hadith book logo

অন্য-পথের-কন্যারা

লেখকঃ Mrs. Carol. L. Anway M.S. Ed. • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৫

‘বিশেষ অন্যজন কে দেখা

একজন মুসলিম, যে একজন বিশেষ অন্যজন' হয়ে গেছে জীবনে, তার সঙ্গে সম্পর্কটা আরো গভীর করার আকাঙ্ক্ষা, অনেকের জন্যই ইসলামকে আরো গভীরভাবে খুঁটিয়ে দেখার চালিকা শক্তি হিসেবে কাজ করে।

আমার স্বামীর সাথে আমার দেখা হয় ১৯৮৩ সালে। তার আগে ইসলাম সম্বন্ধে আমার মনে সব গতানুগতিক ধারণাই স্থান পেয়েছিল যে তা মধ্যযুগীয়, মেয়েদের দমিয়ে রাখে এবং দাঙ্গাপ্রবণ। মাস্টার ডিগ্রী লাভের শিক্ষা থাকলেও ইসলাম সম্বন্ধে আমার কোন নির্দিষ্ট বা কেতাবী জ্ঞান ছিল না। ঠিক মতো নামাজ-রোজা না করলেও আমার স্বামী নিশ্চিত ছিল যে, ইসলামই ঈশ্বরের সত্যিকারের ধর্ম । আমি সচেতন ছিলাম যে, আমার ধর্মান্তরিত হবার কোন বাধ্য বাধকতা না থাকলেও আমাদের ছেলেমেয়ে হলে তাদের যে মুসলিম হিসেবে বড় করা হবে। এ ব্যাপারে আমার নিশ্চয়তা না পেলে সে আমাকে বিয়ে করবে না।

আমি অনুভব করলাম তার একটা গভীর মূল্যবোধের কাঠামো রয়েছে এবং কোরআনের সাথে আমার প্রথম পরিচয়, যে কারণেই হোক আমাকে ঠিক CONVINCED করতে পারেনি। কিন্তু বাচ্চাদের মুসলমান হিসেবে বড় করাতে আমি বিরূপ কিছু দেখতে পাইনি।

১৯৮৮ সালে আমাদের প্রথম ছেলের বয়স ছিল ১৮ মাস। নানা কারণে আমাদের বিয়ে বেশ সমস্যার মাঝে ছিল। আমি আমার স্বামীকে বোঝাবার পথ খুঁজে পেতে কোরআনের শরণাপন্ন হলাম। ১৯৮৮ সালের সেপ্টেম্বরে আমাদের দ্বন্দ্ব চুড়ান্ত পর্যায়ে পৌছালো এবং আমি তাকে পৃথকীকরণের কথা বললাম। যদিও তখনও আমি তাকে ভালোবাসতাম। আমার সামনে আর কোন উপায় ছিল না। আমি খুব শান্তভাবে কাজে যাচ্ছিলাম গাড়ি চালিয়ে। আমার হৃদয় ভেঙ্গে একটা তীক্ষ্ণ ব্যাথা যেন বেরিয়ে এলো- আমি চিষ্কার করে আল্লাহকে ডাকলাম আমাকে সাহায্য করতে। ঐ মুহূর্তে আমি আমার মুসলিম হবার আকাক্ষা আবিষ্কার করলাম এবং আমার বিয়ে টিকলো কি ভেঙ্গে গেল তাতে কিছুই আসে যায় না বলে মনে হলো। আমি আমার জন্য মুসলিম হতে চাইলাম।

আমার স্বামীর সাথে আমার দেখা হয় LOUISIANA TECH UNIVERSITY-তে। সে আমার সাথে অবৈধ সম্পর্ক স্থাপন করতে চায়নি। তাই প্রথমেই বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিল- জিজ্ঞেস করেছিল আমি ইসলাম সম্পর্কে পড়তে আর মুসলিম হতে ইচ্ছুক কিনা এবং আমাকে সত্যি সত্যি আমার চুল ঢেকে একটা রুমাল পরতেও বলেছিল।

তার শেষ দুটো অনুরোধে আমি অপমানিত বোধ করি, আর আমার বয়স ছিল ১৮ বছর। আমি নিশ্চিত ছিলাম না আমি বিয়ে করতে চাই কিনা। সে আমার সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করেছিল। আমি বাড়ি যাই এবং নিজে নিজে ইসলাম সম্বন্ধে পড়ি। আমি বদলে যাই এবং তাকে বিয়ে করতে চাই।

একজন চার্চ ত্যাগকারিণীর অবস্থা থেকে, জীবনকে আবার গুছিয়ে নিতে আমার স্বামী আমাকে সাহায্য করছিল। আমি আমার আবেগ সংক্রান্ত সমস্যা থেকে আবার সেরে উঠছিলাম। আমার ধর্মান্তরিত হবার ব্যাপারে তার ভূমিকা সামান্যই। সে আমাকে ইসলামের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয় কিন্তু কখনই ধর্মান্তরিত হতে বলেনি। ইসলামের আমাকে ধর্মান্তরিত করার প্রয়োজনও নেই। কিন্তু আমার স্বামী পুরোপুরি তার ধর্মে ফিরে আসে। আমি দেখলাম কিভাবে সে এক ধরনের অভ্যন্তরীণ শান্তি লাভ করলো- আমার হিংসা হতো। এই অভ্যন্তরীণ শান্তি ছিল আমার চাওয়া। তাই আমি ইসলাম সম্বন্ধে বই-পত্ৰ চাইলাম। যত বেশী পড়তে লাগলাম, ততই জানার ইচ্ছে বাড়তে লাগলো। ইসলাম মানে আল্লাহর ইচ্ছার কাছে আত্মসমর্পণ করা’ বা ‘অভ্যন্তরীণ শান্তি'। আমি বুঝতাম আল্লাহ নিজে আমাকে পথ প্রদর্শন করছেন।