বায রাহিমাহুল্লাহ বলেন, এ সব বিষয়ে মুসলিমের ওপর ওয়াজিব হলো, সবর করা, সাওয়াবের আশা করা, উচ্চ আওয়াজে কান্নাকাটি না করা, পোশাক না ছেঁড়া ও চেহারায় আঘাত না করা। কারণ, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
«لَيْسَ مِنَّا مَنْ لَطَمَ الْخُدُودَ وَشَقَّ الْجُيُوبَ وَدَعَا بِدَعْوَى الْجَاهِلِيَّةِ»
সে আমাদের দলভুক্ত নয়, যে (শোকের সময়) গালে আঘাত করে, বুকের কাপড় ছিঁড়ে এবং জাহেলিয়াতের চিৎকারের ন্যায় চিৎকার করে।”
এছাড়াও সহীহ হাদীসে নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
«أَرْبَعٌ فِي أُمَّتِي مِنْ أَمْرِ الْجَاهِلِيَّةِ لَا يَتْرُكُونَهُنَّ الْفَخْرُ فِي الْأَحْسَابِ وَالطَّعْنُ فِي الْأَنْسَابِ وَالْاسْتِسْقَاءُ بِالنُّجُومِ وَالنِّيَاحَةُ وَقَالَ : النَّائِحَةُ إِذَا لَمْ تَتُبْ قَبْلَ مَوْتِهَا تُقَامُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَعَلَيْهَا سِرْبَالٌ مِنْ قَطِرَانٍ وَدِرْعٌ مِنْ جَرَبٍ» [ رواه مسلم ].
আমার উম্মাতের মধ্যে জাহিলিয়্যাতের চারটি স্বভাব রয়েছে, তারা তা ছাড়বে না। বংশ নিয়ে অহংকার করা, বংশের মধ্যে আপত্তি করা, তারকা দ্বারা বৃষ্টি কামনা করা এবং মৃতের ওপর উচ্চ আওয়াজে মাতম করা। নারী যদি মরণের পূর্বে তাওবাহ না করে, তাহলে আল-কাতরার পায়জামা এবং পাঁচড়ার জামা পরিহিতা অবস্থায় তাকে কিয়ামতের দিনে দাঁড় করানো হবে।’’ [মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন]
নিয়াহা ( النِّياحة ) হলো, মৃত ব্যক্তির ওপর উচ্চ আওয়াজে কান্না কাটি করা। আবূ মূসা আব্দুল্লাহ ইবন কায়েস আল-আশআরী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম (বিপদে) চিৎকারকারী, মাথা মুণ্ডনকারী ও জামাকাপড় ছিড়েঁ ফেলা নারীদের সাথে সম্পর্কচ্ছেদ করেছেন।”
হালেকা ( الحَالِقة ): ঐ নারী যে মুসীবতের সময় মাথার চুল মুন্ডায় এবং তা উপড়ে ফেলে।
আর শাক্কা ( الشاقة ): যে নাবী মুসীবাতের সময় তার কাপড় ছিঁড়ে ফেলে।
আর ছালেকা ( الصالقة ): যে নারী মুসীবাতের সময় তার আওয়াজকে উচ্চ করে। এ গুলো সবই হলো হায় হুতাশ করার অংশ। নারীর জন্য এবং পুরুষের জন্য এ সবের কোনো কিছুই করা বৈধ নয়।[ [মাজমুউল ফাওয়া: (১৩/৪১৪) হাদীসসমূহ উল্লেখ করার পর।]]
- কতিপয় মানুষের ভুলের মধ্যে অন্যতম হলো মৃত ব্যক্তির ঋণ পরিশোধে বা তার কৃত অসিয়াত বাস্তবায়নে বিলম্ব করা। অথচ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
«نفْسُ المؤمِن مُعلَّقة بدَيْنِه؛ حتى يُقضَى عنه» [ رواه ابن ماجه وصححه الألباني ].
মুমিনের আত্মা তার ঋণের সাথে ঝুলন্ত; যতক্ষণ না তা আদায় না করবে।” [এটি ইবন মাজাহ বর্ণনা করেছেন। আলবানী এটিকে সহীহ বলেছেন]
- যে নিকৃষ্ট বিদআত থেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন তা হলো কবরকে সালাতের স্থান বানানো বা তার ওপর মসজিদ বানানো বা মৃত ব্যক্তিকে মসজিদে দাফন করা। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
«أَلَا وَإِنَّ مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ كَانُوا يَتَّخِذُونَ قُبُورَ أَنْبِيَائِهِمْ وَصَالِحِيهِمْ مَسَاجِدَ، أَلَا فَلَا تَتَّخِذُوا الْقُبُورَ مَسَاجِدَ، إِنِّي أَنْهَاكُمْ عَنْ ذَلِكَ» [ رواه مسلم ].
জেনে রাখো! তোমাদের পূর্ববর্তী লোকেরা তাদের নবী ও নেককার লোকদের কবরগুলোকে মসজিদ বানাতো। খবরদার, তোমরা কবরগুলোকে মসজিদ বানাবে না, আমি তোমাদেরকে তা থেকে নিষেধ করছি।” [মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন]
- মুসলিম তার সহীহ গ্রন্থে জাবের রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণনা করেন,
( نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ يُجَصَّصَ الْقَبْرُ وَأَنْ يُقْعَدَ عَلَيْهِ وَأَنْ يُبْنَى عَلَيْهِ )
“নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কবর পাকা করতে, তার উপর বসতে এবং তার উপর ইমারত নির্মাণ করতে বারণ করেছেন।” তিরমিযী ( وأن يكتب عليه ). “এবং তার ওপর লেখা” শব্দ বৃদ্ধি করেছেন। আল-জিস্স ( الجص ): এমন বস্তু যার দ্বারা নির্মাণ করা হয় বা যার দ্বারা মেরামত করা হয়।
- কবরের বিদআতসমূহের আরেকটি হলো কবরে ফুল দেওয়া।
হে আল্লাহ আপনি আমাদেরকে আপনার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসারী বানান এবং তাঁর সুন্নাতের ধারক তাঁর পদাঙ্ক অনুসারী বানান। আজরেক পাঠে এটুকু আলোচনাতে যথেষ্ট করছি। আল্লাহর ইচ্ছায় পরবর্তী দারসে আমরা ইসলামের তৃতীয় রুক যাকাত সম্পর্কে আলোচনা করব।