hadith book logo

One Hadith a Day (সহীহ বুখারী থেকে ৩৬৫টি হাদীস ও শিক্ষা)

লেখকঃ আমির জামান, নাজমা জামান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৩৮৫

জাল ও দুর্বল (যঈফ) হাদীস থেকে সাবধানতা !!

শরীয়াতের মূল উৎস হচ্ছে কুরআন। আর কুরআনের ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ হলো হাদীস। দুঃখজনক হলেও সত্য যে, বিভিন্ন কারণেই ইসলামের মধ্যে নানা ধরনের বিদ’আতের অনুপ্রবেশ ঘটেছে। তার মধ্যে অন্যতম কারণ হচ্ছে ইসলাম ও মুসলিমদের বিরুদ্ধে সুগভীর ষড়যন্ত্র । ইসলামের শত্রুরা যখন মুসলিমদের সাথে পেরে উঠছিলনা তখন তারা ইসলামের বিরুদ্ধে গোপন ষড়যন্ত্রে মেতে উঠে। তারই অংশ হিসেবে কুচক্রীরা সম্মিলিত হয়ে পরিকল্পিতভাবে মাঠে নামে। ফলে কিছু কুচক্রী বাহ্যিকভাবে ইসলাম গ্রহণের ভাব দেখিয়ে মুসলিমদের মাঝে তারা বিভিন্ন কর্মকান্ডের অনুপ্রবেশ ঘটাতে সক্ষম হয় । এজন্য তারা সাধারণ মুসলিম জনগণকে ধোকা দেওয়ার উদ্দেশ্যে নিজেদের কথার মধ্যে “রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন” এই কথাটি সংযোগ করে হাদীস বলে চালিয়ে দেয়। এভাবে মুসলিম সমাজে জাল যঈফ হাদীসের প্রচলন ঘটে। একইভাবে প্রসার ঘটতে থাকে বিভিন্ন প্রকার বিদ’আত ও কুসংস্কারের ।

বিদ’আতির জ্ঞান উলট-পালট হয়ে তার নিকট সব কিছুই গোলমেলে হয়ে যায় । ফলে সে বিদ’আতকে সুন্নাত আর সুন্নাতকে বিদ’আত মনে করে। অতএব বিদআতের ভয়বহতা হতে রক্ষা পেতে হলে, আমাদের মাঝে প্রচলিত বিদ’আতগুলো হতে সতর্ক হয়ে সেগুলোকে পরিত্যাগ করে সহীহ সুন্নাহ মাফিক আমল করা ছাড়া আখিরাতে মুক্তির জন্য আমাদের সামনে আর কোন বিকল্প পথ। খোলা নেই। আসুন আমরা দুর্বল ও বানোয়াট হাদীসগুলো জেনে সেগুলো পরিত্যাগ করি এবং সহীহ হাদীসের উপর ভিত্তি করে আমাদের জীবন গড়ি। যে আমলই আমরা করি না কেন তা যাচাই বাছাই করেই করা উচিত। কারণ হতে পারে বহু আমল আমাদের জীবনের সাথে জড়িয়ে আছে যেগুলো দুর্বল বা বানোয়াট হাদীসের উপর নির্ভরশীল । রসূল (ﷺ) বলেছেনঃ “যে ব্যক্তি এমন আমল করল যার উপর আমার নির্দেশ নেই সে আমলটি অগ্রহণযোগ্য’ (সহীহ বুখারী, সহীহ মুসলিম) আসুন! আমরা জাল ও যঈফ হাদীসগুলো জানি এবং তথাকথিত হুজুরদের জাল ও যঈফ হাদীস নির্ভর ফাতোয়া ও আক্বীদাহ হতে নিজেদেরকে মুক্ত করি।

আল্লাহ আমাদের সবাইকে তাঁর ও তাঁর নবীর যথাযথ অনুসরণ করার তৌওফীক দান করুন। আমীন। রসূল (ﷺ) বলেছেনঃ “মানুষের মিথ্যাবাদী হওয়ার জন্য এতটুকু যথেষ্ট যে, সে যা কিছু শুনবে তাই হাদীস হিসেবে বর্ণনা করবে।” (সহীহ মুসলিম)

দুর্বল হাদীসের ক্ষেত্রে রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, অথবা করেছেন এরূপ বলা ঠিক নয় । ইমাম নাবাবী (রহ.) বলেন : হাদীস বিশারদ মুহাক্কিক (সঠিক) আলেমগণ ও অন্যান্যরা বলেছেন : কোন হাদীস দুর্বল হলে তাতে এ কথা বলা যাবে না যে : রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, অথবা করেছেন অথবা নির্দেশ দিয়েছেন, অথবা নিষেধ করেছেন অথবা হুকুম করেছেন ইত্যাদি যা দৃঢ় অর্থবোধক শব্দ দ্বারা প্রকাশ পায় । অনুরূপভাবে এ কথাও বলা যাবে না যে, আবু হুরাইরাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণনা করেছেন অথবা বলেছেন, কিংবা উল্লেখ করেছেন ইত্যাদি যা এর সমার্থবোধক শব্দ। অনুরূপভাবে তাবিঈ এবং তার পরবর্তীদের ক্ষেত্রেও এমন কথা বলা যাবে না, যদি হাদীসটি দুর্বল হয়ে থাকে। বরং এর প্রত্যেকটিতেই এ কথা বলতে হবে ও তার সূত্রে বর্ণনা করা হয়েছে, তার সূত্রে উপস্থাপন করা হয়েছে, অথবা উল্লেখ করা হয়েছে ইত্যাদি শব্দ। যে হাদীসের বিশুদ্ধতা তোমার কাছে স্পষ্ট হবে, সে ক্ষেত্রে তুমি বলবে “রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন”।