hadith book logo

One Hadith a Day (সহীহ বুখারী থেকে ৩৬৫টি হাদীস ও শিক্ষা)

লেখকঃ আমির জামান, নাজমা জামান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৩৮০

জাল হাদীস চিনবার অনুসৃত নীতিগুলো নিম্নরূপ

১. প্রত্যেক্ষ বা পরোক্ষভাবে জালকারী নিজেই জালকরণের কথা স্বীকার করা ও শয়তানের প্ররোচনা অথবা হীনস্বার্থ চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে কোনো জালকারী এক সময়ে হাদীস জাল করে। পরবর্তীতে সে তাওবাহ করতঃ স্বীকার করেছে যে, আমি অমুক অমুক হাদীস জাল করেছি। যেমন আমার বিন ছাবাহ বিন ইমরান আল-তামিনী বলেন‘আমি নবী মুস্তফা (ﷺ) -এর খুতবাহ জাল করেছি। মাইসারাহ বিন আযদ রাবিহী স্বীকার করেন যে, তিনি শুধুমাত্র ফজিলতের ৭০টি হাদীস জাল করেছেন।

২. কথিত হাদীস কুরআনের নির্দেশ কিংবা মুতাওয়াতের হাদীসের সুস্পষ্ট বিধানের বিপরীত হওয়া। আল্লামা সুয়ূতী (রহ.) তাদবীর কিতাবে ইবনে জাওজীর কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন : যখন দেখবে জাল হাদীসটি বিবেকের বিপরীত অথবা বিবৃত হাদীসের খেলাফ কিংবা স্বীকৃত নীতিমালার বিরোধী তখন এ ধরনের হাদীসকেই মাওজু বা জাল হাদীস বলে জেনে নিও । উদাহরণ স্বরূপ ও জারজ সন্তান জান্নাতে প্রবেশ করবে না। অথচ আল্লাহর বাণীতে রয়েছে : “এবং কোনো বোঝা বহনকারীই অপর কারো পাপের বোঝা বহন করবে না”। কথিত হাদীসটি এই আয়াতের বিপরীত হওয়ায় হাদীসটি জাল হওয়া প্রমাণিত।

৩. বর্ণনাকারীর ধরন কিংবা বর্ণিত হাদীসের লক্ষণেই বুঝা যায় যে, হাদীসটি জাল। যেমন

“তোমাদের শিশুদের শিক্ষকরা তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে দুষ্ট প্রকৃতির। ইয়াতিম ছেলেদের প্রতি তাদের দয়া নেই, মিসকিনদের প্রতি তারা খুবই রূঢ়।

৪. কথিত হাদীসের মতনে হাস্যকর কিংবা চাতুর্যপূর্ণ শব্দ থাকা। যেমন ‘মোরগকে ভর্ৎসনা করো না। কেননা মোরগ আমার বন্ধু ।

৫. কথিত হাদীস সাধারণ বিবেক বুদ্ধির বিপরীত হওয়া। যেমন- ‘বেগুন সকল রোগের প্রতিষেধক।

৬. কথিত হাদীসে এমন বিষয়ের উল্লেখ করা যা তৎকালিন সমস্ত মুসলিমেরই জ্ঞাত হওয়া সম্ভব ছিল অথচ হাদীসটি রাবী ছাড়া আর কেই জানে না। যেমন‘নবী মুস্তফা (ﷺ) বিদায় হাজ্জ থেকে ফেরার সময় গাদীরেখাম নামক স্থানে ১ লাখেরও অধিক সাহাবীর বিরাট সমাবেশে আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে খিলাফত দান করেন।

৭. রসূল (ﷺ) -এর বংশের লোকদের অতিরিক্ত প্রশংসা করা এবং সাহাবীদের গালি-গালাজ করা! এ ধরনের রেওয়ায়েত জাল হবে। বিশেষতঃ প্রথম ও দ্বিতীয় খলীফাদ্বয়ের ভৎসনা ও আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-র খিলাফতকে তাদের উপর অগ্রাধিকার দেয়ার হাদীস মনগড়া। যেমন হাদীস বলা হলো এভাবে ‘জান্নাতে এমন কোন বৃক্ষ নেই যার পাতায় লিখা আছে : লাইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রসূলুল্লাহ, আবু বকর ও ওমর এবং ওসমান জিন্নুরাইন। হাদীসটি যে বাড়াবাড়ি তাতে কোনো সন্দেহ নেই।

৮. সাধারণ ও গুরুত্বহীন কাজ বা কথার জন্যে কঠোর আযাব কিংবা সামান্য কাজ বা কথায় অসামান্য ও বিরাট পুরস্কারের ওয়াদাপূর্ণ হাদীসও জাল । যেসব হাদীস সাধারণ কাজের জন্য কঠোর আযাব অথবা সহজ কাজের জন্যে বিরাট প্রতিদান সম্বলিত তা জাল। এই শেষ প্রকারের জাল হাদীস কিচ্ছা কাহিনীকার ওয়ায়েজীন ও সুফীদের মধ্যে বেশী পাওয়া যায়। যেমন বলা হয় : ‘যে ব্যক্তি লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু পড়বে আল্লাহ তার জন্যে প্রতিটি বাক্যের বিনিময়ে একটি পাখী সৃষ্টি করবেন যার ৭০ হাজার মুখ হবে এবং প্রতি ৭০ হাজার মুখের ভাষা হবে ৭০ হাজার। এভাবে (৭০X৭০ হাজার) কালেমা পাঠকের জন্যে তারা আল্লাহর কাছে ‘ইসতেগফার’ করবে ।