১
One Hadith a Day (সহীহ বুখারী থেকে ৩৬৫টি হাদীস ও শিক্ষা)
লেখকঃ আমির জামান, নাজমা জামান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৩৮৭
মিশকাতে বর্ণিত যঈফ ও জাল হাদীস সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
মিশকাতুল মাছবীহ এদেশের মানুষের কাছে অত্যধিক পরিচিত ও সমধিক পঠিত গ্রন্থ। মাদরাসাগুলোতে মিশকাতই প্রথমে অধ্যয়ন করা হয়। বিষয় ভিত্তিক হাদীস জানার জন্য সম্মানিত আলেম ও দাঈগণ মিশকাতকেই প্রথম। অবলম্বন মনে করেন। ‘মিশকাতুল মাছবীহ’ সিহা-সিত্তাহ’সহ বিভিন্ন বড় হাদীস গ্রন্থ থেকে নির্বাচিত সংকলন। “মিশকাতুল মাছবীহ' প্রখ্যাত দুইজন মুহাদ্দিসের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফসল। প্রথমে ইমাম মুহিউস সুন্নাহ বাগাভী (৪৩৬-৫১৬ হিঃ) মাছবীহুস। সুন্নাহ’ নামে স্বতন্ত্র একটি হাদীসগ্রন্থ সংকলন করেন। সেখানে তিনি প্রায় ৪৪৩৪টি হাদীস অন্তর্ভুক্ত করেন। রাবীর নাম, সনদ এমনকি কোন গ্রন্থ থেকে হাদীসটি চয়ন করেছেন তাও তিনি উলেখ করেননি। অবশ্য তিনি হাদীসগুলো অধ্যায়ভিত্তিক বিন্যাস করেন এবং প্রত্যেক অধ্যায়কে দুই ভাগে বিভক্ত করেন।
(ক) “সিহহা’- যেখানে শুধু সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমের হাদীস উল্লেখ করেন এবং
(খ) “হিসান’ বলে উক্ত গ্রন্থদ্বয়ের বাইরে অন্যান্য গ্রন্থের হাদীস বর্ণনা করেছেন।
অতঃপর মুহাদ্দিস ওয়ালিউদ্দীন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ আলখত্বীব আত-তিবরিযী (মৃতঃ ৭৩৭ হিঃ) কঠোর শ্রম ব্যয় করে প্রত্যেক হাদীসের শুরুতে বর্ণনাকারীর নাম যোগ করেন। হাদীসটি কোন্ কোন্ গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে। তাও উল্লেখ করেন। প্রত্যেক অধ্যায়কে তিনি তিনটি ফাছল বা অনুচ্ছেদে ভাগ। করেন। প্রথম অনুচ্ছেদে তিনি মূলগ্রন্থকারের অনুসরণে শুধু সহীহ বুখারী ও মুসলিমের হাদীস উলেখ করেন। উক্ত হাদীস অন্যান্য হাদীস গ্রন্থে উল্লেখ থাকলেও সহীহ বুখারী ও মুসলিমের মর্যাদার কারণে তার সাথে অন্য কোন গ্রন্থ উল্লেখ করেননি। দ্বিতীয় অনুচ্ছেদে তিনি বুখারী মুসলিমের বাইরের হাদীস উল্লেখ করেছেন। আর তৃতীয় অনুচ্ছেদে বিষয়ের সংশ্লিষ্ট কতিপয় হাদীস নিজে সংযোজন করেছেন যা মূল গ্রন্থে ছিল না। ফলে এর হাদীস সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে প্রায় ৬০০০ (ছয় হাজার)। অতঃপর তিনি এর নামকরণ করেন ‘মিশকাতুল মাছবীহ। তাঁদের উভয়কে আল্লাহ তা'আলা উত্তম প্রতিদান দান করুন। আমীন!
‘মিশকাতুল মাছবীহ’তে বিভিন্ন বড় বিষয়ের হাদীস অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় বেশ কিছু, যঈফ ও জাল হাদীস সংযোজিত হয়েছে। আর যঈফ ও জাল হাদীস মুসলিম ঐক্য ও সামাজিক নিরাপত্তার জন্য চরম হুমকি স্বরূপ। সেজন্য পরস্পরের আমলের মাঝে ভিন্নতা ও দ্বন্দ্ব পরিলক্ষিত হয়। ওলামায়ে কেরামও বিব্রতকর অবস্থায় পড়েন। এই করুণ পরিণতির হাত থেকে মুক্তির লক্ষ্যে গত শতাব্দীর সংগ্রামী মুজাদ্দিদ, আপোসহীন মুহাদ্দিস, দূরদর্শী মুজতাহিদ, হাদীসশাস্ত্রের এক উজ্জ্বল প্রতিভা শায়খ আল্লামা মুহাম্মাদ নাছিরুদ্দীন আলবানী (রহ.) (১৩৩৩১৪২০হিঃ) মিশকাতুল মাছবীহ্র হাদীস সমূহের সহীহ ও যঈফ বাছাইয়ের কাজে কঠোর সাধনা করেন। মহান আল্লাহ তাঁকে জান্নাতুল ফিরদাউসে দাখিল করুন- আমীন!!
শায়খ আলবানী (রহ.) মিশকাতের তাহক্বীকৃ (verification) সম্পন্ন করেননি। তবে তাঁর অন্যান্য গ্রন্থের মধ্যে প্রায় হাদীসেরই তাহকী চলে এসেছে। এরপরও কিছু হাদীসের তাহক্বীক তাঁর পক্ষ থেকে পাওয়া যায় না। ফলে ঐ সমস্ত হাদীসের ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য অন্যান্য মুহাদ্দিসের মন্তব্য গ্রহণ করা উচিত।
কিছু হাদীস এমন রয়েছে, যেগুলোর ব্যাপারে কোন কোন মুহাদ্দিস শিথিলতা অবলম্বন করতে গিয়ে সহীহ কিংবা যঈফ বলেছেন। কিন্তু পরবর্তীতে মুহাদ্দিসগণের সূক্ষ্ম গবেষণায় তার বিপরীত প্রমাণিত হয়েছে। যেমন ইমাম তিরমিযী, ইবনু খুযায়মাহ, ইবনু হিব্বান, হাকেম প্রমুখের ক্ষেত্রে এমনটি ঘটেছে। এছাড়াও কোন হাদীসকে পূর্বে সহীহ কিংবা যঈফ বলেছেন পরে তার বিপরীত বলেছেন। মিশকাতের তাহক্টীত্ত্বের ক্ষেত্রে অনেক জায়গায় এমনটি হয়েছে। তাই শুধু মিশকাতের তাহক্বীক দেখেই কোন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয়া যাবে না।।
একই হাদীসের মধ্যে একটি অংশ সহীহ আবার অন্য অংশ যঈফ রয়েছে। কখনো কোন বাক্য ও শব্দও এমন রয়েছে। এর কারণ হ’ল, সহীহ অংশটুকু অন্য সনদে সহীহ হিসেবে বর্ণিত হয়েছে। কিন্তু আলোচ্য হাদীসের সনদটি যঈফ হওয়ার কারণে সম্পূর্ণ হাদীসকে সহীহ বলা হয়নি।
মাওলানা নূর মোহাম্মদ আজমী কর্তৃক অনুদিত বঙ্গানুবাদ মিশকাত অনেকের কাছে রয়েছে। তবে পাঠক সমাজের জন্য বিশেষ হুশিয়ারী হল, বঙ্গানুবাদ মিশকাতের ব্যাখ্যা সম্পর্কে সাবধান থাকতে হবে। কারণ অনুবাদক অনেক জায়গায় মাযহাবী সিদ্ধান্তের উপরে হাদীসের সিদ্ধান্তকে প্রাধান্য দিতে পারেননি। বহু ক্ষেত্রে তিনি যঈফ ও জাল হাদীসকেই ব্যাখ্যার জন্য শ্রেষ্ঠ হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছেন। যঈফ ও জাল হাদীসের কুপ্রভাবে মুসলিম উম্মাহর বিভক্তি স্থায়ী রূপ নিয়েছে। এই উপমহাদেশে এর প্রভাব আরো বেশী।
(ক) “সিহহা’- যেখানে শুধু সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমের হাদীস উল্লেখ করেন এবং
(খ) “হিসান’ বলে উক্ত গ্রন্থদ্বয়ের বাইরে অন্যান্য গ্রন্থের হাদীস বর্ণনা করেছেন।
অতঃপর মুহাদ্দিস ওয়ালিউদ্দীন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ আলখত্বীব আত-তিবরিযী (মৃতঃ ৭৩৭ হিঃ) কঠোর শ্রম ব্যয় করে প্রত্যেক হাদীসের শুরুতে বর্ণনাকারীর নাম যোগ করেন। হাদীসটি কোন্ কোন্ গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে। তাও উল্লেখ করেন। প্রত্যেক অধ্যায়কে তিনি তিনটি ফাছল বা অনুচ্ছেদে ভাগ। করেন। প্রথম অনুচ্ছেদে তিনি মূলগ্রন্থকারের অনুসরণে শুধু সহীহ বুখারী ও মুসলিমের হাদীস উলেখ করেন। উক্ত হাদীস অন্যান্য হাদীস গ্রন্থে উল্লেখ থাকলেও সহীহ বুখারী ও মুসলিমের মর্যাদার কারণে তার সাথে অন্য কোন গ্রন্থ উল্লেখ করেননি। দ্বিতীয় অনুচ্ছেদে তিনি বুখারী মুসলিমের বাইরের হাদীস উল্লেখ করেছেন। আর তৃতীয় অনুচ্ছেদে বিষয়ের সংশ্লিষ্ট কতিপয় হাদীস নিজে সংযোজন করেছেন যা মূল গ্রন্থে ছিল না। ফলে এর হাদীস সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে প্রায় ৬০০০ (ছয় হাজার)। অতঃপর তিনি এর নামকরণ করেন ‘মিশকাতুল মাছবীহ। তাঁদের উভয়কে আল্লাহ তা'আলা উত্তম প্রতিদান দান করুন। আমীন!
‘মিশকাতুল মাছবীহ’তে বিভিন্ন বড় বিষয়ের হাদীস অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় বেশ কিছু, যঈফ ও জাল হাদীস সংযোজিত হয়েছে। আর যঈফ ও জাল হাদীস মুসলিম ঐক্য ও সামাজিক নিরাপত্তার জন্য চরম হুমকি স্বরূপ। সেজন্য পরস্পরের আমলের মাঝে ভিন্নতা ও দ্বন্দ্ব পরিলক্ষিত হয়। ওলামায়ে কেরামও বিব্রতকর অবস্থায় পড়েন। এই করুণ পরিণতির হাত থেকে মুক্তির লক্ষ্যে গত শতাব্দীর সংগ্রামী মুজাদ্দিদ, আপোসহীন মুহাদ্দিস, দূরদর্শী মুজতাহিদ, হাদীসশাস্ত্রের এক উজ্জ্বল প্রতিভা শায়খ আল্লামা মুহাম্মাদ নাছিরুদ্দীন আলবানী (রহ.) (১৩৩৩১৪২০হিঃ) মিশকাতুল মাছবীহ্র হাদীস সমূহের সহীহ ও যঈফ বাছাইয়ের কাজে কঠোর সাধনা করেন। মহান আল্লাহ তাঁকে জান্নাতুল ফিরদাউসে দাখিল করুন- আমীন!!
শায়খ আলবানী (রহ.) মিশকাতের তাহক্বীকৃ (verification) সম্পন্ন করেননি। তবে তাঁর অন্যান্য গ্রন্থের মধ্যে প্রায় হাদীসেরই তাহকী চলে এসেছে। এরপরও কিছু হাদীসের তাহক্বীক তাঁর পক্ষ থেকে পাওয়া যায় না। ফলে ঐ সমস্ত হাদীসের ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য অন্যান্য মুহাদ্দিসের মন্তব্য গ্রহণ করা উচিত।
কিছু হাদীস এমন রয়েছে, যেগুলোর ব্যাপারে কোন কোন মুহাদ্দিস শিথিলতা অবলম্বন করতে গিয়ে সহীহ কিংবা যঈফ বলেছেন। কিন্তু পরবর্তীতে মুহাদ্দিসগণের সূক্ষ্ম গবেষণায় তার বিপরীত প্রমাণিত হয়েছে। যেমন ইমাম তিরমিযী, ইবনু খুযায়মাহ, ইবনু হিব্বান, হাকেম প্রমুখের ক্ষেত্রে এমনটি ঘটেছে। এছাড়াও কোন হাদীসকে পূর্বে সহীহ কিংবা যঈফ বলেছেন পরে তার বিপরীত বলেছেন। মিশকাতের তাহক্টীত্ত্বের ক্ষেত্রে অনেক জায়গায় এমনটি হয়েছে। তাই শুধু মিশকাতের তাহক্বীক দেখেই কোন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয়া যাবে না।।
একই হাদীসের মধ্যে একটি অংশ সহীহ আবার অন্য অংশ যঈফ রয়েছে। কখনো কোন বাক্য ও শব্দও এমন রয়েছে। এর কারণ হ’ল, সহীহ অংশটুকু অন্য সনদে সহীহ হিসেবে বর্ণিত হয়েছে। কিন্তু আলোচ্য হাদীসের সনদটি যঈফ হওয়ার কারণে সম্পূর্ণ হাদীসকে সহীহ বলা হয়নি।
মাওলানা নূর মোহাম্মদ আজমী কর্তৃক অনুদিত বঙ্গানুবাদ মিশকাত অনেকের কাছে রয়েছে। তবে পাঠক সমাজের জন্য বিশেষ হুশিয়ারী হল, বঙ্গানুবাদ মিশকাতের ব্যাখ্যা সম্পর্কে সাবধান থাকতে হবে। কারণ অনুবাদক অনেক জায়গায় মাযহাবী সিদ্ধান্তের উপরে হাদীসের সিদ্ধান্তকে প্রাধান্য দিতে পারেননি। বহু ক্ষেত্রে তিনি যঈফ ও জাল হাদীসকেই ব্যাখ্যার জন্য শ্রেষ্ঠ হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছেন। যঈফ ও জাল হাদীসের কুপ্রভাবে মুসলিম উম্মাহর বিভক্তি স্থায়ী রূপ নিয়েছে। এই উপমহাদেশে এর প্রভাব আরো বেশী।