hadith book logo

ব্যক্তি ও সমাজ সংশোধনে ইসলামি দিক নির্দেশনা

লেখকঃ মুহাম্মদ বিন জামীল যাইনূ • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৬৬

গান অন্তরে নিফাকি সৃষ্টি করে

বিশিষ্ট সাহাবি আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, গান অন্তরে (কপটতা) মুনাফেকী উৎপন্ন করে, যেমন পানি ঘাস উৎপন্ন করে। জিকির অন্তরে ঈমান উৎপন্ন করে, যেমন পানি ফসল উৎপন্ন করে।

আল্লামা ইবনুল কাইয়িম রাহিমাহুল্লাহ বলেন, যে ব্যক্তি সব সময় গান বাজনায় ব্যস্ত থাকে, তার অন্তরে নেফাকি সৃষ্টি হবে, যদিও তার মধ্যে এর অনুভূতি আসবে না। যদি সে নেফাকির হাকিকত বুঝতে পারত, তবে অবশ্যই অন্তরে তার প্রতিফলন দেখতে পেত। কারণ, কারো অন্তরে কোনো অবস্থাতেই গানের মহব্বত ও কোরআনের মহব্বত একত্রে সন্নিবেশিত হতে পারে না। তাদের একটি অবশ্যই অন্যটিকে দূর করে দিবে। কারণ আমরা দেখতে পাই যে, কোরআন তেলাওয়াত শ্রবণ করা, গান ও কাওয়ালী শ্রবণকারীদের কাছে খুবই কঠিন ঠেকে। আর তেলাওয়াতকারী যে আয়াত তেলাওয়াত করে, তা দ্বারা তারা মোটেই উপকৃত হয় না। ফলে শরীরে কোনো নড়াচড়া ও অন্তরে কোনো উদ্দীপনা আসে না। আর যখনই তারা গান শ্রবণ করে, তখনই তাদের কন্ঠস্বরে এক চাঞ্চল্যকর প্রভাব সৃষ্টি হয়, অন্তরে একটি ভাবের সৃষ্টি হয়, রাত্রি জাগরণ করা মধুর হয়। ফলে দেখতে পাই তারা গান বাদ্য শ্রবণ করাকে কোরআন তেলাওয়াত শ্রবণ অপেক্ষা বেশি প্রধান্য দেয়। বেশির ভাগ লোকই যারা গান ও বাদ্যের ফিৎনায় লিপ্ত আছে, তারা সালাত আদায়ে খুব অলসতা দেখায়। বিশেষ করে জামাতে সালাত আদায়ের ব্যাপারে।

হাম্বলি মাযহাবের বিখ্যাত আলেম ইবনে আকীল রাহিমাহুল্লাহ বলেন, যদি কোনো গায়িকা গান গায় তবে তা শ্রবণ করা হারাম। হ্যাঁ. নিজ স্ত্রী গান গাইতে জানলে স্বামীর জন্য গাওয়া এবং স্বামীর পক্ষে সেই গান শুনাতে কোনো দোষ নেই। এ ব্যপারে হাম্বলি মাজহাবে কোনো মতবিরোধ নেই।

ইবনে হাযম রহ. বলেন, মুসলিমদের পক্ষে বেগানা মহিলার গান শ্রবণ করে আনন্দ লাভ করা হারাম।