hadith book logo

ব্যক্তি ও সমাজ সংশোধনে ইসলামি দিক নির্দেশনা

লেখকঃ মুহাম্মদ বিন জামীল যাইনূ • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৫৪

প্রতিটি মুসলিমের জন্য শরিয়তের উপদেশ

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:

مَا حَقّ امْرِئٍ مُسْلِمٍ يبيّتُ لَيْلَتَيْنِ وَلَهُ شَيْئٌ يُرِيْدُ أنْ يُوْصِي فِيْهِ الاَّ ووَصِيَّتُهُ مَكْتُوْبَةٌ عِنْدَ رَأْسِهِ ( متفق عليه )

নির্দিষ্ট কোনো বিষয়ে অসিয়ত করতে ইচ্ছুক মুসলিম ব্যক্তির জন্য অভীষ্ট বিষয়ে অসিয়ত লিখে নিজ মাথার কাছে রেখে দেয়া ব্যতীত দুই রাত অতিবাহিত করা ঠিক নয়। (বোখারি মুসলিম)

ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এ কথা শ্রবণ করার পর আমার এমন কোনো রাত অতিবাহিত হয়নি যখন আমি অসিয়ত না লিখে শয়ন করেছি।

১। আমি এই অসিয়ত করছি যে, এই পরিমাণ টাকা আমার আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশি, ফকির এবং ইসলামি কিতাবাদি খরিদ বাবদ খরচ করতে হবে। তবে তাতে সম্পত্তির এক তৃতীয়াংশের বেশি অসিয়ত করা যাবে না। আর এই অসিয়ত কোনো ওয়ারিশের জন্যও প্রযোজ্য হবে না।

২। আমার মৃত্যুর অন্তিম সময়ে অমুক অমুক নেক ব্যক্তিগণ উপস্থিত হবেন, যারা আমাকে আল্লাহ সম্বন্ধে আশার বাণী শোনাবেন।

৩। মৃত্যুর পূর্বেই কালেমা ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ এর তালকীন (বার বার পড়া) দিতে হবে। মৃত্যুর পরে নয়। কারণ, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা তোমাদের মৃত্যু আসন্ন ব্যক্তিদের কালেমা ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ এর তালকীন দাও। (মুসলিম)

অন্যত্র নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:

مَنْ كَانَ آخِرُ كَلامِهِ لا إلهَ إلا اللهُ دَخَلَ الجَنَّةَ ( حسن رواه الحاكم )

যার শেষ কথা হবে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ সে জান্নাতে প্রবেশ করবে (হাসান, বর্ণনায় হাকেম)

৪। উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ যেন আমার মৃত্যুর পর আমার জন্য জিকির">দোয়া করে, হে আল্লাহ! তাকে ক্ষমা কর, তার সম্মান বাড়িয়ে দাও, তার উপর রহম কর এবং এ জাতীয় বরকতময় দোয়া।

৫। আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধুদের নিকট খবর পাঠাবে। টেলিফোনের মাধ্যমে হলেও, আর মসজিদের ইমাম ও মসল্লিদের এই খবর দিবে যাতে তারা মৃত্যু ব্যক্তির জন্য এস্তেগফার করে।

৬। অতি দ্রুত দেনা শোধ করতে তৎপর হবে। কারণ, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

نَفْسُ الْمُؤْمِنِ مُعَلَّقَةٌ بِدَيْنِهِ حَتَّى يقْضىَ عَنْهُ ( صحيح رواه أحمد )

দেনার কারণে মুমিনের জান ঝুলন্ত থাকে, তা শোধ করা অবধি। (সহিহ, বর্ণনায় আহমাদ)

৭। বুদ্ধিমান মুসলিমদের উচিত, জীবদ্দশাতেই দেনা শোধ করা, যাতে তা বাদ পড়ে না যায় কিংবা কুসরি করা হয়। যখন জানাযা নিয়ে চলতে থাকবে, তখন নিরবে হাটবে। বেশি বেশি মুসল্লি তাতে শরিক হবে, আর মৃতের জন্য ইখলাসের সাথে দোয়া করবে।

৮। দাফনের পর তার মাগফেরাতের জন্য দোয়া করবে। কারণ, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাফনের পর কবরের পার্শ্বে দণ্ডায়মান হয়ে বলতেন:

اسْتَغْفِرُوا لأَخِيكُم وَ سَلُوا لَهُ التَّثْبِيتَ فاِنَّهُ الأنَ يُسْأَلُ ( صحيح رواه الحاكم )

তোমরা নিজ ভাইয়ের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর, আর সে যাতে দৃঢ় থাকতে পারে সে জন্য আল্লাহর করুণা ভিক্ষা কর। কারণ, এখন তাকে প্রশ্ন করা হচ্ছে। (সহিহ, বর্ণনায় হাকেম)

৯। মৃতের বাড়ি যেয়ে শোক প্রকাশ করা। কারণ, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেন:

إنَّ للهِ مَا أخَذَ وَلَهُ مَا أعْطىَ وَ كُلُّ شَيْئٍ عِنْدَهُ بِاَجَلٍ مُسَمىًّ فَلْتصْبِرْ ولِتَحْتَسِبْ ( رواه البخاري )

নিশ্চয় আল্লাহ যা নিয়ে যান সেই অধিকার তাঁর আছে, দেয়ার অধিকার তাঁরই। প্রতিটি বস্তুরই তার নিকট নির্দিষ্ট মেয়াদ আছে। সুতরাং তুমি সবর কর ও সাওয়াবের আশা রাখ। (বোখারি)

এ জন্য কোনো সময় বা স্থান নির্দিষ্ট করার দরকার নেই। আর দু:খ পেলে বলতে হবে,

إنا لله وإنا إليه راجعون، اللهم أجرني في مصيبتي وأخلف لي خيرا منها

আমরা আল্লাহর নিকট হতে এসেছি এবং তাঁর নিকটই প্রত্যাবর্তন করব। হে আল্লাহ আমার মুসিবতে সাওয়াব দাও আর এর থেকে উত্তম বদলা দান কর। আর মৃতের আত্মীয় স্বজনদের আল্লাহর সিদ্ধান্তের উপর সবর করা ও রাজি খুশি থাকা ওয়াজিব।

১০। আর আত্মীয় স্বজন, প্রতেবেশি ও বন্ধু বান্ধবদের উচিত মৃত ব্যক্তির পরিবারের জন্য খাদ্য প্রস্তুত করে পাঠিয়ে দেয়া। কারণ, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:

اِصْنَعُوا لآلِ جَعْفَرَ طَعَامًا فَقَدْ أتَاهُمْ مَا يُشْغِلُهُمْ ( حسن رواه أبو داود والترمذي )

তোমরা জাফর এর পরিবারের জন্য খাদ্য প্রস্তুত কর। কারণ তাদের এমন বিপদ এসেছে যা তাদেরকে ব্যস্ত রেখেছে।(হাসান, বর্ণনায় আবু দাউদ ও তিরমিজি)