hadith book logo

অন্য-পথের-কন্যারা

লেখকঃ Mrs. Carol. L. Anway M.S. Ed. • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ২০

কোরআনের কর্তৃত্ব অনুভব করে।

মেয়েদের অনেকেই কোরআনের প্রতি তাদের ক্রমবর্ধমান শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার কথা প্রকাশ করেছে, যাকে ঈশ্বরের শেষ এবং আক্ষরিক বাণী মনে করা হয়। কিছু মেয়েদের জন্য, কোরআন ছিল তাদের ধর্মান্তরিত হবার অভিজ্ঞতার এক উল্লেখযোগ্য অংশ।

ইসলামে মেয়েদের স্থান নিয়ে এক বিতর্ক অনুষ্ঠানের আগে, একজন মুসলিমের তরফ থেকে কোরআন পড়ার চ্যালেঞ্জ ছিল আমার ধর্ম পরিবর্তনের প্রক্রিয়ার শুরু। খৃস্টানদের তুলনায় মুসলিম মেয়েরা নিপীড়িত ও অপেক্ষাকৃত খারাপ একটা অবস্থানে থাকে। আমার মনেও, গতানুগতিক এই ধারণা ছিল। আমি CATHOLIC পরিবেশে বড় হওয়া নামমাত্র এক খৃস্টান ছিলাম, কিন্তু ধর্মের অনুশীলন ছিল না, কেবল নিজেকে খৃস্টান হিসেবে চিহ্নিত করার প্রয়োজন ছিলযাতে আমার বৃহত্তর পরিবারের সামনে আমাকে খুব বিদ্রোহী না দেখায় (আমার পরিবারও আসলে নামমাত্রই খৃস্টান ছিল)।

কোরআন এবং নবীর হাদীস পড়াই আমাকে হার মানায়। আমার এক বিশ্রী অভিজ্ঞতা হয়- যখন, যে পুরো সপ্তাহ ধরে আমি কোরআন পড়ি, সে সপ্তাহে আমি ঘুমাতে পারিনি- কেবল এপাশ ওপাশ করেছি এবং জ্বরগ্রস্তের মতো ঘেমেছি। আমি ধর্মীয় ব্যাপারে অদ্ভুত ও বিস্তারিত সব স্বপ্ন দেখি, আর যখন আমি বিছানা ছেড়ে উঠতাম, তখন আমার একমাত্র চাওয়া থাকতো কোরআন পড়া চালিয়ে যাওয়া। এমনকি আমি আমার ফাইনাল পরীক্ষার জন্য কোন পড়াশোনা করিনি, যা একই সময়ে চলছিল।

আমি মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাসের একটা কোর্স শুরু করি, যা আমাকে পরবর্তীতে ইসলাম সম্বন্ধীয় পড়াশোনার মাঝে নিয়ে যায়। বিশ্বব্যাপী ইসলামের প্রচারে, কোরআন কত শক্তিশালী এক হাতিয়ার ছিল তা বোঝাতে আমাদের অধ্যাপক যখন কোরআনের একটা অংশ পড়ে শোনাচ্ছিলেন- আমার হৃদয় তখন অভিভূত হয়ে যায় । আমি জানলাম, আমি সত্যের সন্ধান পেয়েছি। ৮০'র দশকের গোড়া থেকে আমি ঈশ্বরের খোঁজে ছিলাম। ঐ মুহূর্তে আমি বুঝলাম যে,আমি কোন এক দিন মুসলিম হবো। ঐ ক্লাস শেষ হবার পর আমি ইসলাম সম্পর্কে আমার তদন্ত চালিয়ে যেতে থাকলাম। আমি কোরআনের একখানা ইংরেজী অনুবাদ কিনে আনি এবং প্রতিদিন তা পড়তে থাকি। ঐ সময়ে আমি যেহেতু বাড়ীতে থাকতাম, সেহেতু আমার পরিবারের কাছ থেকে এসবের বেশীর ভাগই লুকিয়ে চলতাম। আমি আমার নতুন বন্ধুদের সাথে প্রায়ই মিলিত হতাম আর আমার জীবনধারাও বদলে যেতে শুরু করলো।

আমার ধর্মান্তরিত হওয়া ছিল একটা লম্বা উপাখ্যান। জুনিয়র হাই স্কুলে থাকা অবস্থায় আমি খৃস্টধর্ম ত্যাগ করি। আমি বড় হয়েছি METHODIST হিসেবে। আমার বাবা এক সময় ধর্ম যাজক ছিলেন এবং তাই বেশ কড়া ছিলেন। আমার বাবা-মা উভয়ে চার্চ ত্যাগ করেন। তারপর মা রেড ইন্ডিয়ান LAKOTA পন্থী হয়ে যান। আমি অন্যান্য সভ্যতাকে বোঝার একটা দৃষ্টিভঙ্গী নিয়ে বড় হইযাতে আমি আমার সভ্যতা থেকে বাইরে গিয়ে অন্যদের দেখার চেষ্টা করতে পারি। ইরানী বিপ্লব, আমার মাঝে অনেক প্রশ্নের জন্ম দেয়। ওদের মানুষ ও সভ্যতা সম্বন্ধে জানার সিদ্ধান্ত নিয়ে, আমি ইরানের ইতিহাস পড়তে শুরু করি, যা আমাকে নিয়ে যায় ইসলামের ইতিহাসে একটা অধ্যায় যা এমনকি স্কুলেও ছুঁয়ে দেখা হয়। এভাবে আমি কোরআন পড়ার পর্যায়ে পৌছি। একজন আরবের সঙ্গে আমার সম্পর্ক যখন ভেঙ্গে পড়ে, তখন আমি এক ধরনের মানসিক ধ্বসের সম্মুখীন হই এবং কোরআনের দিকে ফিরে তাকাই। মানুষ ছাড়াও অন্য কিছুর উপর নির্ভর করার একটা প্রয়োজন আমি বোধ করি। আমার মা তখন মৃত, আমার পরিবারও তখন অনেক দূরে। আমি বিশ্বাসভরে কার দিকে তাকাতে পারি, আমার জানা ছিল। পবিত্র কোরআন আমার হৃদয় ছুঁয়ে যায়। মুসলিম মেয়েদের একটা শিক্ষা গ্রুপের সঙ্গে আমি যোগাযোগ স্থাপন করি যারা আমাকে অনেক সমর্থন ও তথ্য প্রদান করে। আমি ইসলামের যুক্তির ভিত্তিকে বিশেষভাবে পছন্দ করলাম। শেষ পর্যন্ত শাহাদা গ্রহণ করতে আমার এক-দেড় বছর লেগেছিল।এই পবিত্র গ্রন্থ, আল-কোরআন, যাকে মুসলিমরা ঈশ্বরের শেষ বাণী ও মানবকুলের দিক-নির্দেশক বলে শ্রদ্ধা করে থাকে। এই মেয়েদের হৃদয়কে এমনভাবে ছুঁয়ে গেছে, যেন এটা বিশ্বাসীদের প্রতি ছুটে আসার ও নিজেদের যা পবিত্র ও ঐশী তার কাছে সমর্পণ করার একটা আহবান ছিল। তারা অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে এবং আবেগের সাথে ইসলামিক ধর্মগ্রন্থের প্রতি সাড়া দেয়।