১
One Hadith a Day (সহীহ বুখারী থেকে ৩৬৫টি হাদীস ও শিক্ষা)
লেখকঃ আমির জামান, নাজমা জামান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৪০১
ইমাম মুসলিম (রহ.)-এর সংক্ষিপ্ত জীবনী
যাঁরা হাদীস শাস্ত্রে অগাধ পাণ্ডিত্যের অধিকারী ছিলেন, হাদীস সংগ্রহের উদ্দেশ্যে যারা শত শত মাইল দুর্গম পথ পায়ে হেটে গমন করেছিলেন, নির্ভুল হাদীসসমূহকে কষ্টিপাথরে যাচাই-বাছাই করে গ্রন্থাকারে একত্র করার মত অসাধ্য কাজ যাঁরা সাধন করেছিলেন, যাঁদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও সাধনার বিনিময়ে মুসলিম জাতি রসূলুল্লাহ (ﷺ) -এর নির্ভুল হাদীসসমূহ গ্রন্থাকারে পেয়ে সত্যের সন্ধান লাভ করতে পেরেছে ইমাম মুসলিম (রহ.) তাদের মধ্যে অগ্রগণ্য। ইমাম মুসলিম (রহ.)-এর পূর্ণ নাম মুসলিম বিন আল-হাজ্জাজ আল কুশাইরী আন্ নীসাপুরী। তাঁর উপনাম আবুল হুসায়ন এবং উপাধি ছিল আসাকিরুদ্দীন।
আরবের বিখ্যাত গোত্র বানু কুশাইর বংশে খুরাসানের প্রসিদ্ধ শহর নীসাপূরে ২০০ বা ২০৪ বা ২০৬ হিজরীতে জন্মগ্রহণ করেন। তার জন্মের সঠিক সাল সম্পর্কে বিভিন্ন মত পাওয়া যায় । তবে ঐতিহাসিকগণের নিরীক্ষণে প্রামাণিত হয় যে, তিনি ২০৬ হিজরী সালে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি যেদিন জন্মগ্রহণ করেন সেদিনই ইমাম শাফিঈ (রহ.) মৃত্যুবরণ করেন।
ইমাম মুসলিম (রহ.) স্বীয় পিতা-মাতার তত্ত্বাবধানে লালিত-পালিত হন এবং উত্তম শিক্ষা লাভ করেন। তাঁর পিতার নাম ছিল শাইখ আল-হাজ্জাজ। ইমাম মুসলিম ছোট থেকেই তাক্বওয়া, পরহেযগারী ও নির্মল চরিত্রের অধিকারী হন। জীবনে তিনি কখনও কারও গীবাত করেননি। নীসাপূরেই তিনি প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করেন। অসাধারণ মেধা ও ধী-শক্তির অধিকারী হওয়ায় মাত্র চৌদ্দ বছর বয়সেই তিনি তৎকালীন হাদীস বিশারদগণের নিকট ইলমে হাদীস অধ্যয়ন শুরু করেন। তাদের মধ্যে ইয়াহইয়া বিন ইয়াহইয়া আত তামীমী, আল কানবী মুহাম্মাদ বিন ইয়াহইয়া নিসাপূরী, আহমাদ বিন ইউনুস, ইসমাঈল বিন আবু উয়াইস প্রমুখ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। অল্পদিনেই ইমাম মুসলিম (রহ.) হাদীস শাস্ত্রে দক্ষতা অর্জন করে ইমামদের পর্যায়ে উন্নীত হন!
ইমাম মুসলিম (রহ.) ইলমে হাদীস শিক্ষা করার উদ্দেশে তৎকালীন মুসলিম জাহানের প্রায় সকল কেন্দ্রেই গমন করেছেন। হিজায, সিরিয়া, মিসর, ইয়ামেন, বাগদাদ প্রভৃতি স্থানে শহরে উপস্থিত হয়ে সে স্থানে অবস্থানকারী প্রসিদ্ধ ‘ইলমে হাদীসের উস্তাদ ও মুহাদ্দিসগণের নিকট হতে হাদীস সংগ্রহ করেছেন। ইলমে হাদীসের উপর বিশেষ দক্ষতা অর্জনের পর তিনি শিক্ষা দানের কাজে আত্মনিয়োগ করেন। তাঁর নিকট হতে অসংখ্য শিস্য হাদীস শিক্ষা লাভ করেছেন। অধিকন্তু সে যুগের বড় বড় মুহাদ্দিসগণ তাঁর নিকট হতে হাদীস শিক্ষা গ্রহণ করেছেন।
ইমাম তিরমিযী (রহ.)-ও তাঁর নিকট হতে হাদীস শিক্ষা গ্রহণ করেছেন। ইমাম মুসলিম (রহ.)-এর শ্রেষ্ঠ অবদান হল তার সংকলিত সহীহ মুসলিম। তিনি বিভিন্ন মুসলিম জ্ঞান কেন্দ্র সফর করে সুদীর্ঘ পনের বছর অক্লান্ত পরিশ্রম করে অবিশ্রান্ত সাধনা ও গবেষণার মাধ্যমে চার লক্ষ হাদীস সংকলন করেন এবং সেগুলো হতে পুনরাবৃত্তি বাদ দিয়ে তিন লক্ষ হাদীস সংকলন করেছেন(তাজকিরাতুল হুফফাজ ২/৫৮৯)। আবার এ তিন লক্ষ হাদীস হতে যাচাইবাছাই করে সর্বাধিক নির্ভরযোগ্য পুনঃ পুনঃ উদ্ধৃত হাদীসসহ মোট বার হাজার হাদীস সহীহ মুসলিমে অন্তর্ভুক্ত করেন। আর পুনঃ পুনঃ উল্লিখিত হাদীসসমূহ বাদে প্রায় চার হাজার হাদীস সহীহ মুসলিমে রয়েছে- (তাদরীব আর রাবী ৩০)।
রসূলুল্লাহ (ﷺ) -এর হাদীসের উপর সংকলিত গ্রন্থসমূহের মধ্যে বিশুদ্ধতার মাপকাঠিতে সহীহাইন বা বুখারী ও মুসলিম হচ্ছে পূর্ণমাত্রায় উত্তীর্ণ । বিশুদ্ধতার দিক দিয়ে পবিত্র কুরআনের পরই এ হাদীসগ্রন্থদ্বয়ের স্থান। আর মুসলিম উম্মাহ ও ইসলামী শারী'আতের বিশেষজ্ঞগণের মধ্যে এ বিষয়ে কোন মতবিরোধ নেই যে, হাদীস গ্রন্থসমূহের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ হচ্ছে ইমাম বুখারী (রহ.) সংকলিত সহীহুল বুখারী। আর এরপরই সহীহ মুসলিমের স্থান। তবে কেউ কেউ আবার মুসলিমকে অগ্রাধিকার দিয়ে থাকেন। কেননা, ইমাম মুসলিম কোন বিষয়ের উপর বর্ণিত সকল মতন যা বিভিন্ন শব্দে বর্ণিত হয়েছে একই স্থানে একত্রিত করে লিপিবদ্ধ করেছেন। তাদেরকে বিভিন্ন অধ্যায়ে লিপিবদ্ধ করেননি। হাদীসের শিরোনাম খণ্ড খণ্ডভাবে লিখেননি যা সহীহুল বুখারীতে করা হয়েছে। হাদীসের শব্দ হুবহু রেখেছেন সামঞ্জস্য রেখে বর্ণনা করেননি।
প্রত্যেক রাবী কর্তৃক বর্ণিত শব্দ স্বতস্ত্রভাবে বর্ণনা করেছেন। তিনি হাদীসের সাথে সাহাবাগণের কথা, তাবিঈন এবং অন্যদের অধ্যায় ও শিরোনামেও মিশ্রণ করেননি। সহীহ মুসলিম ও সহীহুল বুখারীর মধ্যে কোনটির অগ্রাধিকার বেশি বা নির্ভরযোগ্য এ বিষয়ের মতভেদের ক্ষেত্রে বলা যায়, কোন কোন দিক দিয়ে সহীহ মুসলিমের স্থান উধের্ব। যেমন বিশুদ্ধতার দিক দিয়ে বুখারী উত্তম এবং সাজানো দিক দিয়ে সহীহ মুসলিম অগ্রাধিকার পাবার যোগ্য। তবে সার্বিক বিচারে সহীহ বুখারীর পর সহীহ মুসলিম-এর স্থান ।
ইমাম মুসলিম (রহ.) শুধুমাত্র নিজের জ্ঞান ও প্রজ্ঞার বিবেচনার উপর ভিত্তি করে কোন হাদীসকে এ গ্রন্থে সন্নিবেশিত করেননি বরং প্রত্যেকটি হাদীসের বিশুদ্ধতা সম্পর্কে সমসাময়িক অন্যান্য হাদীস বিশারদগণের পরামর্শ গ্রহণ করেছেন এবং তারা যে সকল হাদীস সম্পর্কে পূর্ণ একমত পোষণ করেছেন কেবল সে সব হাদীসগুলোকে তিনি সহীহ মুসলিমে সংকলন করেছেন- (শারহিন নাবাবী ১/১৭৪)।
এ সম্পর্কে তিনি নিজেই বলেছেন, কেবলমাত্র আমার বিবেচনায় সহীহ হাদীসসমূহই আমি এ কিতাবে সন্নিবেশিত করিনি, বরং তার সংকলিত হাদীস গ্রন্থে বিশুদ্ধতা সম্পর্কে দাবী করেছেন পৃথিবীর মুহাদ্দিসগণ যদি দু’শত বৎসর পর্যন্ত হাদীস লিপিবদ্ধ করতে থাকেন, তথাপি তাদেরকে অবশ্যই এ সনদযুক্ত বিশুদ্ধ কিতাবের উপর নির্ভর করতে হবে । তার এ দাবী মিথ্যা নয়; বরং এক বাস্তব সত্যরূপেই পরবর্তীকালে প্রমাণিত হয়েছে। ইতিহাসও এর যথার্থতা প্রমাণিত করেছে যে, আজ প্রায় এগারশত বছরের অধিককাল। অতিক্রান্ত হওয়ার পরও সমপর্যায়ের গ্রন্থ রচিত হয়নি। আল্লাহ তা'আলা ইমাম মুসলিম (রহ.)-এর সহীহ মুসলিম-কে ককূল করেছেন। এর ফলশ্রুতিতেই আজ কেন অদূর ভবিষ্যতেও এর সৌন্দর্য ও বিশুদ্ধতা বিশ্বমানবকে বিশুদ্ধ ও পরিচ্ছন্ন আলো দান করবে। ইমাম মুসলিম (রহ.) মৃত্যু সম্পর্কে ঐতিহাসিকগণ এক কৌতুহলী ঘটনা বর্ণনা করেছেন।
একবার জনৈক ব্যক্তি ইমাম মুসলিম (রহ.)-এর নিকট হাদীস সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছিলেন। উক্ত হাদীস সম্পর্কে ইমাম মুসলিমের তাৎক্ষণিক কোন ধারণা ছিল না। এজন্য তিনি কোন উত্তর না দিয়ে নিজ গৃহে ফিরে আসেন এবং স্বীয় পাণ্ডুলিপিসমূহ অনুসন্ধান করতে থাকেন। এ সময়ে তার নিকট খুরমা খেজুরের টুকরী রাখা ছিল। তিনি এতই মগ্ন ছিলেন যে, একটা করে খেজুর খাচ্ছিলেন আর খুঁজছিলেন। এভাবে খেজুরের ঝুড়ি খালি হয়ে যায় এবং তিনি হাদীসটিও খুঁজে পান। অতিরিক্ত খেজুর খাওয়ার ফলে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং সে রোগেই ২৬১ হিজরী সালে ২৪ রজব রবিবার সন্ধ্যায় কমবেশী ৫৫ বছর বয়সে তিনি ইহকাল ত্যাগ করেন। নীসাপুরে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়।
আরবের বিখ্যাত গোত্র বানু কুশাইর বংশে খুরাসানের প্রসিদ্ধ শহর নীসাপূরে ২০০ বা ২০৪ বা ২০৬ হিজরীতে জন্মগ্রহণ করেন। তার জন্মের সঠিক সাল সম্পর্কে বিভিন্ন মত পাওয়া যায় । তবে ঐতিহাসিকগণের নিরীক্ষণে প্রামাণিত হয় যে, তিনি ২০৬ হিজরী সালে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি যেদিন জন্মগ্রহণ করেন সেদিনই ইমাম শাফিঈ (রহ.) মৃত্যুবরণ করেন।
ইমাম মুসলিম (রহ.) স্বীয় পিতা-মাতার তত্ত্বাবধানে লালিত-পালিত হন এবং উত্তম শিক্ষা লাভ করেন। তাঁর পিতার নাম ছিল শাইখ আল-হাজ্জাজ। ইমাম মুসলিম ছোট থেকেই তাক্বওয়া, পরহেযগারী ও নির্মল চরিত্রের অধিকারী হন। জীবনে তিনি কখনও কারও গীবাত করেননি। নীসাপূরেই তিনি প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করেন। অসাধারণ মেধা ও ধী-শক্তির অধিকারী হওয়ায় মাত্র চৌদ্দ বছর বয়সেই তিনি তৎকালীন হাদীস বিশারদগণের নিকট ইলমে হাদীস অধ্যয়ন শুরু করেন। তাদের মধ্যে ইয়াহইয়া বিন ইয়াহইয়া আত তামীমী, আল কানবী মুহাম্মাদ বিন ইয়াহইয়া নিসাপূরী, আহমাদ বিন ইউনুস, ইসমাঈল বিন আবু উয়াইস প্রমুখ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। অল্পদিনেই ইমাম মুসলিম (রহ.) হাদীস শাস্ত্রে দক্ষতা অর্জন করে ইমামদের পর্যায়ে উন্নীত হন!
ইমাম মুসলিম (রহ.) ইলমে হাদীস শিক্ষা করার উদ্দেশে তৎকালীন মুসলিম জাহানের প্রায় সকল কেন্দ্রেই গমন করেছেন। হিজায, সিরিয়া, মিসর, ইয়ামেন, বাগদাদ প্রভৃতি স্থানে শহরে উপস্থিত হয়ে সে স্থানে অবস্থানকারী প্রসিদ্ধ ‘ইলমে হাদীসের উস্তাদ ও মুহাদ্দিসগণের নিকট হতে হাদীস সংগ্রহ করেছেন। ইলমে হাদীসের উপর বিশেষ দক্ষতা অর্জনের পর তিনি শিক্ষা দানের কাজে আত্মনিয়োগ করেন। তাঁর নিকট হতে অসংখ্য শিস্য হাদীস শিক্ষা লাভ করেছেন। অধিকন্তু সে যুগের বড় বড় মুহাদ্দিসগণ তাঁর নিকট হতে হাদীস শিক্ষা গ্রহণ করেছেন।
ইমাম তিরমিযী (রহ.)-ও তাঁর নিকট হতে হাদীস শিক্ষা গ্রহণ করেছেন। ইমাম মুসলিম (রহ.)-এর শ্রেষ্ঠ অবদান হল তার সংকলিত সহীহ মুসলিম। তিনি বিভিন্ন মুসলিম জ্ঞান কেন্দ্র সফর করে সুদীর্ঘ পনের বছর অক্লান্ত পরিশ্রম করে অবিশ্রান্ত সাধনা ও গবেষণার মাধ্যমে চার লক্ষ হাদীস সংকলন করেন এবং সেগুলো হতে পুনরাবৃত্তি বাদ দিয়ে তিন লক্ষ হাদীস সংকলন করেছেন(তাজকিরাতুল হুফফাজ ২/৫৮৯)। আবার এ তিন লক্ষ হাদীস হতে যাচাইবাছাই করে সর্বাধিক নির্ভরযোগ্য পুনঃ পুনঃ উদ্ধৃত হাদীসসহ মোট বার হাজার হাদীস সহীহ মুসলিমে অন্তর্ভুক্ত করেন। আর পুনঃ পুনঃ উল্লিখিত হাদীসসমূহ বাদে প্রায় চার হাজার হাদীস সহীহ মুসলিমে রয়েছে- (তাদরীব আর রাবী ৩০)।
রসূলুল্লাহ (ﷺ) -এর হাদীসের উপর সংকলিত গ্রন্থসমূহের মধ্যে বিশুদ্ধতার মাপকাঠিতে সহীহাইন বা বুখারী ও মুসলিম হচ্ছে পূর্ণমাত্রায় উত্তীর্ণ । বিশুদ্ধতার দিক দিয়ে পবিত্র কুরআনের পরই এ হাদীসগ্রন্থদ্বয়ের স্থান। আর মুসলিম উম্মাহ ও ইসলামী শারী'আতের বিশেষজ্ঞগণের মধ্যে এ বিষয়ে কোন মতবিরোধ নেই যে, হাদীস গ্রন্থসমূহের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ হচ্ছে ইমাম বুখারী (রহ.) সংকলিত সহীহুল বুখারী। আর এরপরই সহীহ মুসলিমের স্থান। তবে কেউ কেউ আবার মুসলিমকে অগ্রাধিকার দিয়ে থাকেন। কেননা, ইমাম মুসলিম কোন বিষয়ের উপর বর্ণিত সকল মতন যা বিভিন্ন শব্দে বর্ণিত হয়েছে একই স্থানে একত্রিত করে লিপিবদ্ধ করেছেন। তাদেরকে বিভিন্ন অধ্যায়ে লিপিবদ্ধ করেননি। হাদীসের শিরোনাম খণ্ড খণ্ডভাবে লিখেননি যা সহীহুল বুখারীতে করা হয়েছে। হাদীসের শব্দ হুবহু রেখেছেন সামঞ্জস্য রেখে বর্ণনা করেননি।
প্রত্যেক রাবী কর্তৃক বর্ণিত শব্দ স্বতস্ত্রভাবে বর্ণনা করেছেন। তিনি হাদীসের সাথে সাহাবাগণের কথা, তাবিঈন এবং অন্যদের অধ্যায় ও শিরোনামেও মিশ্রণ করেননি। সহীহ মুসলিম ও সহীহুল বুখারীর মধ্যে কোনটির অগ্রাধিকার বেশি বা নির্ভরযোগ্য এ বিষয়ের মতভেদের ক্ষেত্রে বলা যায়, কোন কোন দিক দিয়ে সহীহ মুসলিমের স্থান উধের্ব। যেমন বিশুদ্ধতার দিক দিয়ে বুখারী উত্তম এবং সাজানো দিক দিয়ে সহীহ মুসলিম অগ্রাধিকার পাবার যোগ্য। তবে সার্বিক বিচারে সহীহ বুখারীর পর সহীহ মুসলিম-এর স্থান ।
ইমাম মুসলিম (রহ.) শুধুমাত্র নিজের জ্ঞান ও প্রজ্ঞার বিবেচনার উপর ভিত্তি করে কোন হাদীসকে এ গ্রন্থে সন্নিবেশিত করেননি বরং প্রত্যেকটি হাদীসের বিশুদ্ধতা সম্পর্কে সমসাময়িক অন্যান্য হাদীস বিশারদগণের পরামর্শ গ্রহণ করেছেন এবং তারা যে সকল হাদীস সম্পর্কে পূর্ণ একমত পোষণ করেছেন কেবল সে সব হাদীসগুলোকে তিনি সহীহ মুসলিমে সংকলন করেছেন- (শারহিন নাবাবী ১/১৭৪)।
এ সম্পর্কে তিনি নিজেই বলেছেন, কেবলমাত্র আমার বিবেচনায় সহীহ হাদীসসমূহই আমি এ কিতাবে সন্নিবেশিত করিনি, বরং তার সংকলিত হাদীস গ্রন্থে বিশুদ্ধতা সম্পর্কে দাবী করেছেন পৃথিবীর মুহাদ্দিসগণ যদি দু’শত বৎসর পর্যন্ত হাদীস লিপিবদ্ধ করতে থাকেন, তথাপি তাদেরকে অবশ্যই এ সনদযুক্ত বিশুদ্ধ কিতাবের উপর নির্ভর করতে হবে । তার এ দাবী মিথ্যা নয়; বরং এক বাস্তব সত্যরূপেই পরবর্তীকালে প্রমাণিত হয়েছে। ইতিহাসও এর যথার্থতা প্রমাণিত করেছে যে, আজ প্রায় এগারশত বছরের অধিককাল। অতিক্রান্ত হওয়ার পরও সমপর্যায়ের গ্রন্থ রচিত হয়নি। আল্লাহ তা'আলা ইমাম মুসলিম (রহ.)-এর সহীহ মুসলিম-কে ককূল করেছেন। এর ফলশ্রুতিতেই আজ কেন অদূর ভবিষ্যতেও এর সৌন্দর্য ও বিশুদ্ধতা বিশ্বমানবকে বিশুদ্ধ ও পরিচ্ছন্ন আলো দান করবে। ইমাম মুসলিম (রহ.) মৃত্যু সম্পর্কে ঐতিহাসিকগণ এক কৌতুহলী ঘটনা বর্ণনা করেছেন।
একবার জনৈক ব্যক্তি ইমাম মুসলিম (রহ.)-এর নিকট হাদীস সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছিলেন। উক্ত হাদীস সম্পর্কে ইমাম মুসলিমের তাৎক্ষণিক কোন ধারণা ছিল না। এজন্য তিনি কোন উত্তর না দিয়ে নিজ গৃহে ফিরে আসেন এবং স্বীয় পাণ্ডুলিপিসমূহ অনুসন্ধান করতে থাকেন। এ সময়ে তার নিকট খুরমা খেজুরের টুকরী রাখা ছিল। তিনি এতই মগ্ন ছিলেন যে, একটা করে খেজুর খাচ্ছিলেন আর খুঁজছিলেন। এভাবে খেজুরের ঝুড়ি খালি হয়ে যায় এবং তিনি হাদীসটিও খুঁজে পান। অতিরিক্ত খেজুর খাওয়ার ফলে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং সে রোগেই ২৬১ হিজরী সালে ২৪ রজব রবিবার সন্ধ্যায় কমবেশী ৫৫ বছর বয়সে তিনি ইহকাল ত্যাগ করেন। নীসাপুরে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়।