hadith book logo

ব্যক্তি ও সমাজ সংশোধনে ইসলামি দিক নির্দেশনা

লেখকঃ মুহাম্মদ বিন জামীল যাইনূ • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৪৫

৩। শাসকদের সাথে জেহাদ করা:

যেমন শাসক, প্রশাসক ও তাদের সাহায্যকারীদের উপদেশ দান করা। তাদের অন্যায় কাজের প্রতিবাদ করা। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

الدِّيْنُ النَّصِيحةُ قُلنَا لِمَنْ يَا رَسُولَ اللهِ ؟ قَالَ للهِ وَلِكِتَابِهِ وَلِرَسُولِهِ وَلِأَئِمَّةِ المُسْلِمِيْنَ وَعاَمّتِِهِمْ ( رواه مسلم )

দ্বীন হচ্ছে নসিহত (হিতাকাঙ্খিতা)। আমরা বললাম: কার জন্য, হে আল্লাহর রাসূল! তিনি বললেন: আল্লাহর জন্য, তাঁর রাসূলের জন্য, মুসলিমদের (রাষ্ট্রনায়ক) ইমামগণের জন্য এবং সাধারণ লোকদের জন্য। ( সহিহ মুসলিম)

অন্যত্র রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:

اَفْضَلُ الْجِهَادِ كَلِمَةُ حَقٍّ عِنْدَ سُلْطَانٍ جَائِرٍ ( حسن رواه ابو داود )

উত্তম জেহাদ হচ্ছে অত্যাচারী বাদশার সম্মুখে সত্য ও হক কথা বলে দেওয়া। (হাসান, বর্ণনায় আবু দাউদ)

সে সব অত্যাচারী শাসক তো আমাদের মতই মানুষ, আমাদের ভাষাতেই কথা বলে। অত্যাচারী শাসকের অত্যাচার হতে বাঁচার একটি পদ্ধতি হচ্ছে, মুসলিমবৃন্দ নিজ রবের নিকট তওবা করবে। নিজ নিজ ঈমান-আকিদাকে সহিহ-শুদ্ধ করবে, নিজেদের ও পরিজনদেরকে সহিহ ইসলামের উপর গড়ে তুলবে। আল্লাহ তাআলা বলেন:

(আরবি)

নিশ্চয়ই আল্লাহ কোনো জাতির অবস্থা ততক্ষণ পরিবর্তন করেন না, যতক্ষণ না তারা নিজেদের অবস্থা পরিবর্তন করে। (সূরা রাদ : ১১ )

বর্তমান যুগের একজন বিখ্যাত দায়ী এই কথাগুলি আলোচনা করতে গিয়ে বলেন, সর্ব প্রথম তোমাদের অন্তরে ইসলামি হুকুমত কায়েম কর, তবেই তোমাদের জমিনে ইসলামি হুকুমত প্রতিষ্ঠা লাভ করবে। এ জন্য অবশ্য মূল ভিত্তিকে সুসংহত করতে হবে, যাতে তার উপর উত্তম জিনিস প্রতিষ্ঠা করা যায়। আর তা হচ্ছে ইসলামি সমাজ।

আল্লাহ তাআলা বলেন:

(আরবি)

তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান আনে এবং সৎকর্ম করে আল্লাহ তাদেরকে এ মর্মে ওয়াদা দিয়েছেন যে, তিনি নিশ্চিতভাবে তাদেরকে জমিনের প্রতিনিধিত্ব প্রদান করবেন, যেমন তিনি প্রতিনিধিত্ব প্রদান করেছিলেন তাদের পূর্ববর্তীদের এবং তিনি অবশ্যই তাদের জন্য শক্তিশালী ও সুপ্রতিষ্ঠিত করবেন তাদের দীনকে, যা তিনি তাদের জন্য পছন্দ করেছেন এবং তিনি তাদের ভয়-ভীতি শান্তি-নিরাপত্তায় পরিবর্তিত করে দেবেন। তারা আমারই ইবাদত করবে, আমার সাথে কোনো কিছুকে শরিক করবে না। আর এরপর যারা কুফরি করবে তারাই ফাসিক। (সূরা নূর: ৫৫ )