hadith book logo

ব্যক্তি ও সমাজ সংশোধনে ইসলামি দিক নির্দেশনা

লেখকঃ মুহাম্মদ বিন জামীল যাইনূ • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৬৩

শরীরে লোহা প্রবেশ করানোর হাকিকত

শরীরের মধ্যে লোহার শলাকা না রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনো প্রবেশ করিয়েছেন না তার সাহাবিরা। যদি এ কাজ উত্তমই হত তবে অবশ্যই তারা এতে অগ্রগামী হতেন। এসব বরং সূফী-পীর ও ভণ্ড-বিদআতীদের কাজ। আমি তাদেরকে মসজিদে একত্রিত হতে দেখেছি, তাদের সাথে তবলা জাতীয় যন্ত্র- ‘দফ’ ছিল। তারা গান করছিল,

এনে দাও মদের গ্লাস, পান করাও তা আমাদের...

আল্লাহর ঘরে বসে মদ জাতীয় অপবিত্র দ্রব্যের উচ্চারণ করতে তাদের লজ্জাও হয় না। সাথে সাথে উচ্চ আওয়াজে দফ বাজাচ্ছিল এবং গাইরুল্লাহর নিকট বিপদ হতে উদ্ধার চাচ্ছিল। আর বলছিল, হে দাদা... এভাবে শয়তান তাদের ধোকায় নিপতিত করেছিল। একজনকে দেখলাম, নিজ জামা খুলে একটি লোহার শিক হাতে নিয়ে পাঁজরের মধ্যে প্রবেশ করাল। আর একজনকে দেখলাম, কাচের একটি গ্লাস ভেঙ্গে দাঁত দিয়ে চুর্ণ বিচুর্ণ করছে। তখন আমি মনে মনে বললাম, এরা যা বলছে তা যদি সত্যিই হয় তবে যেন তারা সেসব ইহুদির সাথে যুদ্ধ করে যারা আমাদের ভূমি জবর দখল করে রেখেছে, আর আমাদের সন্তানদের হত্যা করেছে। যেসব শয়তান সেখানে উপস্থিত হয় এসব কাজে তারা তাদের সাহায্য করে। কারণ, সেসব কাজে নিপতিত লোকেরা আল্লাহর স্মরণ হতে দূরে রয়েছে। আর যখন তারা তাদের পূর্ব পুরুষদের নিকট বিপদে উদ্ধার চায়, তখন তারা শিরকের মধ্যে লিপ্ত হয়। কারণ, আল্লাহ তাআলা বলেন:

(আরবি)

আর যে পরম করুণাময়ের জিকির থেকে বিমুখ থাকে আমি তার জন্য এক শয়তানকে নিয়োজিত করি, ফলে সে হয়ে যায় তার সঙ্গী।আর নিশ্চয়ই তারাই (শয়তান) মানুষদেরকে আল্লাহর পথ থেকে বাধা দেয়। অথচ মানুষ মনে করে তারা হিদায়েত প্রাপ্ত। (সূরা জুখরুফ : ৩৬-৩৭)

আল্লাহ তাআলা তাদের জন্য শয়তানকে নির্দিষ্ট করে দেন, যাতে তারা আরও গোমরাহ হতে পারে।

আল্লাহ তাআলা বলেন:

(আরবি)

বল, যে বিভ্রান্তিতে রয়েছে তাকে পরম করুণাময় প্রচুর অবকাশ দেবেন, (সূরা মারইয়াম: ৭৫)

শয়তান যে তাদের সাহায্য করে, এতে আবাক হওয়ার কিছুই নেই। কারণ, সুলাইমান আলাইহিস সালাম এক জিনের নিকট সাহায্য চেয়েছিলেন, রাণী বিলকিসের সিংহাসন উঠিয়ে আনার জন্য। এ সম্বন্ধে কোরআনে আছে:

(আরবি)

এক শক্তিশালী জিন বলল, আপনি আপনার স্থান থেকে উঠার পূর্বেই আমি তা এনে দিব। আমি নিশ্চয়ই এই ব্যাপারে শক্তিমান, বিশস্ত। (সূরা নামল : ৩৯)

যারা হিন্দুস্তানে গিয়েছেন যেমন বিখ্যাত পরিব্রাজক ও ভ্রমনবিদ ইবনে বতুতা প্রমুখ তারা অগ্নি উপাসকদের লোহার শিক শরীরে প্রবেশ করানোর চেয়েও ভয়ংকর ঘটনা দেখেছে, অথচ তারা ছিল মূর্তিপূজারি-কাফের। তাই এইসব ঘটনা কোনো কারামত বা অলৌকিক ঘটনা নয়। বরং এগুলো সেসব শয়তানের ঘটনা যারা এভাবে একত্রিত হয় গান বাজনার আশরে। দেখা যায়, বেশির ভাগ লোক, যারা শরীরে শিক প্রবেশ করায়, তারা নানা ধরনের পাপে লিপ্ত । এমনকি প্রকাশ্যভাবে তারা আল্লাহর সাথে শিরকে লিপ্ত থাকে। কারণ তারা তাদের মৃত পূর্ব পুরুষদের নিকট সাহায্য ভিক্ষা করে। তাহলে কিভাবে কারামতের অধিকারী, ওলীআল্লাহ হতে পারে?

আল্লাহ তাআলা আউলিয়াদের সম্বন্ধে বলেন:

(আরবি)

শুনে রাখ, নিশ্চয় আল্লাহর বন্ধুদের কোনো ভয় নেই, আর তারা পেরেশানও হবে না। যারা ঈমান এনেছে এবং তাকওয়া অবলম্বন করত। (সূরা ইউনুস : ৬২-৬৩)

ওলী হচ্ছেন আল্লাহর এমন মুমিন বান্দা, যিনি সর্বদা এক আল্লাহর নিকট সাহায্য ভিক্ষা করেন। আর মুত্তাকি হচ্ছেন ঐ ব্যক্তি যিনি আল্লাহর সাথে পাপ ও শিরক করা হতে বিরত থাকেন। এসব ওলীদের জীবনে হঠাৎ করে কোনো কারামত ঘটে যায়। আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মানুষের দাবী বা লোক দেখানোর জন্য এমনটা ঘটে না।