hadith book logo

ব্যক্তি ও সমাজ সংশোধনে ইসলামি দিক নির্দেশনা

লেখকঃ মুহাম্মদ বিন জামীল যাইনূ • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৮১

এক আমেরিকান যুবতীর ইসলাম গ্রহণ, ইসলামই হচ্ছে মানব জাতির রক্ষা ও হেফাযতের একমাত্র রাস্তা।

হাজেরা। যার আমেরিকান নাম ছিল এমিলি। বয়স আটাশ বছর। তিনি কলম্বিয়ার মিসৌরি বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজ কল্যাণ বিভাগে পড়া শুনা করতেন। প্রায় দুই বছর পূর্ব হতে তিনি ইসলাম ও তার হাকিকত সম্বন্ধে জানার জন্য খুবই অধ্যাবসায়ের সাথে প্রচুর পড়াশুনা শুরু করেন। এ জন্য তিনি খুবই ব্যস্ত হয়ে পড়েন। তিনি দ্রুত উপলব্ধি করেন যে, আমেরিকার বস্তুগত সাংস্কৃতির মধ্যে এই জাতীয় কথাবার্তা পাওয়া যাবে না। দুই বছর গভীর গবেষণা ও অনেক চিন্তা ভাবনার পর এমিলি ইসলাম ধর্ম কবুল করার ঘোষণা দেন। তারপর নিজ নাম পাল্টিয়ে রাখেন হাজেরা। কারণ হিসাবে বলেন, এই নামটি আমার নিকট অত্যন্ত প্রিয় কারণ, এটি ইসলামের সাথে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত।

হাজেরা তার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, বহু বছর যাবত আমার মনের ভেতর বিভিন্ন জিনিস সম্বন্ধে প্রশ্ন উদিত হচ্ছিল। যেমন বিশ্ব জগত, দুনিয়ার অস্তিত্ব, জীবন ইত্যাদি। আমি এগুলির সমাধান খুঁজে পাওয়ার জন্য নানা গবেষণা ও চিন্তা ভাবনা করছিলাম। এ জাতীয় প্রশ্নের যথার্থ উত্তর পাওয়ার জন্য উদগ্রীব ছিলাম। কিন্তু বৃথাই সমস্ত প্রচেষ্টা। কারণ, আমেরিকার বস্তুতান্ত্রিক শিক্ষার মধ্যে এবস প্রশ্নের গ্রহণযোগ্য কোনো ব্যাখ্যা পাইনি। আমি ইসলাম সম্বন্ধে অবগত ছিলাম। কিন্তু তার পরিপূর্ণ চিত্র আমার অন্তরে ছিল না। বরং নানা ধরণের বিপরীত মুখী কথা ছিল। যেমন, এটি এমন এক দ্বীন যা পুরুষ ও মহিলার মধ্যে সমতা বিধান করে না। তার নিয়মাবলী খুবই কঠোর ও শক্ত। এভাবেই ইসলামের হাকিকত সম্বন্ধে বহু দিন অজ্ঞ ছিলাম। তারপর ধীরে ধীরে ইসলামের পবিত্রতা সম্বন্ধে জ্ঞান অর্জন করতে শুরু করি এবং দেখলাম যে তা বস্তু জগতের বিরুদ্ধে এক বিরাট চ্যালেঞ্জ স্বরূপ। ফলে তখন হতেই আমি ইসলাম সম্বন্ধে জানার জন্য ইসলামি বই পড়তে তৎপর হই। প্রথম অবস্থায় এ সম্বন্ধে গবেষণা করা অত্যন্ত কষ্টসঙ্কুল ছিল। কারণ, ইসলাম সম্বন্ধে ইংরেজিতে বিশ্বাসযোগ্য বই খুব কমই আছে। শুরু হতেই কেমন যেন ইসলামের প্রতি একটা অন্তরের টান ও অনুভব করলাম। ভালবেসে ফেললাম প্রিয় ধর্ম ইসলামকে। কারণ তা ন্যায় ও ইনসাফের দ্বীন। প্রতিটি ব্যক্তিকেই স্বাধীনতা দান করে। তার কাজের ও আমলের বোঝা বহন করার সুযোগ দেয়। এভাবে যতই দিন যাচ্ছিল ততই ইসলাম সম্বন্ধে আমার ধ্যান ধারণা বাড়ছিল। অবশেষে আল্লাহ তাআলা ইসলাম গ্রহণ করার তাওফীক আমায় দান করলেন।