১
অন্য-পথের-কন্যারা
লেখকঃ Mrs. Carol. L. Anway M.S. Ed. • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৩৮
২নং গল্প ঃ বহুমুখীতা ও পরিবর্তনের প্রতি ভোলা মন
পরবর্তী পরিবারটির বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পটভূমির বিষয়াদিকে অপেক্ষাকৃত খোলা মনে গ্রহণ করার ইতিহাস রয়েছে এবং তাতে পরিবারের সদস্যদের মাঝে দেয়া নেয়ার ব্যাপারটাও অধিকতর। তাদের কন্যা ৭ বছর যাবত মুসলিম। বাবার ছাত্র পরামর্শের বিষয়ে Ph.D রয়েছে এবং তিনি এক কলেজে চাকরি করেন। মেয়ের মা মারা গিয়েছেন এবং এখন সংসারে সৎ মা রয়েছেন। বাবার তরফ থেকে চারজন প্রাপ্ত বয়স্ক ছেলে-মেয়ে রয়েছে আর মায়ের তরফ থেকেও রয়েছে চারজন প্রাপ্ত বয়স্ক ছেলে-মেয়ে। গল্পের বর্ণকারী হচ্ছেন কন্যার বাবা, যার প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া ছিল ৬ আর এখন তা এসে দাঁড়িয়েছে ৯-এ।
আমার মেয়ের কলেজের মুখ্য (MAJOR) বিষয় তাকে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের সংস্পর্শে নিয়ে আসে। তার পরিবারের পরিবেশ থেকেই অন্য সভ্যতা বা বিশ্বাস থেকে আসা মানুষের প্রতি তার উঁচু মাত্রার সহনশীলতা ছিল। আমি বিপত্নীক হবার পর একজন ইহুদী মহিলাকে বিয়ে করি।
যখন আমাদের মেয়ে SAUDI ARABIAN EDUCATION MISSION-এর জন্য কাজ করতে যায় তখন মসজিদের নেতৃস্থানীয়দের সাথে তার আলাপের সুযোগ হয়। সে তার ধর্মান্তর সম্বন্ধে জানাতে আমাকে ফোন করে। আমার প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া অবাক হবার ছিল না, বরং সে কিভাবে তার প্রতি যে বৈষম্যমূলক আচরণ করা হবে (সমাজের তরফ থেকে) তা সামলাবে, সে ব্যাপারে উদ্বেগের ছিল। সে হিজাবসহ ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরতে শুরু করে। কিন্তু মনে হয় আজ পর্যন্ত সে যে মাত্রার পক্ষপাতিত্বের সম্মুখীন হয়েছে, তা ভালোভাবেই সামলাতে পেরেছে। আমার মেয়ে যেভাবে নিজেকে মানিয়ে নিয়েছে, তা তাকে নিয়ে নিশ্চিন্ত বোধ করতে সাহায্য করে।
আমাদের মেয়ে প্রথমে মুসলিম হলো, তারপরে পরবর্তীতে বিয়ে করলো। ছেলেটা যে তার চেয়ে ছোট ছিল, আর জীবনে প্রতিষ্ঠিত ছিল না, সেটাই বরং ধর্মীয় ব্যাপারের চেয়ে বেশী চিন্তার কারণ ছিল। মেয়ের জন্য এটা ছিল তার ৩য় বিয়ে। প্রথম বিয়ে বিচ্ছেদে শেষ হয়। দ্বিতীয় বিয়ে ছিল এক মিসরীয় মুসলমানের সাথে, যা মুসলিম নিয়মে সমাপ্ত (তালাক) হয়। এ বিয়েটা ছিল একটা অনাড়ম্বর বিয়ে এবং এটাও মুসলিম নিয়মে হয়।
প্রথমে পরিবারের সদস্যদের সাথে একটা দূরত্বের সৃষ্টি হয় এবং তার বিয়ে ও স্বামীকে মেনে নিতে কিছুটা সময় লাগে। কিন্তু এই বিষয়টা অন্য দিকে মেয়ের স্বামীর ব্যাপারেও প্রযোজ্য (অর্থাৎ স্বামীরও সহজ হতে সময় লাগে)। আজ সবাই খুব মন খোলা। বোনেরা বেশ অভাবনীয় রকম কাছাকাছি এসেছে একে অপরের, যদিও কখনো কখনো বোনের স্বামীকে নিয়ে অসন্তোষ দেখা দেয়।
মূল্যবোধ এবং বিশ্বাস খুব সামান্যই অসুবিধার কারণ হয়, তবে সব তরফেই সহিষ্ণুতা এবং মেনে নেয়ার মনোভাবের প্রয়োজন হয়। আমাদের মেয়ে তার মুসলিম বিশ্বাস নিয়ে অন্যকে বদলানোর চেষ্টা করে না- সে স্বীকৃতি চায়, ধর্মান্তর নয়। এটা সাহায্য করে (সম্পর্ককে সহজ করে)। আমাদের মাঝে ভালো যোগাযোগ রয়েছে। আমাদের সবার ভালো পড়াশোনা রয়েছে এবং আমরা জীবন, রাজনীতি এবং বিশ্বব্যাপী ঘটে চলা ঘটনাবলী নিয়ে মতবিনিময় করতে পছন্দ করি।
আমার ধর্মীয় জ্ঞান বা সংকল্পের উপর এই অভিজ্ঞতার সামান্যই প্রভাব পড়েছে। আমি ধর্ম তত্ত্ব এবং ধর্ম সম্বন্ধে ভালই জ্ঞান রাখি। আমি সব সময়ই সহিষ্ণুতার এবং সহমর্মিতার একটা জীবন যাপন করেছি। আমি অন্যদের বিশ্বাসের ব্যবস্থা সম্বন্ধে জানতে পছন্দ করি এবং সব সময়ই সক্রিয়ভাবে অবগত হতে চেয়েছি। আমার বর্তমান ধর্মীয় পরিচিতি হচ্ছে একজন একেশ্বরবাদী AGNOSTIC-471 ছুটির দিনসমূহে প্রত্যেকে প্রত্যেকের করণীয় করে। পারিবারিক সমাবেশ ধর্মকেন্দ্রিক হয় না। আমরা জীবন এবং বেঁচে থাকা উদযাপন করি। আমরা এক সাথে খাবার খাই। মুসলিম ও ইহুদীদের খাদ্যাভ্যাস বেশ সদৃশ। তাদের ছুটির দিনগুলোতে আমাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয় না, কিন্তু আমরা তাদের উৎসবকে স্বীকার করি এবং ঐতিহ্যকে সম্মান করি। আমরা এমন বাসায় থাকি, যেখানে জুতা খুলে ঘরে ঢোকা হয়, খাবার সাধারণত নিরামিষ- তবে কিছু মুরগী, মাছ ও ভেড়ার মাংসও থাকে। তাই এসব ব্যাপার স্বাভাবিক। ধর্মীয় বস্তু বা শিল্পকলা (মূর্তি ইত্যাদি) সংসারের সামগ্রীর অংশ নয় এবং এটা যে আমার মেয়ের পরিবার, আমাদের উপর চাপিয়ে দিয়েছে, তা নয়।
আমার দুটি নাতি-নাতনীই চমৎকার। আমরা তাদের সঙ্গ উপভোগ করি এবং তারা সত্যি আনন্দের উৎস।
আমার যে বিষয়টা নিয়ে সবচেয়ে চিন্তা হয়, তা হচ্ছে আমার মেয়ে এবং নাতি-নাতনীরা যে বৈষম্যের স্বীকার হবে, এই ব্যাপারটা। আমার স্ত্রী শৈশবে বৈষম্যের মাঝে জীবন ধারণ করেছে- অ-ইহুদী জগতে, ইহুদী হয়ে। এটা নিষ্ঠুর হতে পারে; অনেক তথাকথিত খৃষ্টান আছে যাদের মাঝে সঞ্চিত রয়েছে প্রচন্ড ঘৃণা এবং তা মানুষকে আহত করে। আমাদের জামাই PALESTINIAN এবং বাবামাসহ তার পরিবারের বেশীরভাগ সদস্যই এখন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করে। আমি সত্যি সত্যি এ ব্যাপারেও খুব চিন্তিত যে, ওদের পরিবার যদি কখনো মধ্যপ্রাচ্যে গিয়ে বসবাসের সিদ্ধান্ত নেয়, তবে আমার এই জেদী মেয়ে সেটা কিভাবে নেবে।
আমার মেয়ের সাথে আমার সম্পর্ক নিয়ে আমার আশা হচ্ছে, তা আজ যেমন আছে, সব সময় তেমনই থাকবে এবং আমাদের নাতি-নাতনীর সাথে একটা ইতিবাচক এবং গ্রহণীয় সম্পর্ক থাকবে। আমাদের ব্যাপারটা একটা ব্যতিক্রমমুসলিম, ইহুদী এবং একেশ্বরবাদী খৃস্টানের সংমিশ্রণ। আমরা অবশ্যই সহিষ্ণু।
এই গল্পের শক্তিশালী দিক হচ্ছে, পরিবারের বহুমুখীতার প্রতি এবং মেয়ে দ্বারা পরিবারে আমদানীকৃত বাড়তি মাত্রার প্রতি উন্মুক্ত দৃষ্টিভঙ্গী। এই পরিবার আগে থেকেই ধর্মীয় পার্থক্যকে মেনে নিয়েছিল এবং নিজের সীমানাকে আরো একটি জীবন ধারাকে গ্রহণ করার জন্য খুলে দিতে সক্ষম হয়েছিল। তা সত্ত্বেও মেয়েকে এবং মেয়ের পরিবারকে মেয়ের আদি পরিবারের সাথে খাপ খাওয়াতে পরিশ্রম করতে হয়।
আমার মেয়ের কলেজের মুখ্য (MAJOR) বিষয় তাকে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের সংস্পর্শে নিয়ে আসে। তার পরিবারের পরিবেশ থেকেই অন্য সভ্যতা বা বিশ্বাস থেকে আসা মানুষের প্রতি তার উঁচু মাত্রার সহনশীলতা ছিল। আমি বিপত্নীক হবার পর একজন ইহুদী মহিলাকে বিয়ে করি।
যখন আমাদের মেয়ে SAUDI ARABIAN EDUCATION MISSION-এর জন্য কাজ করতে যায় তখন মসজিদের নেতৃস্থানীয়দের সাথে তার আলাপের সুযোগ হয়। সে তার ধর্মান্তর সম্বন্ধে জানাতে আমাকে ফোন করে। আমার প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া অবাক হবার ছিল না, বরং সে কিভাবে তার প্রতি যে বৈষম্যমূলক আচরণ করা হবে (সমাজের তরফ থেকে) তা সামলাবে, সে ব্যাপারে উদ্বেগের ছিল। সে হিজাবসহ ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরতে শুরু করে। কিন্তু মনে হয় আজ পর্যন্ত সে যে মাত্রার পক্ষপাতিত্বের সম্মুখীন হয়েছে, তা ভালোভাবেই সামলাতে পেরেছে। আমার মেয়ে যেভাবে নিজেকে মানিয়ে নিয়েছে, তা তাকে নিয়ে নিশ্চিন্ত বোধ করতে সাহায্য করে।
আমাদের মেয়ে প্রথমে মুসলিম হলো, তারপরে পরবর্তীতে বিয়ে করলো। ছেলেটা যে তার চেয়ে ছোট ছিল, আর জীবনে প্রতিষ্ঠিত ছিল না, সেটাই বরং ধর্মীয় ব্যাপারের চেয়ে বেশী চিন্তার কারণ ছিল। মেয়ের জন্য এটা ছিল তার ৩য় বিয়ে। প্রথম বিয়ে বিচ্ছেদে শেষ হয়। দ্বিতীয় বিয়ে ছিল এক মিসরীয় মুসলমানের সাথে, যা মুসলিম নিয়মে সমাপ্ত (তালাক) হয়। এ বিয়েটা ছিল একটা অনাড়ম্বর বিয়ে এবং এটাও মুসলিম নিয়মে হয়।
প্রথমে পরিবারের সদস্যদের সাথে একটা দূরত্বের সৃষ্টি হয় এবং তার বিয়ে ও স্বামীকে মেনে নিতে কিছুটা সময় লাগে। কিন্তু এই বিষয়টা অন্য দিকে মেয়ের স্বামীর ব্যাপারেও প্রযোজ্য (অর্থাৎ স্বামীরও সহজ হতে সময় লাগে)। আজ সবাই খুব মন খোলা। বোনেরা বেশ অভাবনীয় রকম কাছাকাছি এসেছে একে অপরের, যদিও কখনো কখনো বোনের স্বামীকে নিয়ে অসন্তোষ দেখা দেয়।
মূল্যবোধ এবং বিশ্বাস খুব সামান্যই অসুবিধার কারণ হয়, তবে সব তরফেই সহিষ্ণুতা এবং মেনে নেয়ার মনোভাবের প্রয়োজন হয়। আমাদের মেয়ে তার মুসলিম বিশ্বাস নিয়ে অন্যকে বদলানোর চেষ্টা করে না- সে স্বীকৃতি চায়, ধর্মান্তর নয়। এটা সাহায্য করে (সম্পর্ককে সহজ করে)। আমাদের মাঝে ভালো যোগাযোগ রয়েছে। আমাদের সবার ভালো পড়াশোনা রয়েছে এবং আমরা জীবন, রাজনীতি এবং বিশ্বব্যাপী ঘটে চলা ঘটনাবলী নিয়ে মতবিনিময় করতে পছন্দ করি।
আমার ধর্মীয় জ্ঞান বা সংকল্পের উপর এই অভিজ্ঞতার সামান্যই প্রভাব পড়েছে। আমি ধর্ম তত্ত্ব এবং ধর্ম সম্বন্ধে ভালই জ্ঞান রাখি। আমি সব সময়ই সহিষ্ণুতার এবং সহমর্মিতার একটা জীবন যাপন করেছি। আমি অন্যদের বিশ্বাসের ব্যবস্থা সম্বন্ধে জানতে পছন্দ করি এবং সব সময়ই সক্রিয়ভাবে অবগত হতে চেয়েছি। আমার বর্তমান ধর্মীয় পরিচিতি হচ্ছে একজন একেশ্বরবাদী AGNOSTIC-471 ছুটির দিনসমূহে প্রত্যেকে প্রত্যেকের করণীয় করে। পারিবারিক সমাবেশ ধর্মকেন্দ্রিক হয় না। আমরা জীবন এবং বেঁচে থাকা উদযাপন করি। আমরা এক সাথে খাবার খাই। মুসলিম ও ইহুদীদের খাদ্যাভ্যাস বেশ সদৃশ। তাদের ছুটির দিনগুলোতে আমাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয় না, কিন্তু আমরা তাদের উৎসবকে স্বীকার করি এবং ঐতিহ্যকে সম্মান করি। আমরা এমন বাসায় থাকি, যেখানে জুতা খুলে ঘরে ঢোকা হয়, খাবার সাধারণত নিরামিষ- তবে কিছু মুরগী, মাছ ও ভেড়ার মাংসও থাকে। তাই এসব ব্যাপার স্বাভাবিক। ধর্মীয় বস্তু বা শিল্পকলা (মূর্তি ইত্যাদি) সংসারের সামগ্রীর অংশ নয় এবং এটা যে আমার মেয়ের পরিবার, আমাদের উপর চাপিয়ে দিয়েছে, তা নয়।
আমার দুটি নাতি-নাতনীই চমৎকার। আমরা তাদের সঙ্গ উপভোগ করি এবং তারা সত্যি আনন্দের উৎস।
আমার যে বিষয়টা নিয়ে সবচেয়ে চিন্তা হয়, তা হচ্ছে আমার মেয়ে এবং নাতি-নাতনীরা যে বৈষম্যের স্বীকার হবে, এই ব্যাপারটা। আমার স্ত্রী শৈশবে বৈষম্যের মাঝে জীবন ধারণ করেছে- অ-ইহুদী জগতে, ইহুদী হয়ে। এটা নিষ্ঠুর হতে পারে; অনেক তথাকথিত খৃষ্টান আছে যাদের মাঝে সঞ্চিত রয়েছে প্রচন্ড ঘৃণা এবং তা মানুষকে আহত করে। আমাদের জামাই PALESTINIAN এবং বাবামাসহ তার পরিবারের বেশীরভাগ সদস্যই এখন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করে। আমি সত্যি সত্যি এ ব্যাপারেও খুব চিন্তিত যে, ওদের পরিবার যদি কখনো মধ্যপ্রাচ্যে গিয়ে বসবাসের সিদ্ধান্ত নেয়, তবে আমার এই জেদী মেয়ে সেটা কিভাবে নেবে।
আমার মেয়ের সাথে আমার সম্পর্ক নিয়ে আমার আশা হচ্ছে, তা আজ যেমন আছে, সব সময় তেমনই থাকবে এবং আমাদের নাতি-নাতনীর সাথে একটা ইতিবাচক এবং গ্রহণীয় সম্পর্ক থাকবে। আমাদের ব্যাপারটা একটা ব্যতিক্রমমুসলিম, ইহুদী এবং একেশ্বরবাদী খৃস্টানের সংমিশ্রণ। আমরা অবশ্যই সহিষ্ণু।
এই গল্পের শক্তিশালী দিক হচ্ছে, পরিবারের বহুমুখীতার প্রতি এবং মেয়ে দ্বারা পরিবারে আমদানীকৃত বাড়তি মাত্রার প্রতি উন্মুক্ত দৃষ্টিভঙ্গী। এই পরিবার আগে থেকেই ধর্মীয় পার্থক্যকে মেনে নিয়েছিল এবং নিজের সীমানাকে আরো একটি জীবন ধারাকে গ্রহণ করার জন্য খুলে দিতে সক্ষম হয়েছিল। তা সত্ত্বেও মেয়েকে এবং মেয়ের পরিবারকে মেয়ের আদি পরিবারের সাথে খাপ খাওয়াতে পরিশ্রম করতে হয়।