hadith book logo

ব্যক্তি ও সমাজ সংশোধনে ইসলামি দিক নির্দেশনা

লেখকঃ মুহাম্মদ বিন জামীল যাইনূ • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৬৯

ছবি ও মূর্তির ব্যাপারে ইসলামের বিধান

পৃথিবীতে ইসলামের আবির্ভাব ঘটেছে সকল মানুষকে এক আল্লাহর দিকে ডাকা ও আউলিয়া, নেককার কিংবা অন্য কোনো গাইরুল্লাহর ইবাদত করা হতে তাদেরকে বিরত রাখার জন্য। বহু পূর্ব হতে পৃথিবীতে গাইরুল্লাহর পূজা ও ইবাদত করা হয় তাদের মূর্তি, ভাস্কর অথবা প্রতিকৃতি বানিয়ে। এক আল্লাহর প্রতি ইসলামের এই চিরন্তন দাওয়াত বহু পূর্ব হতেই চালু হয়েছে। যখন থেকে তিনি মানুষের হিদায়েতের জন্য তাঁর রাসূলদের প্রেরণ করা শুরু করেছেন ঠিক তখন থেকে।

আল্লাহ তাআলা বলেন:

(আরবি)

আর অবশ্যই আমি প্রত্যেক জাতির নিকট রাসূল প্রেরণ করেছি এই বলে যে, তোমরা এক আল্লাহর ইবাদত কর, আর তাগুত থেকে বিরত থাক। (সূরা নাহল : ৩৬)

(আল্লাহকে বাদ দিয়ে যে ব্যক্তি বা বস্তুর ইবাদত করা হয় আর তাতে তারা সন্তুষ্ট থাকে তাদেরকেই তাগুত বলা হয়)

এ সব মূর্তির কথা সূরা নূহতে উল্লেখিত হয়েছে। উপরোল্লেখিত আমাদের দাবীর সমর্থনে সবচেয়ে বড় দলিল হল, সেই মূর্তিগুলো ছিল সেই যুগের সর্বোত্তম নেককারগণের।

আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন,

(আরবি)

আর তারা বলল. তোমরা কোনো অবস্থাতেই তোমাদের উপাস্যদেরকে পরিত্যাগ করো না, পরিত্যাগ করো না ওদ্দ, সূয়া, ইয়াগুছ, ইয়াউক ও নাসরকে । তারা তো অনেককেই বিপথগামী করেছে। (সূরা নূহ: ২৩-২৪)

আয়াতের ব্যাখ্যায় বোখারিতে বর্ণিত আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস রা. বলেন,

তারা ছিলেন নূহ আলাইহিস সালামের কওমের নেককার লোক। যখন তারা মৃত্যুমুখে পতিত হয় তখন শয়তান তাদের পরিজন ও ভক্তবৃন্দকে গোপনে কুমন্ত্রনা দেয় যে, তারা যে সমস্ত স্থানে বসত সেখানে তাদের মূর্তি বানিয়ে রাখ, আর সে মূর্তিদেরকে তাদের নামেই পরিচিত কর। তখন তারা তাই করল, কিন্তু তখনও তাদের ইবাদত শুরু হয়নি। তারপর যখন তখনকার লোকেরাও মারা গেল, তখন তাদের পরের যুগের লোকেরা ভুলে গেল যে, কেন সেই মূর্তিগুলি বানানো হয়েছিল। আর তখন থেকেই তাদের পূজা শুরু হয়ে গেল। (ফতহুল বারি ৬/৭ )

এই ঘটনা হতে একটা শিক্ষা পাওয়া যায় এই যে, গাইরুল্লাহর ইবাদতের কারণগুলির একটি হল এ জাতীয় নেতাদের মূর্তি তৈরী করা। অনেকেরই ধারনা বর্তমান সময়ে মূর্তি, বিশেষ করে ছবি হারাম নয়, হালাল। কারণ, বর্তমানে কেউ ছবি বা মূর্তির পূজা করে না। কিন্তু এটা কয়েকটি কারণে গ্রহণযোগ্য নয়:

বর্তমান যুগেও মূর্তি ও ছবির পূজা হয়ে থাকে। যেমন গির্জাসমূহে আল্লাহকে ছেড়ে ইসা আ. ও তার মাতা মরিয়মের আ. ছবির পূজা হয়। ক্রুশের সামনে তারা রুকুও করে থাকে। বিভিন্ন ধরনের তৈলচিত্র তৈরী করা হয়েছে ঈসা আ. ও তার মায়ের উপর, যা খুবই উচ্চ মূল্যে বিক্রি করা হয়। আর তা ঘরে ঝুলিয়ে রাখা হয় তাদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন ও ইবাদত করার জন্য।

এসব ভাস্কর যা দুনিয়ার দিক দিয়ে উন্নত ও আধ্যাত্মিক দিক দিয়ে অনগ্রসর জাতি কিংবা জাতীয় নেতা লোকেরা তাদের সম্মান প্রর্দশন করে মস্তক হতে টুপি খুলে, অথবা তাদের সম্মুখ দিয়ে যাবার সময় মাথা ঝুকিয়ে অতিক্রম করে। যেমন, আমেরিকায় জর্জ ওয়াশিংটনের ভাস্কার্য, ফ্রান্সে নিপোলিয়ানের মূর্তি, রাশিয়ায় লেলিন ও ষ্টালিনের ভাস্কার্য যা সেসব দেশের বড় বড় রাস্তায় স্থাপন করা হয়েছে। তাদের সম্মুখ দিয়ে অতিক্রমের সময় পথচারিরা মস্তক ঝুকিয়ে সালাম দেয়। পরিতাপের বিষয় এ ধরনের ভাস্কার্য নির্মাণের চিন্তা-ভাবনা অনেক আরব দেশেও ছড়িয়ে পড়িছে। এভাবেই তারা কাফেরদের অনুসরন করতে উদ্যোগী হয়েছে। যদিও ওয়াজিব ছিল এই জাতীয় ভাস্কার্য তৈরী না করে, সেই ধন দৌলত মসজিদ মাদ্রাসা, হাসপাতাল, সাহায্য সংস্থা ইত্যাদি তৈরির জন্য ব্যয় করা, যাতে এই উপকার সকলের নিকট পৌছে, যদিও তারা এটা তাদের নামে নাম করণ করুক না কেন তাতে কোন ক্ষতি নেই।

আর এমন একদিন আসবে, যখন এই ভাস্কার্যগুলির সম্মুখে মস্তক অবনত করে সম্মান প্রদর্শন করা হবে এবং তাদের ইবাদত করা হবে, যেমনভাবে ইউরোপ, তুর্কী এবং অন্যান্য দেশে হচ্ছে। আর তাদের পূর্বে নূহ আ.-এর কওম তা করেছিল। তারা তাদের নেতাদের ভাস্কার্য তৈরী করেছিল, অত:পর তাকে সম্মান করত পর্যায়ক্রমে ইবাদত করত।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুকে হুকুম করে বলেন:

لا تَدَعْ تِمْثَالاً إلاَّ طَمسْتَهُ ولا قَبْرًا مُشْرِفًا إلاَّ سَوَّيْتَهُ ( رواه مسلم )

স্মৃতিসৌধ কিংবা মূর্তি দেখলেই ভেঙ্গে ফেলবে আর উঁচু কবর পেলে তাকে মাটির সাথে মিশিয়ে সমান করে দিবে। ( সহিহ মুসলিম)

অন্য রেওয়ায়েতে আছে, যত ছবি দেখবে তাকে টুকরা টুকরা করে ফেলবে।