hadith book logo

ছোটদের আকীদাহ ও আখলাক

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৪৪

১৪২. মৃতব্যক্তি কেন্দ্রিক কী কী ভুল সমাজে চালু আছে?

মৃত ব্যক্তির গোসল না দেয়া পর্যন্ত তার চারপাশে বসে কুরআন পাঠ করা।

মুমূর্ষ রোগীর সামনে কুরআন রেখে দেয়া।

মৃত ব্যক্তির নিকট সূরা ইয়াসিন পাঠ করা।

মুমূর্ষ ব্যক্তির নিকট হতে ঋতুবতী, প্রসূতি ও অন্যান্য অপবিত্র মানুষদেরকে দূরে রাখা।

দাফন না হওয়া পর্যন্ত মৃত ব্যক্তির ঘরের কোন খাবার না খাওয়া।

মৃতব্যক্তিকে গোসল দেয়ার সময় প্রত্যেক অঙ্গে পানি ঢালতে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বা অন্যকিছু পাঠ করা।

লাশ উঠানো ও নামানোর সময় এবং পথে নিয়ে যাওয়ার সময় উচ্চৈঃস্বরে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ এর যিকির করা।

মহিলার চুল ঝুটি না বেধে বুকের উপর খোলা ফেলে রাখা।

বরকতের আশায় বা আযাব মাফ হওয়ার আশায় কোন পীর বা ওলীর সুপারিশনামা অথবা কিছু আয়াত বা দু‘আ কাফনের ভিতরে রাখা।

কোন ওলীর কবরের পাশে কবর দেয়ার জন্য দূর থেকে লাশ আনা।

কাফনের উপর কোন আয়াত বা দু‘আ লিখা।

জানাযার খাটকে ফুল বা অন্যকিছু দিয়ে সজ্জিত করা।

সৌন্দর্যখচিত কালিমা অথবা আয়াত লিখিত মখমলের চাদর দ্বারা লাশ ঢাকা।

লাশের উপর বা কবরের উপর ফুল দেয়া।

পুষ্পস্তবক দ্বারা শ্রদ্ধাঞ্জলি দেয়া।

জানাযার সাথে পতাকা বহন করা।

এই বিশ্বাস রাখা যে, মৃত ব্যক্তি নেক হলে তার লাশ হাল্কা হয়।

চল্লিশ কদম মাত্র জানাযা বহন করে নির্দিষ্ট সওয়াবের আশা করা।

জানাযার সালাতের কাতারে গোলাপ জল ছিটানো।

জানাযার সালাত শেষে হাত তুলে জামা‘আতী দু‘আ করা।

দাফন করার সময় জোরে জোরে যিকির পড়া।

মুর্দার জন্য কবরে বালিশ তৈরি করা।

কবরকে সুগন্ধিময় করা।

মাটি দেয়ার সময় ‘মিনহা খালাকনাকুম’ আয়াতটি পাঠ করা।

কবরে যে লাশ রাখে সে ছাড়া সকলের ‘বিসমিল্লাহি ওয়া আলা মিল্লাতি রাসূলিল্লাহ’ দু‘আ পাঠ করা।

লাশের বুকে মাটি রাখা।

কবর অধিক উঁচু করা।

মৃত ব্যক্তির মাথার দিকে সূরা ফাতিহা বা সূরা বাকারার প্রথমাংশ এবং পায়ের দিকে সূরা বাকারার শেষাংশ পাঠ করা।

অমাবশ্যার রাতে মৃত্যুবরণ করা খারাপ বা অশুভ মনে করা।

দাফনকর্ম শেষ করে এসে হাত-মুখ না ধুয়ে বাড়িতে প্রবেশ করতে বা কাউকে স্পর্শ করতে হয় না বলে বিশ্বাস করা।

কবরের পাশে কোন খাদ্য বিতরণ বা পশু যবেহ করা।

মৃত ব্যক্তির স্ত্রী ব্যতীত অন্য কারো শোক পালনের উদ্দেশ্যে সৌন্দর্য ত্যাগ করা।

মৃতের নামে কুরআনখানি, ফাতেহাখানি ও চল্লিশার আয়োজন করা।

মুর্দা মারা যাওয়ার স্থানে কয়েকদিন যাবত বাতি ও ধুপ জ্বালিয়ে রাখা।

মৃত ব্যক্তির বাড়িতে রুহ আসে বলে মনে করা।

যিয়ারতের জন্য কোন দিন নির্ধারণ করা।

কারো কবর যিয়ারতের মাধ্যমে বরকত লাভ হবে মনে করা।

কবরের সামনে মুসল্লির মতো খাড়া হওয়া।

লোক ডেকে এনে সালাত ও তিলাওয়াত ইত্যাদি দ্বারা ইসালে সওয়াব করা।

ইসালে সওয়াবের উদ্দেশ্যে কোন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা।

কবরস্থানের গাছপালাকে পবিত্র মনে করা এবং তা কাটা অনুচিত মনে করা।

গোসলের পানি গরম করার জন্য পাক ঘরের চুলা বাদ দিয়ে বাইরে চুলা বানিয়ে পানি গরম করা।

মৃত ব্যক্তিকে যেখানে গোসল দেয়া হয় সে স্থান ৪ দিন কিংবা ৪০ দিন পর্যন্ত বেড়া দিয়ে সংরক্ষণ করা এবং রাতের বেলায় সেখানে মোম, হারিকেন বা বৈদ্যুতিক বাতি দিয়ে আলোকিত করে রাখা।

কাফন পরানোর সময় নির্ধারিত পরিমাণের চাউল, বিস্কুট ও ফলের ব্যবস্থা করা এবং সেগুলো কবরস্থানে আগত ফকিরদের মাঝে বিলি করা।

জানাযা নিয়ে যাওয়ার সময় ‘আল্লাহু রাববী, মুহাম্মাদ নবী’ কিংবা ‘কালিমা শাহাদাত’ পাঠ করা।

জানাযা নেয়ার সময় খাটিয়ার উপর আগরবাতি জ্বালানো।

জানাযা শেষে ‘‘লোকটি কেমন ছিল?’’ উপস্থিত সবাই ‘‘বেশ ভালো ছিল’’ এরকম প্রশ্নোত্তর করা।

জানাযা পড়ানোর সময় ইমাম একখন্ড সাদা কাপড় জায়নামায হিসেবে ব্যবহার করা, যা মূলত কাফনের কাপড়ের অংশ বিশেষ।

মৃত ব্যক্তির কাযা সালাত থাকলে কিংবা বেনামাযী হলে আর্থিক কাফফারা আদায় করা এবং মৃত ব্যক্তি গরীব হলে কাফফারার হিসেবে একটি কুরআন মাজীদ কাউকে হাদিয়া প্রদান করা।

মৃতব্যক্তির আত্মার শান্তি কামনা করে নীরবতা পালন করা।

কবরের উপর পুষ্পস্তবক অর্পণ করা।

দুই ঈদের দিন কবর যিয়ারত করাকে জরুরি মনে করা।

মৃত ব্যক্তিকে তার কোন আত্মীয়স্বজন স্বপ্নে দেখলে তার জন্য যেকোন খতম পড়ানো বা কোন অনুষ্ঠান করা।

সওয়াব পৌঁছানোর উদ্দেশ্যে হোক কিংবা বরকত লাভের নিয়তে- এসব কাজ থেকে বিরত থাকা উচিত। কেননা কুরআন-হাদীস ও সালাফে সালেহীন থেকে এসব কাজের সমর্থন পাওয়া যায় না।