hadith book logo

One Hadith a Day (সহীহ বুখারী থেকে ৩৬৫টি হাদীস ও শিক্ষা)

লেখকঃ আমির জামান, নাজমা জামান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ২

সতর্কবাণী!

আল্লাহর কিতাব আল কুরআন ওয়াহীয়ে মাতলু অর্থাৎ জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) কর্তৃক পঠিত হয়ে তাঁর মাধ্যমে নবী মুহাম্মাদ (ﷺ) -কে দেয়া হয়েছে। আর সহীহ হাদীস হল গায়র মাত অর্থাৎ যা পঠিত হয়নি বরং আল্লাহ তা'আলা সরাসরি নবী (ﷺ) -এর অন্তরে সংস্থাপিত করেছেন। কুরআনও ওয়াহী, সহীহ হাদীসও ওয়াহী। আল্লাহ তা'আলার বাণী :

“আল্লাহর রসূল নিজের প্রবৃত্তি থেকে কিছুই বলেন না, তাঁর কথা হল ওয়াহী যা তাঁর প্রতি প্রেরিত হয়।” (সূরা আন নাজম, ৫৩ : ৩-৪)

“আর রসূল তোমাদেরকে যা দেন তা গ্রহণ কর, আর যা হতে তোমাদেরকে নিষেধ করেন, তা হতে বিরত থাক।” (সূরা আল হাশর, ৫৯ : ৭)

“আল্লাহ ও তাঁর রসূল যখন কোন কাজের নির্দেশ প্রদান করেন তখন কোন ঈমানদার পুরুষ ও ঈমানদার নারীর ঐ নির্দেশের ব্যতিক্রম করার কোন অধিকার থাকে না, আর যে ব্যক্তি আল্লাহর ও তাঁর রসূলের কথা অমান্য করল, সে স্পষ্টতঃই পথভ্রষ্ট হয়ে গেল।” (সূরা আল আহযাব, ৩৩ : ৩৬)

“আর যারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের আদেশ অমান্য করে, অবশ্যই তাদের জন্য রয়েছে জাহান্নামের আগুন যাতে তারা সর্বদা-চিরকাল অবস্থান করবে।” (সূরা জিন, ৭২ : ২৩)

“কিন্তু না, তোমার রব্বের কসম! তারা প্রকৃত মু'মিন হতে পারবে না যে পর্যন্ত তারা তাদের যাবতীয় বিরোধপূর্ণ ব্যাপারে তোমাকে বিচারক সাব্যস্ত না করে এবং তুমি যে ফায়সালা প্রদান কর তা দ্বিধাহীন চিত্তে পরিপূর্ণ আস্থার সঙ্গে গ্রহণ করে না নেয়।” (সূরা আন নিসা, ৪ : ৬৫)।

“সুতরাং যারা আল্লাহর হুকুমের বিরুদ্ধাচরণ করে তাদের সতর্ক হওয়া উচিত যে, তাদের উপর কোন বিপদ এসে পড়ে কিংবা তাদের উপর কোন যন্ত্রণাময় আযাব নাযিল হয়ে পড়ে।” (সূরা আন নূর, ২৪ : ৬৩)

যারা সহীহ হাদীস বিরোধী বিভিন্ন যুক্তি দোহাই দিয়ে পাঠকদেরকে সহীহ হাদীস না। মানার জন্য আহ্বান জানায় তারা ঈমানদার হিসেবে গণ্য হতে পারে কি না এ বিষয়টি উপযুক্ত আয়াতসমূহের আলোকে বিচার্য। “ওমুক মতে এই, ওমুক মতে এই"- এসব কথা বলে মুসলিমদেরকে আল্লাহ ও তাঁর রসূল (ﷺ) -এর সরল-সোজা পথ থেকে বিচ্যুত করে কোথাও নিয়ে যাওয়া যাবে না। মুসলিমগণ একমাত্র কুরআন ও সহীহ হাদীস মানতে বাধ্য, ওমুক তমুকের মত মানতে বাধ্য নয়। অতএব, আসুন! আমরা কুরআন ও সহীহ হাদীসের প্রতি আমল করে পরিপূর্ণ ঈমানদার হয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করি ।।