hadith book logo

ছোটদের আকীদাহ ও আখলাক

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৪৭

১৪৫. কী কী কুসংস্কার সমাজে চালু আছে?

আমাদের মুসলিম সমাজে এমন অনেক কাজকর্ম হতে দেখা যায়, যা মূলত কল্পনাপ্রসুত অথবা অন্য কোন ধর্ম থেকে আমদানীকৃত। সমাজে এমন অনেক কুসংস্কার প্রচলিত আছে, যা অনেকটাই হিন্দুদের কাজকর্মের সাথে মিলে যায়। এসব কুসংস্কারমূলক কথা ও কাজ থেকে অবশ্যই আমাদেরকে বেরিয়ে আসতে হবে। নিচে কিছু কুসংস্কার সম্পর্কে আলোকপাত করা হলো।

সন্ধ্যায় ঘরে আলো না জ্বালালে অমঙ্গল হয় বলে মনে করা।

কুকুর কাঁদলে বিপদ আসবে বলে মনে করা।

কাক ডাকলে কেউ মারা যাবে বলে বিশ্বাস করা।

ভাঙ্গা আয়নায় চেহারা দেখলে অমঙ্গল হয় বলে বিশ্বাস করা।

বাম চোখ ফরকালে বিপদ, ডান চোখ ফরকালে সৌভাগ্য বলে মনে করা।

ডান হাতের তালু চুলকালে পয়সা আসে বলে মনে করা।

বাম হাতের তালু চুলকালে পয়সা যাবে বলে বিশ্বাস করা।

নাক ও কপালে ফোঁড়া হলে ধনসম্পদ আসবে বলে মনে করা।

ঘরের দরজায় হেলান দিয়ে/গালে হাত দিয়ে বসাকে কুলক্ষণ মনে করা।

জন্মগ্রহণের মাসে বিয়ে করলে অমঙ্গল হয় বলে মনে করা।

জোড় কলা খেলে জোড়া বাচ্চা হবে বলে ধারণা করা।

ফাঁটা বা ভাঙ্গা প্লেটে খেলে অলক্ষ্মী ঘরে আসে বলে মনে করা।

পরীক্ষায় শূন্য পাওয়ার ভয়ে পরীক্ষা দিতে যাওয়ার পূর্বে ডিম না খাওয়া।

পহেলা বৈশাখ বাংলা নববর্ষের দিন ভালো খাবার খেলে সারা বছরই ভালো খাবার জুটবে বলে মনে করা।

যাত্রার সময় কেউ হাঁচি দিলে/পেছন থেকে ডাকলে কুলক্ষণ মনে করা।

যাত্রাকালে কিছুতে হোঁচট খেলে অমঙ্গল হয় মনে করে একটু বসে পুনরায় যাত্রা করা।

শুরুতে বাধাগ্রস্ত হলে যাত্রা অশুভ হবে বলে মনে করা।

শনি, মঙ্গল ও আমাবশ্যার দিনকে অশুভ মনে করে শুভ কাজ না করা।

সকাল বেলা দোকান খোলার পর বাকিতে বিক্রি করলে সারাদিন বাকি বা ফাঁকি যাবে বলে মনে করা।

১ম বিক্রির বা ১ম ভাড়ার টাকা পেলে বরকতের আশায় চুমু খাওয়া, কপালে লাগানো।

জামাকাপড় গায়ে থাকা অবস্থায় সেলাই করা কুলক্ষণ মনে করা।

পরপর সন্তান মারা যাওয়ার পর পরবর্তী সন্তান জন্ম নিলে কান ছিদ্র করে দেয়া বা বাজে নাম রাখা।

কারও আলোচনা চলছে, ইতোমধ্যে সে এসে পড়লে বা ফোন করলে তার দীর্ঘজীবী হওয়ার আলামত বলে মনে করা।

নাচ-গান, বাদ্য-বাজনা, মডেলিং, ফ্যাশন, নাটক, বর্ষবরণ, বসন্তবরণ, রাখিবন্ধন, মঙ্গল প্রদীপ জ্বালানো ইত্যাদি প্রয়োজন মনে করা।

শনিবার দিন কোথাও যাওয়া ঠিক নয়, তাতে অকল্যাণ হবে মনে করা।

মৃত ব্যক্তির জন্য কিছুক্ষণ চুপ করে দাঁড়িয়ে নিরবতা পালন করা।

পেঁচা ডাকলে বিপদ আসন্ন মনে করা।

পায়ে তিল থাকলে বিদেশে যাওয়ার সুযোগ হয় না মনে করা।

ঠোঁটের নিচে তিল, কানের নিচে তিল থাকলে অকল্যাণ হয় মনে করা।

চোখ টেরা থাকলে ভাগ্যবান হওয়া মনে করা।

নাক বোঁচা থাকলে বেশি করে বিয়ের প্রস্তাব আসে মনে করা।

বাজি ধরা।

খাবার সময় সালাম না দেয়া।

সন্ধ্যার পর বাড়িতে বাজার থেকে মাছ আনলে মাছের সাথে দুষ্ট জিন আসে মনে করা।

খাবার সময় জিহবায় কামড় লাগলে কেউ তাকে গালি দিয়েছে ও কাশি দিলে কেউ তাকে স্মরণ করেছে বলে মনে করা।

কপালে টিপ লাগানো ও পায়ে আলতা ব্যবহার করা।

প্রথম যৌবনে মেয়েদের পর্দা করা জরুরি নয় মনে করা।

প্রথম সন্তান মেয়ে হলে মন খারাপ করা।

অভাবী মেয়েদের অলক্ষ্মী ও পোড়া কপালী বলা।

সবার সামনে বর কনেকে সালাত আদায় করানো।

নতুন বর্ষ শুরু উপলক্ষে বোমা ফাটানো ও আতশবাজি করা।

বছরের প্রথম দিন ক্রেতাকে বাকি না দেয়া।

সকাল-সন্ধ্যায় নিয়মিতভাবে দোকানে আগরবাতি জ্বালানো ও পানি ছিটানো।

সবসময় ক্যাশ খালি না রেখে কিছু না কিছু টাকা পয়সা রাখা।

ছেলেদের কান ছিদ্র করা ও তাতে দুল পরিধান করা।

ছেলেদের গলায় চেইন পরিধান করা।

শিখা অনির্বাণ ও শিখা চিরন্তনের নামে প্রজ্জ্বলিত আগুনে সালাম দেয়া ও ফুল দেয়া।

বাচ্চাদের কপালে কাজলের ফোঁটা দেয়া।

বাচ্চাদের উপর দিয়ে টপকিয়ে গেলে আর বড় হবে না মনে করা।

নারী-পুরুষ দুজন মিলে জবাই করা যাবে না বলে মনে করা।

বাচ্চাদের আজেবাজে নাম রাখা।

কদমবুসী করা। অর্থাৎ সালাম দেয়ার সময় পা স্পর্শ করে সালাম করা।