hadith book logo

ব্যক্তি ও সমাজ সংশোধনে ইসলামি দিক নির্দেশনা

লেখকঃ মুহাম্মদ বিন জামীল যাইনূ • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৫

আল্লাহ্ তাআলা কোথায় আছেন?

যে আল্লাহ্ আমাদের সৃষ্টি করেছেন, তিনি কোথায় আছেন তা জানা আমাদের জন্য ওয়াজিব, যাতে করে আমাদের অন্তরের জিকির">দোয়া ও সালাতের দ্বারা তাঁর প্রতি আমরা ধাবিত হতে পারি । যে ব্যক্তি তার রব কোথায় আছেন সে সম্বন্ধে জ্ঞাত নয়, সে খুবই ক্ষতির মধ্যে আছেন। কারণ, যে এ ব্যাপারে জানবে না, সে তাঁর ইবাদতের হক পুরাপুরি আদায় করতে পারে না।

মহান আল্লাহ আরশের উপরে আছেন। আর আল্লাহ যে উপরে আছেন এইটি তাঁর একটি সিফাত। আর এই সিফাত কোরআন ও সহিহ হাদিসে বর্ণিত তাঁর অন্যান্য সিফাতের মতই। যেমন শ্রবন করা, দেখা, কথা বলা, অবতীর্ণ হওয়া এবং এ জাতীয় অন্যান্য সিফাত । সালাফে সালেহীনদের আকিদা এবং মুক্তিপ্রাপ্ত দল তথা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত এই ঈমান পোষণ করে যে, যেসব বিষয় সম্বন্ধে মহান আল্লাহ নিজেই তাঁর কিতাবে খবর দিয়েছেন, তা কোনো রকম পরিবর্তন, অস্বীকৃতি ও সৃষ্টির সাথে তুলনা ব্যতীতই তাঁর সাথে প্রযোজ্য। কারণ, আল্লাহ তাআলা বলেন:

(আরবি)

কোনো কিছুই তাঁর মত নয়। তিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টা।(সূরা শুরা : ১১ )

সেসব সিফাতের একটি হচ্ছে, তিনি সৃষ্টির উপরে আছেন। এর উপর ঈমান আনা ওয়াজিব।

এ কারণে যখন ইমাম মালেককে পবিত্র কোরআনের আয়াত (অর্থাৎ, রহমান (আল্লাহ) আরশের উপর আছেন) সম্বন্ধে প্রশ্ন করা হয়েছিল। । তিনি বলেছিলেন:

উপরে আছেন তা তো বুঝাই যাচ্ছে, কিন্তু কিভাবে আছেন তা অজানা, আর তার উপরে ঈমান আনা ওয়াজিব।

হে মুসলিম ভাই, ইমাম মালেকের বক্তব্যের প্রতি লক্ষ্য করুন। তিনি আল্লাহ উপরে আছেন, এ বিষয়ে ঈমান আনাকে প্রতিটি মুসলিমের জন্য ওয়াজিব বলে মন্তব্য করেছেন। কিন্তু কিভাবে আছেন, তা আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না।(ঈমানের জন্য সেটি জানা জরুরিও নয়)

এ জন্যই আল্লাহ তাআলার যে সমস্ত সিফাত কোরআনে ও সহিহ হাদিসে উল্লেখ আছে, তার কোনো একটাকে অস্বীকার করলে, (যেমন আল্লাহ আসমানের উপরে আছেন) সে ঐ আয়াত বা হাদিসকে অস্বীকারকারী হল। কারণ, এই সিফাত হচ্ছে পূর্ণতার, সম্মানের ও উঁচু। তা কোন ক্রমেই আল্লাহ হতে অস্বীকার করা যায় না। কিন্তু পরবর্তী যামানার কিছু ওলামা যারা দর্শনের (philosophy)দ্বারা প্রভাবিত হয়ে কিছ কিছু আয়াত ও সিফাতকে বিকৃত করতে সচেষ্ট হয়।ফলে এদের কারণে বহু লোকের আকিদা নষ্ট হয়ে গেছে। তারা আল্লাহ পাকের এই পূর্ণ সিফাতকে পর্যন্ত অস্বীকার করে।তারা সালাফগণের পথের বিরোধিতা করে। কিন্তু মূলে সালাফগণের রাস্তাই হচ্ছে বিশ্বাসযোগ্য, জ্ঞান নির্ভর ও হিকমত পূর্ণ।ঐ ব্যক্তির কথা কতই না উত্তম যিনি বলেন: প্রতিটি ভালই রয়েছে সালাফগণের রাস্তা অনুসরনের মধ্যে, আর প্রতিটি খারাবীই রয়েছে পরববর্তীগনের বিদআতকে মূল কথা বলে মেনে নিয়ে তা অনুসরনের মধ্যে।

কোরআন ও সহিহ হাদিসে আল্লাহ তাআলার যে সমস্ত সিফাতের কথা বলা হয়েছে তার উপর ঈমান আনা ওয়াজিব। সুতরাং তাঁর সিফাতসমূহের মধ্যে পার্থক্য সৃষ্টি করা, কিংবা কিছু সিফাতকে যেভাবে আছে সেভাবে স্বীকার করা আর কিছুকে পরিবর্তন করে বিশ্বাস করা। এমনটি কোনো ক্রমেই জায়েয হবে না।

যে ব্যক্তি বিশ্বাস করে যে, নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা শ্রবণকারী ও দর্শনকারী, তার মানে এই নয় যে, তার শ্রবণ ও দর্শনযন্ত্র আমাদেরই মত।

এমনিভাবে তার জন্য এটাও বিশ্বাস করা দরকার যে, আল্লাহ আসমানের উপর আছেন, ঠিক যেভাবে তার সম্মানের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ হয় সেভাবেই আছেন। কোনো সৃষ্টির সাদৃশ্য হয়ে নয়। কারণ এই সমস্ত সিফাত আল্লাহ তাআলার পূর্ণতা প্রকাশ করে। তা তিনি তাঁর কিতাবে প্রমাণ করেছেন এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর হাদিসেও তা প্রমাণ করেছেন। সত্যিকারের ফিতরত ও বুদ্ধি-বিবেচনাও একে স্বীকার করে।

ইমাম বোখারি রহ.-এর উস্তাদ নাইম ইবনে হাম্মাদ রহ. বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহকে তাঁর সৃষ্টির সাথে তুলনা করল সে কুফরি করল। আর আল্লাহ তাআলা নিজের সম্বন্ধে যা বলেছেন তাকে যে অস্বীকার করল সেও কুফরি করল। আল্লাহ তাআলা তাঁর নিজের সম্বন্ধে কিংবা তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সম্বন্ধে যা বলেছেন তাতে কোনো তুলনার অবকাশ নেই। (শরহু আকিদাহ্ তাহাবিয়া)।