hadith book logo

ব্যক্তি ও সমাজ সংশোধনে ইসলামি দিক নির্দেশনা

লেখকঃ মুহাম্মদ বিন জামীল যাইনূ • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৬৪

বর্তমান যুগে গান বাজনা

বর্তমান জামানায় বেশির ভাগ গান হয় বিয়ের মজলিস ও এ জাতীয় অন্যান্য উৎসব-অনুষ্ঠানে, রেডিও ও টেলিভিশনের মাধ্যমে। পরিবেশনকৃত এসব গানের বেশির ভাগই হয় ভালবাসা, শাহওয়াত, চুমু, দেখা-সাক্ষাৎ ও যৌন সুড়সুড়ি প্রদান মূলক । তাতে থাকে চেহারা, কপাল ও শরীরের অন্যান্য অঙ্গ প্রতঙ্গের বর্ণনা। যা যুবকদের মনে কামনা-বসনা জাগিয়ে তোলে, তাদেরকে অশ্লীল কাজ ও ব্যভিচার করতে উদ্বুদ্ধ করে এবং তাদের চরিত্রকে ধ্বংস করে।

গায়ক গায়িকারা গান বাজনার নামে একত্রিত হলে পয়সা-কড়ি ব্যয় হয়, আর তা করা হয় সংস্কৃতির নাম দিয়ে জাতীয় তহবিল থেকে চুরি করে। তারপর ঐ পয়সা-কড়ি নিয়ে তারা ইউরোপ-আমেরিকাতে বাড়ী গাড়ী খরিদ করে। তারা তাদের অশ্লীল গান বাজনা দিয়ে একদিকে জাতীয় চরিত্র নষ্ট করে অন্য দিকে রাষ্ট্রীয় সম্পদ পাচার হয় শত্রুদেশে। তাদের অশ্লীল ও নগ্ন শরীল দেখিয়ে যুবকদের চরিত্র নষ্ট করে। ফলে, আল্লাহকে ছেড়ে তারা তাদেরকে ভালবাসতে থাকে। ১৯৬৭ সালে ইহুদিদের সাথে যুদ্ধের সময় রেডিও হতে বলা হচ্ছিল, তোমরা যুদ্ধে অগ্রসর হও কারণ তোমাদের সাথে অমুক অমুক গায়িকা আছে। এর ফলে, (আল্লাহর সাহায্য থেকে তারা বঞ্চিত হয়ে) পাপিষ্ট ইহুদিদের সাথে চরমভাবে পরাজিত হয়। মুসলমান হিসাবে তাদের বলা উচিৎ ছিল, তোমরা সম্মুখে অগ্রসর হতে থাক তোমাদের সাথে আল্লাহ আছেন, তিনি তোমাদের সাহায্য করবেন।

এক গায়িকা সে সময় ঘোষণা দিয়েছিল ১৯৬৭ সালের যুদ্ধের পূর্বে তার প্রতি মাসে কায়রোতে যে মাসিক উৎসব অনুষ্ঠিত হতো, এ বছর যদি তারা জয়যুক্ত হয় তাহলে সেই অনুষ্ঠান সে তেলআবিবে করবে । অন্যদিকে ইহুদিরা যুদ্ধের পর বায়তুল মুকাদ্দাসের গোনাহ মোচনের দেয়ালের সামনে দাড়িয়ে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করেছিল, আল্লাহ তাদের সাহায্য করার জন্য।

দ্বীনি ও ভক্তিমূলক গান-বাজনার মধ্যে নানা ধরনের আকিদা বিরোধী কথা থাকে। যেমন বলা হল, প্রতি নবীরই একটা নির্দিষ্ট অবস্থান আছে, আর হে মুহাম্মাদ! এই সেই আরশ! একে গ্রহণ করুন। এই বাক্যের শেষ কথা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নামে মিথ্যা বানানো হয়েছে, যার মূল ঠিক নয়। কারণ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনোই আরশ গ্রহণ করবেন না, আর তাঁর রবও এ কথা বলবেন না।