hadith book logo

ব্যক্তি ও সমাজ সংশোধনে ইসলামি দিক নির্দেশনা

লেখকঃ মুহাম্মদ বিন জামীল যাইনূ • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৭৮

ইসলামে নারীর মর্যাদা

নিশ্চয়ই ইসলাম নারীদের খুব মর্যাদা দিয়েছে। জাতি গঠনে তাদেরকে দায়িত্বশীল ও মুরব্বীর স্থান দিয়েছে। সমাজের কল্যাণ তখনই হবে যখন তারা ভাল হবে। ইসলাম তাদের জন্য পর্দা ফরয করেছে যাতে তাদেরকে অনিষ্ট ও খারাবি হতে রক্ষা করা যায়। পর্দার মাধ্যমে তাদের দ্বারা ঘৃণিত ও অশ্লীল কাজের পথ রুদ্ধ করে সমাজকেও রক্ষা করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পর্দার কারণে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে ভলবাসা ও রহমতের সম্পর্ক সৃদৃঢ় ও স্থায়ী হয়। কারণ, যখন কোনো স্বামী তার স্ত্রীর থেকেও সুন্দরী অন্য কোনো মহিলাকে দেখে, তখন তাদের নিজেদের সম্পর্কের অবনতির আশঙ্কা দেখা দেয়। এর ফলে হয়ত তাদের মধ্যে ছাড়াছাড়িও হয়ে যায়। একমাত্র পর্দাই পারে এসব আশঙ্কাজনক অবস্থা থেকে মানুষদের রক্ষা করতে। তাইতো পবিত্র কোরআনে পর্দা সম্বন্ধে আয়াত অবতীর্ণ হয়েছে।

আল্লাহ তাআলা বলেন:

(আরবি)

হে নবী, তুমি তোমার স্ত্রীদেরকে, কন্যাদেরকে ও মুমিনদের নারীদেরকে বল, তারা যেন তাদের জিলবাবের (এমন পোশাক যা পুরো শরীরকে আচ্ছাদিত করে) কিছু অংশ নিজেদের উপর ঝুলিয়ে, তাদেরকে চেনার ব্যাপারে এটাই সবচেয়ে কাছাকাছি পন্থা হবে। ফলে তাদেরকে কষ্ট দেয়া হবে না। (সূরা আহযাব : ৫৯ )

১। বিশ্ব বিখ্যাত নারী নেত্রী আনা বিজাল্ট বার বার বলেছেন, আমি অনেক চিন্তা করে দেখেছি অন্য ধর্মের তুলনায় ইসলামেই মহিলাদের অতিরিক্ত স্বাধীনতা দেয়া হয়েছে। আর ইসলামই অন্য ধর্মের তুলনায় নারীদের হককে বেশি রক্ষা করে। এতে আছে একাধিক বিবি রাখার অধিকার। মহিলাদের শিক্ষার ক্ষেত্রেও অধিক ন্যায় পরায়ণতার ব্যবস্থা করা হয়েছে ইসলামে। তার সাধীনতার অতিরিক্ত হেফাযত করা হয়েছে। ইংল্যাণ্ডের মত দেশেও মাত্র বিশ বছর পূর্বে নারীরা সম্পদের মালিকানা লাভ করেছে । আর আমরা দেখি, ইসলাম প্রথম হতেই তাদেরকে উক্ত হক দান করেছে। এটা বড়ই নিকৃষ্ট অপবাদ যে, ইসলাম নারীদেরকে রূহহীন দেহ সবর্স্ব মনে করে থাকে।

২। তিনি আরও বলেন, যদি আমরা সঠিক ও ন্যায়ের সাথে মূল্যায়ন করি, তবে অতি সহজেই আমাদের সামনে উদ্ভাসিত হবে যে, একাধিক বিয়ের যে ইসলাম অনুমতি দিয়েছে তাতে মহিলাদের জন্য রয়েছে ইজ্জতের হেফাযত এবং খাদ্য ও পোশাকের পূর্ণ নিশ্চয়তা। যা পাশ্চত্য নিয়ম-নীতি থেকে লক্ষ-কোটিগুণ উত্তম। কারণ পশ্চিমে একাধিক নারী বিবাহের রেওয়াজ ও সুযোগ নেই। কিন্তু রক্ষিতা গ্রহণ করতে বাধা নেই। আর পুরুষ রক্ষিতা গ্রহণ করে একমাত্র যৈবিক চাহিদা পূরণ করার জন্য। সেটি পূর্ণ হয়ে গেলে সেই নারীকে রাস্তার আস্তাকুড়ে নিক্ষেপ করে।

৩। প্রাচ্যবাদী ফ্রানসুয়া সাজান বলেন, হে পূর্বদেশের নারীবৃন্দ, যারা তোমাদেরকে নারী-পুরুষ সমান অধিকারের দাবিদার বলে সে দিকে আহ্বান করে, তারা মূলত: তোমাদের নিয়ে হাসি তামাশা করছে। কারণ, পূর্বে আমাদের নিয়েও ঐ রকম হাসি তামাশা করা হয়েছিল।

৪। স্যার ডন হারমুর বলেন, পর্দা হচ্ছে নারীদের সম্মান ও ইহতেরাম পাওয়ার মূল চাবি কাঠি। আমাদের এ জন্য মুসলিমদের সাথে গিবতা ও ঈর্ষা করা উচিত।