hadith book logo

ব্যক্তি ও সমাজ সংশোধনে ইসলামি দিক নির্দেশনা

লেখকঃ মুহাম্মদ বিন জামীল যাইনূ • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১০

উপরোক্ত হাদিসসমূহ হতে শিক্ষনীয় বিষয়

১। নবী, কাবা, আমানত, পুত্র, পিতা মাতা, বংশ, আউলিয়া কিংবা এ জাতীয় কোনো মাখলুকের নামে শপথ করা হারাম। এদের নামে শপথ ছোট শিরকের পর্যায়ভুক্ত। কারণ যখন সে অন্যদের নামে শপথ করে, তখন তাদেরকে আল্লাহর ন্যায় সম্মান করে। আর তা কবিরা গুনাহের অন্তর্ভুক্ত। এ জাতীয় কাজ হতে অবশ্যই বিরত থাকা উচিত। তওবা করে পরিত্যাগ করা উচিত। কখনও কখনও এই ধরনের শপথ বড় শিরকের পর্যায়ভুক্তও হয়ে যায়। যেমন, যদি কেউ কোনো ওলীর নামে শপথের সময় এই ধারনা পোষণ করে যে, তার গোপনীয় ক্ষমতা আছে, যদি তার নামে মিথ্যা শপথ করা হয় তবে তিনি প্রতিশোধ গ্রহণ করবেন। এই ধারনা মনে থাকলে সে গোপন কথা জানা প্রতিশোধ ও ক্ষতি করার ক্ষমতার ব্যাপারে এই ওলীকে আল্লাহর পর্যায়ে জ্ঞান করল। ( কারণ এসব করার ক্ষমতা একমাত্র আল্লাহ তাআলার আছে , কোনো জীবিত কিংবা মৃত ওলীর নেই)।

২। গাইরুল্লাহর নামে শপথ করা শরিয়ত সম্মত নয়, তাই ঐ শপথ পালন করার মধ্যে কোনো বাধ্য বাধকতা নেই।

৩। যদি কেউ এমন শপথ করে যে, সে আত্মীয়তার সম্পর্ক ছেদ করবে, অথবা কোনো পাপ কাজ করবে, তবে সে যেন তা না করে বরং শপথের কাফ্ফারা আদায় করে। এই কাফ্ফারা সম্বন্ধে আল্লাহ তাআলা বলেন:

(আরবি)

আল্লাহ তোমাদেরকে পাকড়াও করেন না তোমাদের অর্থহীন কসমের ব্যাপারে, কিন্তু যে কসম তোমরা দৃঢ়ভাবে কর সে কসমের জন্য তোমাদেরকে পাকড়াও করেন। সুতরাং এর কাফফরা হল দশজন মিসকিনকে খাবার দান করা, মধ্যম ধরনের খাবার, যা তোমরা স্বীয় পরিবারকে খাইয়ে থাক, অথবা বস্ত্র দান, কিংবা একজন দাস-দাসী মুক্ত করা। অত:পর যে সামর্থ্য রাখে না তবে তিন দিন সিয়াম পালন করা। এটা তোমাদের কসমের কাফফারা, যদি তোমরা কসম কর, আর তোমরা কসমের হেফাজত কর। এমনিভাবে আল্লাহ তোমাদের জন্য তাঁর আয়াতসমূহ বর্ণনা করেন যাতে তোমরা শোকর আদায় কর। (সূরা মায়িদা: ৮৯ )