hadith book logo

অন্য-পথের-কন্যারা

লেখকঃ Mrs. Carol. L. Anway M.S. Ed. • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৪৯

ভিন্ন পথকে শ্রদ্ধা করা সম্পর্ক গড়ে তোলা ও বজায় রাখার জন্য একত্রে কাজ করা

শুরুতে JODI’র ভিন্ন জীবনযাত্রা এবং পোশাক-আশাক, আমাদের গোটা পরিবারের জন্যই কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছিলো। JODI'র মামা যে JODI'র চেয়ে খুব একটা বড় নয় বয়সে, ঠাট্টাচ্ছলে একজন বহিরাগতের সামনে JODI’র স্কার্ফ সম্বন্ধে একটা মন্তব্য করে বসলে JODI সাংঘাতিকভাবে আহত বোধ করে। অথচ এই মামাই স্বপ্নে দেখেছিল যে, JODI বিপদে রয়েছে এবং সেই তাকে বিপদ থেকে উদ্ধার করছে। সবচেয়ে ভালো বন্ধু হিসেবে এক সাথে বড় হওয়া চাচাতো বোন, নতুন জীবন ধারায় JODI'র সাথে কিভাবে ভাবের আদান-প্রদান করবে তাই ভেবে পাচ্ছিল না। তার দাদী মানতে পারছিলেন না এমন সব পরিবর্তন আনা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার ব্যাপারটা কিন্তু, তিনি যেহেতু মূলতঃ স্নেহপরায়ণ এবং মুক্ত মনের, তিনি অবস্থাটাকে একটা স্নেহশীল উপায়ে সামলে দেন। পরিবারের অন্য সদস্যদের সাথে অস্বস্তিকর অবস্থা ছিল, যা সময়ের সাথে সহজ হয়ে গিয়েছে। সময় এবং কাছাকাছি থাকার যে সুযোগ আমরা পেয়েছিযার ফলে আমাদের মাঝে সম্পর্কের বিভিন্ন পরিবর্তনকে আমরা সঠিকভাবে সামলে উঠতে পেরেছি- তার জন্য আমরা কৃতজ্ঞ। JODI ও REZA-ও অবশ্য তাদের করণীয়টুকু নিশ্চিতভাবে পালন করেছে। তাদের এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল যে, তারা কোথায় ছাড় দিতে পারবে, তাদের কাছে কি গুরুত্বপূর্ণ আর কিভাবে তারা তাদের ধর্মীয় দায়বদ্ধতা বজায় রেখেও পরিবারের সাথে সম্পর্ক রেখে চলবে।

প্রতিটি ব্যক্তির (এবং প্রতিটি পরিবারের) এ ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন যে, সে কে, সে/ তারা কি বিশ্বাস করে এবং কোন মূল্যবোধগুলো তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। সংস্কৃতি নির্বিশেষে সব মানুষের বেড়ে ওঠার প্রক্রিয়ার এটা একটা স্বাভাবিক এবং জরুরী অংশবিশেষ। সুতরাং একটা পরিবার, জাতি অথবা একটা ধর্মীয় ব্যবস্থার ভিতরে বিভিন্ন ধরণের বিশ্বাস ও আচার-আচরণ বর্তমান থাকতে পারে।

ইসলামী বিশ্বের মাঝে রয়েছে বিভিন্ন দেশ, সংস্কৃতি এবং জাতিসত্তার মানুষ। এক অংশের সংস্কৃতিতে যা অতি স্বাভাবিক তা হয়তো অপর একটি ইসলামিক এলাকায় একেবারেই অজানা। ইসলামিক মতে কর্মকান্ডকে পাঁচভাগে ভাগ করা যায় ? (১) অবশ্যকরণীয় (২) যা করতে উৎসাহ দেয়া হয় (৩) বৈধ বা হালাল (৪) যা করতে নিরুৎসাহিত করা হয় (৫) হারাম বা নিষিদ্ধ। অবশ্যকরণীয় এবং নিষিদ্ধ ব্যাপারগুলো বিশ্বজনীন এবং সব ইসলামিক ভূমিতেই মেনে চলা বাঞ্ছনীয়। অবশ্যকরণীয়ের উদাহরণ স্বরূপ দৈনিক নামাজ ও রমজানের রোজার কথা বলা যায়। নিষিদ্ধ বা হারাম কাজের ভিতর মদ্যপান, প্রতারণা, মিথ্যাচার এবং শূকরের মাংস খাওয়া এসব পড়বে। অন্য তিনটা ব্যাপার ঃ উৎসাহিত (অথবা যা করাটা খুব ভালো), বৈধ বা হালাল (এখানে লেখিকা সম্ভবতঃ বোঝাতে চাচ্ছেন, বৈধ জিনিস থেকে নিজ পছন্দে বেছে নেয়া যায়। উদাহরণ স্বরূপ গরুর মাংস হালাল, তাই ইচ্ছা করলে খাওয়া যায়, কিন্তু খেতে হবেই এমন কোন কথা নেই) অথবা সাবধানতামূলক ব্যক্তিগত পছন্দের পর্যায়ে পড়ে। নফল নামাজ, বিয়ে ও সংসার করা, সৎ কাজ করা অথবা গল্প করার মতো আচরণ সম্বন্ধে সাবধানতা অবলম্বন করা- এ সবই এই শেষোক্ত শ্রেণীভুক্ত। জীবন ধারণের অনেক দিকনির্দেশিকা রয়েছে, যা অনেকাংশে নির্ভর করে একটি নির্দিষ্ট মুসলিম সমষ্টির উপর, কেউ কোন্ চিন্তাধারার বা মাজহাবের অনুসারী তার উপর অথবা মেয়ের স্বামী যে দেশ থেকে আগত সে দেশের আচার-আচরণের উপর।

আমেরিকান ধর্মান্তরিত মেয়েরা তাদের অতীত এবং তাদের অভ্যাস ইত্যাদির সাথে ইসলামিক আচার-আচরণ সংযুক্ত করতে চেষ্টা করছে। এই সব কন্যারা যে ভিন্ন পথ বেছে নিয়েছে, তার ফলশ্রুতিতে তাদের আত্মীয়তার সম্পর্কে অনেক পরিবর্তন ঘটেছে। মুসলিম এবং অমুসলিমদের সামাজিক অভ্যাস ভিন্নতর, বিশ্বাসসমূহ একে অপরের পরিপন্থী হতে পারে। আর আদি পরিবার ও কন্যারা, উভয় পক্ষকেই নিজেদের মাঝে সম্পর্ক স্থাপন ও বজায় রাখার নতুন উপায় খুঁজে বের করতে হবে। এমন কিছু দিক-নির্দেশনা আছে, যা আমরা যখন আমাদের কর্মস্থলে, পরিবারে, জনসমক্ষে কোন মুসলিমের সঙ্গে চলাফেরা করি, তখন মনে রাখতে পারি (যা বন্ধু-বান্ধব ও পরিচিত মুসলিমদের বেলায়ও প্রযোজ্য)।