hadith book logo

ব্যক্তি ও সমাজ সংশোধনে ইসলামি দিক নির্দেশনা

লেখকঃ মুহাম্মদ বিন জামীল যাইনূ • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৩

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দাওয়াত ও জেহাদের কিছু ঘটনা

আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রিয়রাসূল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বিশ্ব জগতের জন্য রহমত স্বরূপ প্রেরণ করেছেন। তিনি এসে আরব, অনারবসহ বিশ্ব মানবতাকে এমন এক দ্বীনের দিকে ডাকেন যাতে তাদের ইহলৌকিক ও পারলৌকিক কল্যাণ, শান্তি ও মুক্তি নিহিত রয়েছে। প্রথমই তিনি তাদেরকে এক আল্লাহর ইবাদতের প্রতি আহ্বান করেন। প্রার্থনা, জিকির">দোয়া ও সাহায্য সব তাঁর কাছেই চাওয়ার দাওয়াত প্রদান করেন।

আল্লাহ তাআলা স্বীয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নির্দেশ দিয়ে বলেন:

(আরবি)

বল, নিশ্চয় আমি আমার রবকে ডাকি এবং তার সাথে কাউকে শরিক করি না। (সূরা জিন : ২০ )

মুশরিকরা তাঁর এই দাওয়াত প্রতিরোধ করার চেষ্টা করে, তাকে বাধা দেয়। কারণ, তার দাওয়াত ছিল তাদের মূর্তি পুজা ও তাদের বাপ-দাদা হতে প্রাপ্ত পথের অন্ধ অনুসরণ বিরুদ্ধ কথা। ফলে তারা তাঁকে নানা দোষে দোষারোপ করতে লাগল। কখনও বলত যাদুকর, কখনও বলত পাগল, অথচ এই সত্য পথের দাওয়াত দানের পূর্বে তারা তাঁকে সত্যবাদী ও আমানতদার বলেই ডাকতো।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কওমের এই ধরনের অন্যায় আচারণ সহ্য করতে থাকেন। কারণ, আল্লাহ তাআলা তাঁকে উদ্দেশ্য করে বলেন:

(আরবি)

অতএব তোমার রবের হুকুমের জন্য ধৈর্য্য ধারণ কর এবং তাদের মধ্য থেকে কোনো পাপিষ্ঠ বা অস্বীকরকারীর আনুগত্য করো না। (সূরা দাহার : ২৪ )

তিনি মক্কায় তের বছর ধরে একত্ববাদ ও তাওহিদের দিকে লোকদের ডাকতে থাকেন। আর অনুসারীদের নিয়ে কাফেরদের পক্ষ থেকে আগত কষ্ট ও যাতনা সহ্য করতে থাকেন। এক পর্যায়ে ন্যায়, ভালবাসা ও সাম্যের উপর ভিত্তি করে নতুন এক ইসলামি সমাজ গঠন করার উদ্দেশ্যকে সামনে নিয়ে নিজ সাহাবিদের নিয়ে মদিনা শরিফে হিজরত করেন।

আল্লাহ তাআলা তাঁকে বিভিন্ন মুজেযা দ্বারা সাহায্য করছেন। আল্লাহ প্রদত্ত সবচেয়ে বড় মুজেযা হল কোরআন শরিফ যা তাওহিদ, ইলম, জেহাদ, ও উন্নত চরিত্রের দিকে আহ্বান করে।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনায় দাওয়াতের পাশাপাশি বিভিন্ন রাজা বাদশাহদের নিকট ইসলামের দাওয়াত দিয়ে পত্র লেখেন। যেমন রোমের বাদশাহ কায়সারকে পত্র দিয়ে বলেন, ইসলাম গ্রহণ করুন, নিরাপদ হয়ে যাবেন এবং আপনাকে আল্লাহ তাআলা দ্বিগুন সাওয়াব দিবেন।

আরও লেখেন, হে আহলে কিতাবগণ! তোমরা এক কালিমার দিকে অগ্রসর হও, যা তোমাদের ও আমাদের মধ্যে মিল ঘটাবে। তা হল আমরা আল্লাহ ছাড়া অন্যের ইবাদত করব না, তাঁর সাথে কোনো শিরক করব না। আর আল্লাহকে ছেড়ে আমরা একে অন্যকে রব বলে গ্রহণ করব না। আর ধর্মযাজক-পাদ্রীরা হালাল ও হারামের ভিতর যে নতুন সংযোজন করেছে তার অনুগত হব না।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুশরিক ও ইহুদিদের সাথে যুদ্ধ করেছেন যতক্ষণ পর্যন্ত না তাদের উপর জয়যুক্ত হয়েছেন। প্রায় ত্রিশটি গজওয়াতে (জেহাদে) নিজে শরিক হয়েছেন। জেহাদ, দাওয়াত ও মানবতাকে জুলুম (শিরক) ও মানুষের দাসত্বের শিকল থেকে মুক্ত করার জন্য বিভিন্ন জায়গায় শত শত সারিয়্যাহ (যেসব জেহাদে নবীজী নিজে অংশ গ্রহণ করেননি বরং সাহাবিদের পাঠিয়েছেন) প্রেরণ করেছেন। তিনি তাদেরকে সর্ব প্রথম তাওহিদের প্রতি দাওয়াত দিতে বলতেন।