hadith book logo

ব্যক্তি ও সমাজ সংশোধনে ইসলামি দিক নির্দেশনা

লেখকঃ মুহাম্মদ বিন জামীল যাইনূ • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৬

নিম্নোক্ত বিষয়সমূহের ব্যাপারে আমাদের বিশেষভাবে খেয়াল রাখা প্রয়োজন।

১। বাচ্চাদেরকে প্রথমে ‘ ‍‍‌‌‍ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ’ পড়তে শিক্ষা দেয়া, অত:পর পরিণীত বয়সে উপনীত হলে কালেমার অর্থ শিক্ষা দেয়া।

২। সর্বদা সন্তানের হৃদয়ে আল্লাহর প্রতি ঈমান ও তাঁর প্রতি ভালবাসা সৃষ্টি করতে আন্তরিক হওয়া। কারণ, আল্লাহ তাআলা আমাদের সৃষ্টি করেছেন, রিজিক প্রদান করছেন, বিপদ থেকে উদ্ধার করেন। তিনি একক ও শরিকবিহীন। সুতরাং ইবাদতের সত্যিকার অধিকারী তিনিই। তিনিই প্রকৃত মাবুদ এবং সকল ইবাদত পাওয়ার একমাত্র যোগ্য সত্ত্বা।

৩। সন্তানদেরকে জান্নাত সম্বন্ধে জ্ঞান দান করে তাতে প্রবেশের ব্যাপারে উদ্ধুদ্ধ করা। যেসব কাজের মাধ্যমে জান্নাত লাভ করা যায় সে সম্বন্ধে তাদের ধারণা দেয়া, যেমন যারা সালাত আদায় করবে, সওম পালন করবে, মাতা-পিতার বাধ্য থাকবে, আর আল্লাহ যাতে রাজি খুশী হন সেসব কাজ করবে, তারাই জান্নাতে প্রবেশ করবে। সাথে সাথে জাহান্নাম সম্বন্ধে অবহিত করে সে ব্যাপারে ভীতি প্রদর্শন করতে হবে। উপদেশ দিয়ে বলতে হবে- যারা সালাত আদায় করে না, মাতা পিতার সাথে অসভ্য-অবাধ্য আচারণ করে, আল্লাহকে ক্রোধান্বিত করে এমন কাজে নিয়োজিত থাকে যেমন আল্লাহ প্রদত্ত শরিয়ত ত্যাগ করে মানুষের তৈরী আইন দ্বারা বিচার কাজ সম্পন্ন করে, শরিয়ত পরিপন্থী পন্থায় জীবন যাপন করে, মানুষের ধন-সম্পদ প্রতারণা, মিথ্যা কিংবা সুদের মাধ্যমে আত্মসাৎ করা সহ আল্লাহ ও বান্দার হক নষ্ট করে তারা জাহান্নামে প্রবেশ করবে।

৪। বাচ্চাদের ঈমান ও আকিদার প্রতি বিশেষ যত্নবান থাকতে হবে। তাদের শেখাতে হবে যে দোয়া একমাত্র আল্লাহর নিকটই করতে হবে এবং একমাত্র তাঁর নিকটই সাহায্য ভিক্ষা করতে হবে। কারণ, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর চাচাতো ভাই ইবনে আব্বাস রা. কে শিখিয়েছিলেন,

إذا سأَلْتَ فاسْألِ اللهَ وَاذا اسْتَعَنْتَ فَاسْتَعِنْ باللهِ ( رواه الترمذي وقال حسن صحيح )

যখন চাইবে কেবল আল্লাহর কাছেই চাইবে আর যখন সাহয্য প্রার্থনা করবে আল্লাহর কাছেই প্রার্থনা করবে। (তিরমিজি, হাসান-সহিহ)