hadith book logo

ব্যক্তি ও সমাজ সংশোধনে ইসলামি দিক নির্দেশনা

লেখকঃ মুহাম্মদ বিন জামীল যাইনূ • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৫৬

দাড়ি লম্বা করা ওয়াজিব

১। আল-কোরাআনের বর্ণনানুযায়ী শয়তান বলে:

(আরবি)

আর অবশ্যই তাদেরকে আদেশ করব, ফলে অবশ্যই তারা আল্লাহর সৃষ্টি বিকৃত করবে। (সূরা নিসা : ১১৯ )

২। অন্যত্র আল্লাহ তাআলা বলেন:

(আরবি)

রাসূল তোমাদের যা দেয় তা গ্রহণ কর, আর যা থেকে সে তোমাদের নিষেধ করে তা থেকে বিরত থাক। (সূরা হাশর : ৭)

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাড়ি লম্বা করতে আদেশ করেছেন, আর মুন্ডন করতে নিষেধ করেছেন।

৩। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছন:

جَزُّوا الشَّوارِبَ وَاَرْخُوا اللحى خَالِفُوا المَجُوسَ ( رواه مسلم )

গোফকে ছোট কর, আর দাড়িকে লম্বা কর। এভাবে অগ্নিপূজকদের বিরোধিতা কর। (মুসলিম)

৪। অন্যত্র বলেছেন:

عَشْرٌ مِنَ الفطرة : قَصُّ الشَّوارِبِ وإعْفَاءُ اللِّحْيَةِ وَالسِّواكُ وَاسْتِنْشَاقُ الْمَاءِ وَ قَصُّ الأظَافِرِ الخ ( رواه مسلم )

দশটি আমল ফিতরাত তথা স্বভাব ধর্মী: গোফ খাটো করা, দাড়ি লম্বা করা, মেছওয়াক করা, নাকে পানি দেয়া (অজুর সময়) নোখের অগ্রভাগ কেটে ছোট করা ...। (সহিহ মুসলিম)

দাড়ি লম্বা করা ফিতরাতের অন্তর্ভুক্ত। তাই তা মুন্ডন করা হারাম। (মুসলিম)

৫। অন্যত্র আছে:

لَعَنَ رَسُولُ اللهِ صلّى اللهُ عَلَيْهِ وَسلَّمَ الْمُتَشَبِّهِيْنَ مِنَ الرَّجَالِ بِالنَّساء ( رواه البخاري )

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নারীদের সাদৃশ্যাবলম্বনকারী পুরুষদের উপর লানত করেছে। ( সহিহ বোখারি)

আর দাড়ি মুন্ডন করা ব্যক্তিকে মহিলাদের মতই দেখা যায়। ফলে সে আল্লাহর রহমত হতে দূরে সরে যায়।

৬। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:

لَكِنِّى أمَرَنِي رَبِّي عَزَّ وَجَلَّ أنْ أعْفِي لِحْيَتِي وَ أنْ أقُصَّ شَاربِي ( حسن رواه ابن جرير )

আর আমার রব আমাকে দাড়িকে লম্বা করতে হুকুম করেছেন, আর গোফকে ছোট করতে। (হাসান, বর্ণনায় ইবনে জারির তাবারি)।

সুতরাং দাড়ি লম্বা করা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নির্দেশ । শরয়ি পরিভাষায় একেই তো ওয়াজিব বলে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে ও তাঁর সাহাবায়ে কেরাম সর্বদা এ বিধানের উপর প্রতিষ্ঠিত ছিলেন।

৭। মুখমন্ডলের কোনো স্থানের পশম মুন্ডন করা জায়েয নয়। উপড়ে ফেলাও না জায়েয। কারণ, অভিধানে আছে, মুখমন্ডলের কপোল অংশটুকু দাড়িরই অন্তর্ভুক্ত।

৮। চিকিৎসা বিজ্ঞান প্রমাণ করেছে যে, দাড়ি চোয়ালদ্বয়কে সূর্যকিরণ থেকে রক্ষা করে। সুতারং তা মুন্ডন করা হলে ত্বকের জন্য ক্ষতিকর হবে।

৯। দাড়ি পুরুষ জাতির সৌন্দর্য বর্ধক, যে সৌন্দর্য দিয়ে আল্লাহ তাকে সৃষ্টি করেছেন। মহান আল্লাহ কিছু প্রণীকেও দাড়ি দিয়েছেন, যেমন মোরগ, যাতে মুরগি হতে আলাদা করা যায়। কথিত আছে এক নব বিবাহিত ব্যক্তি বাসর ঘরে স্ত্রীর সম্মুখে উপস্থিত হলো। সে নারী বিয়ের পূর্বে স্বামীর মুখে দাড়ি দেখেছিল। ফলে দাড়ি মুন্ডন করা অবস্থায় দেখে তার দিক হতে মুখ ঘুরিয়ে নেয়। স্বামীর দাড়ি বিহীন চেহারা তার মনোপুত হয়নি। বান্ধবীরা কোনো এক মেয়েকে জিজ্ঞেস করল, তুমি দাড়িওয়ালা ছেলেকে বিয়ে করতে মনস্থ করেছ কেন? উত্তরে সে বলল, আমি একজন পুরুষকে বিয়ে করতে চাই, কোনো মহিলাকে নয়।

১০। দাড়ি মুন্ডন করা নিষিদ্ধ কাজের অন্তর্ভুক্ত। তাই এ কাজকে নিষেধ করা আমাদের জন্য ওয়াজিব। কারণ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

مَنْ رأى مِنْكُم مُنْكَرًا فَلْيُغَيِّرْهُ بِيَدِهِ فَاِنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَبِلِسَانِهِ فَاِن ْلمْ يَسْتَطِعْ فَبِقَلْبِهِ وَذَلِكَ أضْعَفُ الايْمَانِ ( رواه مسلم )

তোমাদের কেউ কোনো নিষিদ্ধ কাজ সঙ্ঘটিত হতে দেখলে হাতের (শক্তি) দ্বারা তা প্রতিহত করবে, এতে সমর্থ না হলে মুখ দ্বারা প্রতিবাদ করবে তাতেও সমর্থ না হলে অন্তরে ঘৃণা করবে আর এটি দুর্বলতম ঈমান। (সহিহ মুসলিম)।َ

১১। দাড়ি মুন্ডন করা কোনো এক ব্যক্তিকে একদিন বলেছিলাম, তুমি কি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ভালবাস? উত্তরে সে বলল অবশ্যই, খুবই ভালবাসি। তখন বললাম: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, দাড়ি লম্বা করো। সুতরাং যে ব্যক্তি তাকে ভলবাসবে সে কি তার অনুসরণ করবে না বিরোধিতা করবে? উত্তরে বলল অনুসরণ করবে। অত:পর ওয়াদা করল যে, অবশ্যই দাড়ি লম্বা করবে।

১২। যদি আপনার স্ত্রী আপনাকে দাড়ি লম্বা করতে বাঁধা দেয় তখন বলুন, আমি একজন মুসলিম, আল্লাহর আনুগত্য করার মধ্যে আমার কামিয়াবি সুতরাং আমি আমার রবের বুরুদ্ধাচরণ করতে পারি না। এতে আমার ভয় হয়। নসিহত করার পাশাপাশি তাকে হাদিয়া পেশ করুন বিভিন্ন উপহার সামগ্রি দান করুন, তার মন ভুলানোর চেষ্টা করুন। আর তাকে রাসূলের সে হাদিস বর্ণনা করে শুনান, যাতে তিনি বলেছেন,

لا طَاعَةَ لِمَخْلُوقٍ في مَعْصِيَةِ الْخاَلقِ ( صحيح رواه أحمد )

স্রষ্টাকে অসন্তুষ্ট করে সৃষ্টির আনুগত্য নেই। (সহিহ, বর্ণনায় আহমাদ)।