hadith book logo

ব্যক্তি ও সমাজ সংশোধনে ইসলামি দিক নির্দেশনা

লেখকঃ মুহাম্মদ বিন জামীল যাইনূ • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৮

হারাম কাজ হতে নিবৃত্ত রাখা

১। সন্তানদের সব সময় কুফরি কথা-বার্তা, গালাগাল, অভিশাপ ও আজেবাজে কথা বলা হতে উপযুক্ত উপদেশের মাধ্যমে নিবৃত্ত রাখতে হবে। আর নম্র ও মিষ্টি ভাষায় তাদের এটা শেখাতে হবে, কুফরি কাজ ও কথা-বার্তা হারাম, এর কারণে চিরস্থায়ী ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে জাহান্নামে প্রবেশ করতে হবে। আমাদের জিহবাকে তাদের সম্মুখে সর্বাবস্থায় সংযত রাখতে হবে, যাতে আমরা তাদের জন্য অনুকরণীয় আদর্শ হতে পারি।

২। তাদেরকে তাস, পাশা, দাবা, লুডু, কেরাম ও জুয়া খেলাসহ সর্ব প্রকার হারাম খেলা হতে নিবৃত্ত রাখতে হবে। এ খেলাগুলো প্রাথমিকভাবে সাধারণত: সময় কাটানোর জন্যই শুরু করা হয় কিন্তু ক্রমান্বয়ে তা জুয়ায় রূপান্তরিত হয়। ফলে পারস্পরিক শত্রুতার সৃষ্টি হয়। তাছাড়া এগুলো ব্যক্তিগত টাকা-পয়সা, সময় এবং সালাতকেও নষ্ট করে।

৩। তাদেরকে আজেবাজে পত্রিকা পড়া হতে নিবৃত্ত রাখতে হবে। সাথে সাথে অশ্লীল ছবি, ডিটেকটিভ ও যৌন গল্প পড়া হতেও নিবৃত্ত রাখতে হবে। এ জাতীয় সিনেমা, টেলিভিশন, ভিডিও দেখা হতেও নিষেধ করতে হবে। কারণ, এগুলো তাদের চরিত্রকে কলুষিত ও ভবিষ্যতকে অন্ধকারাচ্ছন্ন করে তোলে।

৪। সন্তানকে ধুমপান ও মাদক দ্রব্য ব্যবহারের ব্যাপারে কড়াভাবে নিষেধ করতে হবে। বুঝাতে হবে যে, তাবৎ চিকিৎসকদের মিলিত মতামত হল, মাদক দ্রব্য ও এ জাতীয় জিনিস শরীরের মারাত্মক ক্ষতি করে। যক্ষ্মা ও ক্যান্সারের প্রধান কারণ হচ্ছে এই ধুমপান ও মাদকাশক্তি। ধুমপান দাঁতকে নষ্ট ও মুখকে দুর্গন্ধময় করে। বক্ষ ব্যাধির প্রধান কারণ হলো এই ধুমপান। এতে কোনোই উপকারিতা নেই। বরং ক্ষতিই ক্ষতি। তাই তা পান ও বিক্রয় করা হারাম। এর পরিবর্তে ফল বা লবণাক্ত কোনো দ্রব্য খেতে পরামর্শ দেয়া যেতে পারে।

৫। সন্তানদেরকে সর্বদা কথায় ও কাজে সত্যবাদী হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। তাদের সম্মুখে কখনো মিথ্যা কথা বলা যাবে না, যদিও হাসি বা ঠাট্টাচ্ছলে হোক। তাদের সাথে কোনো ওয়াদা করলে অবশ্যই তা পালন করতে হবে।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:

مَنْ قَالَ لصَبِيٍّ تَعالَ هَاكَ ( خُذْ ) ثُمَّ لَمْ يُعْطِهِ فَهِيَ كِذْبَةٌ ( صحيح رواه أحمد )

যে ব্যক্তি কোনো শিশুকে বলল, এসো... তা গ্রহণ কর । তার:পর তাকে তা দিল না, তাহলে তা হবে মিথ্যাবাদীতা। (সহিহ বর্ণনায় আহমাদ)

৬। সন্তানদের হারাম পথে উপার্জিত মাল যেমন- ঘুষ, সুদ চুরি, ডাকাতি, প্রতারণার মাধ্যতে অর্জিত পয়সায় আহার করালে এবং তা দ্বারা লালন পালন করলে সেসব সন্তান অসুখী, অবাধ্য হয় ও নানা ধরণের পাপে লিপ্ত হয়ে পড়ে।

৭। সন্তানদের উপর ধ্বংস বা গজবের বদদোয়া করা উচিত নয়। কারণ, দোয়া ভাল ও মন্দ উভয় প্রকারই কবুল হয়ে যায়। ফলে তারা আরো বেশি খারাপ ও পথভ্রষ্ট হয়ে যাবে। বরং এভাবে বলা উত্তম যে, আল্লাহ তোমায় সংশোধন করুন।

৮। আল্লাহর সাথে শরিক করা হতে তাদের খুব সাবধান করতে হবে। যেমন, মৃত ব্যক্তির নিকট প্রার্থনা করা, তাদের নিকট কোনো সাহায্য ভিক্ষা করা। কারণ তারাও আল্লাহর বান্দা, কারও কোনো ভাল কিংবা মন্দ করার কোনো ক্ষমতা তাদের নেই।

আল্লাহ তাআলা বলেন:

(আরবি)

আল্লাহকে বাদ দিয়ে এমন কাউকে ডেকো না, যে না তোমার কোনো উপকার করতে পারে আর না কোনো ক্ষতি। পরন্তু যদি তা কর তবে নিশ্চয়ই তুমি জালিমদের (মুশরিকদের) অন্তর্ভুক্ত । (সূরা ইউনুস : ১০৬ )