১
ব্যক্তি ও সমাজ সংশোধনে ইসলামি দিক নির্দেশনা
লেখকঃ মুহাম্মদ বিন জামীল যাইনূ • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৮৩
ইসলাম গ্রহণের পর বিশ্ব বিখ্যাত গায়ক ষ্টিফেন্স-এর স্বীকরোক্তি
১৪০০ হিজরির ৫ই রমজান। আল-মদীনা আল-মুনাওয়ারা পত্রিকায় বিশ্ব বিখ্যাত সঙ্গীত শিল্পী স্টিফেন্স এর বক্তব্য প্রকাশিত হয়েছে, যিনি ইসলাম গ্রহণের পর নিজের নাম রেখেছেন ইউসুফ ইসলাম। তার বক্তব্যে অনেকগুলো জিনিস সম্বন্ধে তিনি সুস্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা দিয়েছেন, বহু মূল্যবান ও প্রয়োজনীয় কথা বলেছেন তিনি। বলেছেন,
১। ইসলাম গ্রহণের পর আমি যখন গান করা ছেড়ে দিই, তখন পশ্চিমা জগতে বিশাল ধাক্কা লাগল। তারা একে অপরকে প্রশ্ন করতে শুরু করল, কিভাবে আমার এই পরিবর্তন? আর তখন থেকে প্রচার মাধ্যমে কিছু বলা কিংবা প্রচার করা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিলাম। ফলে, আস্তে আস্তে তারা আমাকে ভুলে গেল। আগে যেমন সাংবাদিকরা আমার পেছনে সময় সময় সর্বদা লেগে থাকত, এখন তারা ক্ষ্যন্ত হল। কারণ, পশ্চিমের সবকটি প্রচার মাধ্যম ইহুদিদের দ্বারা প্রচারিত ও নিয়ন্ত্রিত। তাদের হাতেই সবগুলোর চাবি কাঠি।
২। আমার ইসলাম গ্রহণের মূল কারণ হল আমার ভাই, যিনি মসজিদুল আকসা যিয়ারতে গিয়েছিলেন। সেখান হতে তিনি আমার জন্য দুই জিলদ কোরআন (আরবী ও ইংরেজি) উপহার হিসেবে পাঠিয়েছিলেন। কারণ তিনি জানতেন, আসমানি ধর্মসমূহের প্রতি আমার বিশেষ আকর্ষণ আছে। আমি একাকি কোরআন পাঠ করতাম । আস্তে আস্তে আমার পড়াশুনা পূর্ণতায় রূপ নিল। তারপর রাসূলের জীবনি পাঠ করলাম। তার ব্যক্তিত্ব দ্বারা বিশেষভাবে প্রভাবিত হয়ে পড়লাম। এভাবে দেড় বছর যাবত নানাভাবে পড়াশুনা করার পর ইসলামের শ্রেষ্ঠত্ব আমাকে দারুণভাবে মুগ্ধ করে ফেলল। আমি বুঝে গেলাম এটিই সহিহ দ্বীন। আমি আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করছি, এই জন্য যে কোনো মুসলিমের সাথে মিলিত হবার পূর্বেই এবং তাদের মধ্যে যে বিবাদ-বিভেদ আছে তা জানার পূর্বেই, আমি ইসলামে প্রবেশ করেছিলাম।
৩। তারপর আমি বাইতুল মুকাদ্দাসে গমন করি। আমাকে দেখে মসজিদুল আকসার মুসলিমগণ খুশিতে আত্মহারা হয়ে পড়লেন। আমি কাঁদলাম ও সালাত আদায় করলাম। আল-কুদস হচ্ছে মুসলিম জগতের হৃদয়। আজ সে হৃদয় রোগাক্রান্ত। ফলে সম্পূর্ণ ইসলামি জগতও অসুস্থ। সেটি যদি সুস্থ হয় তবে শরীরও সম্পূর্ণ সেরে উঠবে। আমাদের সকলের একান্ত কর্তব্য হল এই হৃদয়কে ইসলামের নামে মুক্ত-স্বাধীন করা।
৪। ফিলিস্তিন জাতির কর্তব্য হচ্ছে ইসলাম ও দ্বীনকে পূর্ণভাবে আঁকড়ে ধরা, সঠিক সময়ে সঠিকভাবে সালাত আদায় করা। আমি এটা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আল্লাহ অবশ্যই তাদের সাহায্য করবেন।
৫। ইসলাম গ্রহণের পর যখন আমাকে বলা হল, ধুমপান হারাম, সাথে সাথে নিজেকে তা হতে বিরত রাখি। মদ্যপান ত্যাগ করি। মহিলাদের সাথে মেলামেশা বন্ধ করে দেই চিরতরে। আর গান বাজনা হতে নিজেকে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে রাখি।
৬। জনৈকা পর্দনশীলা মুসলিম রমণীকে বিয়ে করি। কারণ, দৈহিক সুন্দর্যই মুসলিম মহিলাদের মৌল বিষয় নয়। ইসলামই হচ্ছে ঈমান ও সম্মানের চাবিকাঠি।
৭। এখন আমি আরবি ভাষা শিখতে তৎপর হয়েছি যাতে কোরআন তেলাওয়াত করতে পারি। সাথে সাথে যেন তার স্বাদ গ্রহণ ও অর্থ বুঝতে পারি। শীঘ্রই আমি ইসলামের বড়ত্ব ও মহত্ব সম্বন্ধে বই লিখব বলে আশা করছি। কারণ আমার যে খ্যাতি ও প্রসিদ্ধি আছে বিশ্বব্যাপী তা ইসলাম প্রচারে ব্যবহার করতে চাই।
৮। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, কালেমা পড়ার পরে ওয়াক্ত মত সালাত আদায় করা ইসলামের সর্বোচ্চ রোকন। সময় মত সালাতের হেফাযত করা মানুষ ও ইসলামের জন্য সর্বোচ্চ রক্ষাকবচ। প্রতিটি সালাতের পরই সুখ ও প্রশান্তির এক ঝর্ণাধারা আমি আমার মধ্যে অনুভব করি।
শুনেছি ইউসুফ ইসলাম ইংল্যান্ডে বসবাস করেন। সেখানে তিনি ইসলাম প্রচার কাজে ব্যস্ত সময় অতিবাহিত করেন। তার নিজস্ব মসজিদ রয়েছে। তার নিকট অন্যান্য মুসলিমবৃন্দ একত্রিত হন এবং বিভিন্ন কাজে তাকে সাহায্য করেন। ইসলাম আঁকড়ে থাকা ও তার বিধি-বিধানকে ভালবাসার ক্ষেত্রে তিনি সম সাময়িক অন্য অনেক মুসলিমদের অতিক্রম করে গেছেন। আল্লাহ তাআলার নিকট দোয়া করি, হে আল্লাহ তুমি তাকে তাওফীক ও দৃঢ়তা দান করো। তার মধ্যে বরকত দাও। সারা বিশ্বে তার মত আরো যেসব মসলিমবৃন্দ আছেন তাদের মধ্যেও বরকত দান করো।
১। ইসলাম গ্রহণের পর আমি যখন গান করা ছেড়ে দিই, তখন পশ্চিমা জগতে বিশাল ধাক্কা লাগল। তারা একে অপরকে প্রশ্ন করতে শুরু করল, কিভাবে আমার এই পরিবর্তন? আর তখন থেকে প্রচার মাধ্যমে কিছু বলা কিংবা প্রচার করা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিলাম। ফলে, আস্তে আস্তে তারা আমাকে ভুলে গেল। আগে যেমন সাংবাদিকরা আমার পেছনে সময় সময় সর্বদা লেগে থাকত, এখন তারা ক্ষ্যন্ত হল। কারণ, পশ্চিমের সবকটি প্রচার মাধ্যম ইহুদিদের দ্বারা প্রচারিত ও নিয়ন্ত্রিত। তাদের হাতেই সবগুলোর চাবি কাঠি।
২। আমার ইসলাম গ্রহণের মূল কারণ হল আমার ভাই, যিনি মসজিদুল আকসা যিয়ারতে গিয়েছিলেন। সেখান হতে তিনি আমার জন্য দুই জিলদ কোরআন (আরবী ও ইংরেজি) উপহার হিসেবে পাঠিয়েছিলেন। কারণ তিনি জানতেন, আসমানি ধর্মসমূহের প্রতি আমার বিশেষ আকর্ষণ আছে। আমি একাকি কোরআন পাঠ করতাম । আস্তে আস্তে আমার পড়াশুনা পূর্ণতায় রূপ নিল। তারপর রাসূলের জীবনি পাঠ করলাম। তার ব্যক্তিত্ব দ্বারা বিশেষভাবে প্রভাবিত হয়ে পড়লাম। এভাবে দেড় বছর যাবত নানাভাবে পড়াশুনা করার পর ইসলামের শ্রেষ্ঠত্ব আমাকে দারুণভাবে মুগ্ধ করে ফেলল। আমি বুঝে গেলাম এটিই সহিহ দ্বীন। আমি আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করছি, এই জন্য যে কোনো মুসলিমের সাথে মিলিত হবার পূর্বেই এবং তাদের মধ্যে যে বিবাদ-বিভেদ আছে তা জানার পূর্বেই, আমি ইসলামে প্রবেশ করেছিলাম।
৩। তারপর আমি বাইতুল মুকাদ্দাসে গমন করি। আমাকে দেখে মসজিদুল আকসার মুসলিমগণ খুশিতে আত্মহারা হয়ে পড়লেন। আমি কাঁদলাম ও সালাত আদায় করলাম। আল-কুদস হচ্ছে মুসলিম জগতের হৃদয়। আজ সে হৃদয় রোগাক্রান্ত। ফলে সম্পূর্ণ ইসলামি জগতও অসুস্থ। সেটি যদি সুস্থ হয় তবে শরীরও সম্পূর্ণ সেরে উঠবে। আমাদের সকলের একান্ত কর্তব্য হল এই হৃদয়কে ইসলামের নামে মুক্ত-স্বাধীন করা।
৪। ফিলিস্তিন জাতির কর্তব্য হচ্ছে ইসলাম ও দ্বীনকে পূর্ণভাবে আঁকড়ে ধরা, সঠিক সময়ে সঠিকভাবে সালাত আদায় করা। আমি এটা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আল্লাহ অবশ্যই তাদের সাহায্য করবেন।
৫। ইসলাম গ্রহণের পর যখন আমাকে বলা হল, ধুমপান হারাম, সাথে সাথে নিজেকে তা হতে বিরত রাখি। মদ্যপান ত্যাগ করি। মহিলাদের সাথে মেলামেশা বন্ধ করে দেই চিরতরে। আর গান বাজনা হতে নিজেকে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে রাখি।
৬। জনৈকা পর্দনশীলা মুসলিম রমণীকে বিয়ে করি। কারণ, দৈহিক সুন্দর্যই মুসলিম মহিলাদের মৌল বিষয় নয়। ইসলামই হচ্ছে ঈমান ও সম্মানের চাবিকাঠি।
৭। এখন আমি আরবি ভাষা শিখতে তৎপর হয়েছি যাতে কোরআন তেলাওয়াত করতে পারি। সাথে সাথে যেন তার স্বাদ গ্রহণ ও অর্থ বুঝতে পারি। শীঘ্রই আমি ইসলামের বড়ত্ব ও মহত্ব সম্বন্ধে বই লিখব বলে আশা করছি। কারণ আমার যে খ্যাতি ও প্রসিদ্ধি আছে বিশ্বব্যাপী তা ইসলাম প্রচারে ব্যবহার করতে চাই।
৮। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, কালেমা পড়ার পরে ওয়াক্ত মত সালাত আদায় করা ইসলামের সর্বোচ্চ রোকন। সময় মত সালাতের হেফাযত করা মানুষ ও ইসলামের জন্য সর্বোচ্চ রক্ষাকবচ। প্রতিটি সালাতের পরই সুখ ও প্রশান্তির এক ঝর্ণাধারা আমি আমার মধ্যে অনুভব করি।
শুনেছি ইউসুফ ইসলাম ইংল্যান্ডে বসবাস করেন। সেখানে তিনি ইসলাম প্রচার কাজে ব্যস্ত সময় অতিবাহিত করেন। তার নিজস্ব মসজিদ রয়েছে। তার নিকট অন্যান্য মুসলিমবৃন্দ একত্রিত হন এবং বিভিন্ন কাজে তাকে সাহায্য করেন। ইসলাম আঁকড়ে থাকা ও তার বিধি-বিধানকে ভালবাসার ক্ষেত্রে তিনি সম সাময়িক অন্য অনেক মুসলিমদের অতিক্রম করে গেছেন। আল্লাহ তাআলার নিকট দোয়া করি, হে আল্লাহ তুমি তাকে তাওফীক ও দৃঢ়তা দান করো। তার মধ্যে বরকত দাও। সারা বিশ্বে তার মত আরো যেসব মসলিমবৃন্দ আছেন তাদের মধ্যেও বরকত দান করো।